২৫ অক্টোবর রাজপথ দখলে রাখবে ছাত্রদল…

প্রকাশ:| রবিবার, ১৩ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ১১:৫১ অপরাহ্ণ

ছাত্রদলমহাজোট সরকারের আমলে বিএনপির চলমান আন্দোলনে রাজপথে তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। উল্টো নিজেরাই মারামারি করে হারিয়েছে ঐক্য এবং শক্তি। যে কারণে এ পর্যন্ত জমে ওঠেনি বিএনপির অন্দোলন। তবে চুপসানো ছাত্রদল এবার বড় ধরণের কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছে। ২৫ অক্টোবর সমানে রেখে আন্দোলন কর্মসূচির পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে ছাত্রদল। ছাত্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এমনটাই জানা গেছে।

আন্দোলনের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশসহ অবস্থানের পরিকল্পানা রয়েছে। কারণ তারা চূড়ান্ত আন্দোলন ঢাবি ক্যাম্পাস থেকেই শুরু করতে চায়। এছাড়া সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলনে ছাত্রসমাজের রয়েছে রক্তস্নাত অবদান। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, সর্বশেষ ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের বিপ্লব দেখেছে সারা বিশ্ব। প্রতিটি আন্দোলন সফল করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে ছাত্ররাই ছিল চালকের ভূমিকায়। যে কারণে দলের নীতিনির্ধারকরা আশা করছেন, বিএনপির চলমান আন্দোলনে ছাত্রদল সমানে থেকে নেতৃত্ব দেবে।

এ ধারাবাহিকতায় আন্দোলনকে আরও গতিশীল করতে গত বছর সেপ্টেম্বরে আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলকে ছাত্রদলের সভাপতি ও হাবিবুর রশিদ হাবিবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০১ সদস্যের এই নতুন কমিটি গঠন করা হয়। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এ কমিটির অনুমোদন দেন। এর পর দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও রাজপথ আন্দোলনে জ্বলে উঠতে পারেনি ছাত্রদল। এমনকি আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশও করতে পারেনি। এ নিয়ে ছাত্রদলের সাবেক ছাত্রনেতারা ও বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ আছে। ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির নেতৃত্ব নিয়েও সমালোচনা কম হয়নি।

জানা যায়, সমালোচনার জবাব দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের পরিকল্পনা করেছে ছাত্রদল। কিন্তু দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিষয়টিতে অনুমতি দেননি। সংগঠিতে হয়ে তারপর ঢাবিতে অবস্থান নেয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ১৮ দলের বিভাগীয় জনসভাগুলোতে কাজ করার নির্দেশ দেন খালেদা জিয়া। এরইমধ্যে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট জনসভা শেষ হয়েছে বরিশালের জনসভা স্থগিত করা হয়েছে। ঢাকায় ২৫ অক্টোবর সমাবেশের মাধ্যমে সরকার পতনে হার্ডলাইনে যাচ্ছে বিএনপি। এ সমাবেশে বাধা দিলে লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়ায় পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে দলটি।

বিএনপির কর্মসূচি সফল করতে ছাত্রদল এবার তাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে মাঠে থাকবে। সেভাবেই প্রস্ততি নেয়া হচ্ছে বলে জানান ছাত্রদলের এক কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি জানান, পুলিশের হয়রানি, গুলি টিয়ার শেল, আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলায় পিছু হটবে না ছাত্রদল।

এছাড়া রাজপথ দখলে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে যা যা করার প্রয়োজন, তাই করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত ছাত্রদলেল বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। নয়াপল্টনে হোটেল ভিক্টরিতে ছাত্রদলের এ সাধারণ সভা হয়েছে। এর আগে প্রত্যেকটি ইউনিটের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা। আন্দোলন সফল করতে কয়েকটি কমিটিও করা হয়েছে।

জানা যায়, ২৫ অক্টোবর সারা দেশের মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আন্দোলনের পরিকল্পনা করেছে ছাত্রদল। বিএনপির আন্দোলনে মূল ভূমিকায় তারা থাকতে চায়। মূলত রাজপথ দখলে নিয়ে মাঠে থাকতে চাইছেন তারা। সভায় ছাত্রনেতাদের সেভাবেই গাইডলাইন দেয়া হয়েছে। রণকৌশলও সাজানো হয়েছে পরিকল্পনা অনুযায়ী।

এ ব্যাপারে ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভূইয়া জুয়েল বলেন, ‘আগামী দিনে ঐক্যবন্ধ থেকে ছাত্রদল বিএনপির চলমান আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকায় থাকবে। সারা দেশে একযোগে কর্মসূচি পালন করা হবে।’

বর্তমান সরকার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে ছাত্রদলের ওপর কোনো আঘাত এলে সেই আঘাত প্রতিহত করে পাল্টা আঘাত করা হবে।’

জুয়েল বলেন, ‘২৫ অক্টোবরের মধ্যে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় না হলে রাজপথেই এর সমাধান হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনেই হতে হবে। আর এ দাবি আদায়ে যা করা লাগে তাই করা হবে।’

আন্দোলন প্রসঙ্গে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাবীবুর রশিদ হাবীব বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক কর্মসূচি দেব। আর আমাদের এ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বাধা দিলে তা প্রতিহত করা হবে।’

সারা দেশে একযোগে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। এর জবাব দেয়া হবে।’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই কি আন্দোলন শুরু হবে’ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা ক্যাম্পাসে ঢুকবই।’

‘২৫ অক্টোবরের মধ্যে কি না’- এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আসলে স্পেসিফিক (নির্দিষ্ট) কোনো ডেট (তারিখ) দিয়ে নয়।’

এদিকে বিএনপি সূত্রে জানা যায়, ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে দেশব্যাপী গণসংযোগ করছেন দলের নেতারা। দুর্গাপূজা ও ঈদে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরইমধ্যে প্রায় সব নেতা মুসলমান ও হিন্দুদের পৃথক দুটি উৎসবকে সামনে রেখে নির্বাচনী এলাকায় গেছেন। এছাড়া ২৫ অক্টোবর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর বিএনপির সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিএনপি সভা-সমাবেশ, হরতাল, অবরোধ, মানবপ্রাচীর, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। দাবি আদায়ে লাগতার কর্মসূচির দিকে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ২০১১ সালে সংবিধান পরিবর্তন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে।