২৫ অক্টোবর ১৮ দলের মহাসমাবেশ বানচাল করতে দলীয় কার্যালয় ঘেরাও করে রেখেছে

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৭:১১ অপরাহ্ণ

বাধা আসলেই দুর্বার প্রতিরোধরুহুল কবির রিজভীবিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, সরকার ২৫ অক্টোবর ১৮ দলের মহাসমাবেশ বানচাল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে দলীয় কার্যালয় ও আশপাশের এলাকা ঘেরাও করে রেখেছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবীর রিজভী বলেন, সরকার ২৫ অক্টোবর ১৮ দলের মহাসমাবেশ বানচাল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে দলীয় কার্যালয় ও আশপাশের এলাকা ঘেরাও করে রেখেছে। এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষের মৌলিক অধিকার হরণের শামিল। সরকার যতই ষড়যন্ত্র করুক, ২৫ অক্টোবর দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জনসমাবেশ রুখতে পারবে না।

তিনি বলেন, সরকারের শেষ সময়ে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন দেয়ার কথা, তা না করে তারা ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই এ দেশের মানুষ সফল হতে দেবে না। তিনি সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানান।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটি সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইফুর রহমান রানা, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, হাসিবুর রহমান হাসিবসহ দলীয় নেতারা।

bnp-flag বিএনপি
সরকার পরিকল্পিতভাবে পাল্টা সমাবেশ ডেকেছে যাতে সংঘাত বাধিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পারে। ২৫ অক্টোবরের সমাবেশে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা কোনো অস্ত্র নিয়ে আসবে না জানালেও বাধা আসলে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে জানান তারা। বৃহস্পতিবার একটি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপি নেতারা এসব কথা জানান।

দেশের রাজনীতিতে এখন প্রধান আলোচনার বিষয় ২৫ তারিখ বিরোধীদল ও সরকারি দলের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ। কর্মসূচি ঘিরে দুই দলের নেতারাই স্ব স্ব অবস্থানে অনড়।

এ নিয়ে বিরোধীদলের নেতারা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা দেয়া হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। এমনকি সমাবেশে কোনো ধরনের হামলা হলে তা ঠেকাতে নেতাকর্মীদের ‘দা-কুড়াল’ নিয়ে আসারও আহ্বান জানান তারা।

অন্যদিকে, সরকার দলীয় নেতারা বলেছেন, সমাবেশকে ঘিরে কোনো ধরনের নাশকতা হলে শক্ত হাতে তা দমন করা হবে।

তাই ২৫ অক্টোবরের সমাবেশের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবেই ২৫ তারিখে সমাবেশ ডেকেছে, যা দূরভীসন্ধিমূলক।

তিনি আরো বলেন, সরকার কৌশল হিসেবে একটা পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে। সরকারের যদি প্রয়োজন হতো বা আওয়ামী লীগের যদি কোনো জনসমাবেশের প্রয়োজন হতো তাহলে এটা ২৪ অথবা ২৬ আগস্ট করতে পারতো। ২৫ তারিখে করতেই হবে এমন কোনো তো কথা নেই।

খন্দকার মোশাররফ আরো বলেন, এটা আমরা অনেক আগেই ঘোষণা করেছি এবং আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে এ সমাবেশ করার জন্য অনুমতি চেয়েছি। সেখানে হঠাৎ করে আওয়ামী লীগের এ ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা এবং তাদের অনেক নেতা বলেছেন আমাদের সমাবেশ করতে দেবে না। দেবে না কথাটা কেনো বললো। আমাদের তো এ ধরনের সমাবেশ বিভাগীয় হেড কোয়ার্টারে তো করেছি। সরকারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এবং সরকারে যথাযথ কর্তৃপক্ষ আমাদের সহযোগিতা করেছে। তো ঢাকায় এটা করেতে দেয়া হবে না কেনো?

এ বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেছেন, কেবল নাশকতা সৃষ্টির জন্যই সরকারের এ পাল্টা সমাবেশ।

এদিকে, ওই দিনের সমাবেশে ১৮ দলের ঢাকা মহানগর ও আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরা অংশ নেবে বলে জানান বিএনপি নেতারা। ২৫ অক্টোবরের সমাবেশে নেতাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে নয়, নিরস্ত্র হয়েই সমাবেশে আসবে। কেবল বাধা দেয়া হলে কিংবা হামলা করা হলে আত্মরক্ষার্থে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তারা।