২৪ ডিসেম্বর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম

প্রকাশ:| রবিবার, ২৪ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:৩০ অপরাহ্ণ

২৪ ডিসেম্বর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।

রোববার সন্ধ্যায় হেফাজতের আমীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।হেফাজত hafajot

ঢাকার শাপলা চত্ত্বরে ২৪ ডিসেম্বর আবারো মহাসমাবেশ করার ঘোষনা দিয়েছে হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ। রবিবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল মাদ্রাসায় নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী এ ঘোষনা দেন। তাছাড়া সাংবাদিক সম্মেলনে ২৯ নভেম্বর দেশের সকল উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল। ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের পূর্বে ২৪ নভেম্বর চাঁদপুর জেলা,৩০ নভেম্বর টাঙ্গাইল,৯ ডিসেম্বর দিনাজপুর,১২ ও ১৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে,২০ ডিসেম্বর ফেনীসহ নোয়াখালী,কুমিল্লা,গাজীপুর,মুন্সীগঞ্জ,মানিকগঞ্জ,ময়মনসিংহ,হবিগঞ্জ,বগুড়া,সিলেট,খুলনা,রাজশাহী প্রভৃতি জেলা ও বিভাগীয় শহরে শানে রেসালত মহাসমাবেশ এবং সোমবার (২৫ নভেম্বর) বেলা তিনটায় হাটহাজার তে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেফাজতের যুগ্ন মহাসচিব মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহি।
লিখিত বক্তব্যে আবারো পরিষ্কারভাবে বলা হয় হেফাজতে ইসলাম কাউকে ক্ষমতা থেকে সরানো এবং ক্ষমতায় বসানোর জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করছে না। ইসলাম,ঈমান ও আক্বিদা রক্ষার জন্য নবী প্রেমিকদের নিয়ে তারা আন্দোলন সংগ্রাম করছে। এরপরও সরকার প্রধানসহ ক্ষমতাসীন জোটের মন্ত্রী এমপিরা ঢালাওভাবে তিরষ্কার ও তির্যক ভাষায় হেফাজতে ইসলাম,নবী ও রাসূলের বিরুদ্ধে আক্রমন করে যাচ্ছে। হেফাজতে ইসলামকে বিএনপির জামায়েতের তকমা লাগিয়ে একটি চক্র দেশকে বিষ্ফোরনমুখ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চাই। অন্যদিকে আবারো কতিপয় নাস্তিক মুরতাদ নতুনভাবে ব্লগে মহান আল্লাহ,বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.) সর্ম্পকে জঘন্য ভাষায় লেখালেখি শুরু করেছে। সরকার তথ্যপ্রযুক্তি আইন করে এক চেটিয়া ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রয়োগ করে চলছে। অথচ নাস্তিক মুরতাদরা অহরহ সেই আইন লঙ্ঘন করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা সরকার নিচ্ছে না। দেশের সংখ্যাঘরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান ধর্মপ্রান এবঙ শান্তিপ্রিয়। হাতেগোনা জনবিচ্ছিন্ন কতিপয় বুদ্ধিজীবি সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বামপন্থী রাজনৈতিকদের মনোরঞ্জনের জন্য সরকার সংখ্যাঘরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। হেফাজতের রাজনৈতিক কোন অভিলাষ নেই। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর এর বিরুদ্ধে অব্যাহত কুৎসা রটনা,কুরুচিপূর্ন মন্তব্য অপপ্রচারে ব্যর্থ হয়ে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৮ দলের নেত্রীর ছবির সাথে তার ছবি জুড়ে দিয়ে ব্যঙ্গচিত্র তৈরী করে পোষ্টারিং করা হচ্ছে। যা আমির সহ পুরো আলেম সমাজের সাথে বেয়াদবির সামিল। হেফাজতে ইসলাম ও নবী প্রেমিক জনতার প্রানের দাবি ১৩ দফা সর্ম্পকে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি প্রতিনিয়ত নানাভাবে মিথ্যা ভিত্তিহীন কথাবার্তা বলে সরকার তৌহিদী জনতাকে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য করছে। যা কোন অবস্থাই কাম্য নয় বলে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে এতে যদি শুভ বুদ্ধির উদয় না হয় তাহলে তারা হঠকারিতার মাধ্যমে নিজেদের পতন ডেকে আনবে ।
আমিরের ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে যারা দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির ইন্ধন যোগাচ্ছে তাদেরকে চিন্হিত করে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা এবং নতুনভাবে গজিয়ে উঠা নাস্তিক ব্লগারদের অপতৎপরতা কঠোর হস্তে দমন করা,সংবিধানে মহান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন,মহানবীর শানে কটুক্তিকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইনপাস,প্রেপ্তারকৃত হেফাজতের নেতাকর্মীদের মুক্তি,দায়েরকরা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ,৫ ও ৬ মে শাপলা চত্ত্বরে শহীদ ও পঙ্গু হয়ে যাওয়া তৌহিদী জনতার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক ক্ষতিপূরন দেওয়া এবং ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপরোক্ত কর্মসূচী ঘোষনা করা হয়। এরপূর্বে হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২ নভেম্বর এক সমাবেশে ১৫ নভেম্বর শাপলা চত্ত্বরে সমাবেশের কর্মসূচী ঘোষনা করেছিল। কর্মসূচী ঘোষনা করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলেন সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যম সমাজের দর্পন। এতে মিথ্যা প্রচারনা কোন অবস্থায় কাম্য নয়। সাম্প্রতিক সময়ে দুই একটি প্রচার মাধ্যম তাকে আফগানিস্তানে তালেবানী প্রশিক্ষন নিয়ে দেশে এসে দেশকে তালেবান রাজ্যে পরিণত করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে যে কথা প্রচার করা হচ্ছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি জীবনে কোন সময় আফগানিস্তানে যাননি। তার পাসপোর্টে এটা প্রমান করে। তিনি সংবাদ মাধ্যমে সত্য প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান। তাছাড়া ঘোষিত কর্মসূচীকে সকল তৌহিদী জনতাকে ঈমান ও আক্বিদা রক্ষার আন্দোলনে শরিক হতে আহ্বান জানান।হেফাজত
সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ মাদ্রাসায় এসে আমিরের কাছ থেকে দোয়া নিয়ে বিদায় নেওয়ার পর মহাসচিব বাবুনগরী সাংবাদিকদের বিফ্রিংকালে বড় হুজুর তাকে (এরশাদ) প্রানভরে দোয়া করেছেন বলেছেন। কিন্তু গত ২৩ নভেম্বর তিনি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এরশাদকে দোয়া নয় বদদোয়া করেছেন বলে এক বিবৃতি প্রদান করেছেন। এ ব্যাপারে সাংবাদিকগন জানতে চাইলে তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন শেষ করে দেন বাবুনগরী।
সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা শামসুল আলম,হাফেজ তাজুল ইসলাম,আনাছ আল মাদানী,আশরাফ আলী নিজামপুরী,আজিজুল হক ইসলামাবাদী,ইলিয়াছ ওসমানী,মীর ইদ্রিছ,জাকারিয়া নোমান,মুনির আহমদ,হাফেজ ফয়সল,কামরুল ইসলাম,শোয়েব মোর্শেদ,এমরান ফতেপুরী,জাবের হোসেন,শামসুর রহমান।


আরোও সংবাদ