ঈদ উপলক্ষে মেরামত হবে ৮৬টি কোচ

প্রকাশ:| সোমবার, ২২ জুন , ২০১৫ সময় ০৯:১৫ অপরাহ্ণ

কোচ মেরামতআসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের চাপ সামলাতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৬৯টি অতিরিক্ত যাত্রীবাহী বগি বা কোচ সংযুক্ত করতে চায়। সেজন্য রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অধীনে পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপে ৮৬টি কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। গত ১৫ মে থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে অর্থ্যাৎ ৫৯ দিনে মেরামত করে যাত্রী পরিবহণের উপযোগী করতে ৮৬টি কোচকে।

তবে পর্যাপ্ত জনবল ও দক্ষ শ্রমিকের কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে। তবে পাহড়তলী ওয়ার্কসপ কর্তৃপক্ষ গত ২১ জুন পর্যন্ত ৩৮ দিনে মাত্র ৩৬ টি কোচ মেরামত করে রেলওয়ের পরিবহন শাখাকে হস্তান্তর করেছে। সেই হিসেবে বাকী ২১ দিনের মধ্যেই অরো ৫০টি কোচ মেরামত করতে হবে পাহাড়তলী ওয়ার্কশপকে। ইতেমধ্যে আগামী ৯ এপ্রিল থেকে ঈদের অগ্রীম টিকিট বিক্রির ঘোষনা দিয়েছে রেলওয়ে। এদিন ১৩ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে।

রেলওয়ের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপের দায়িত্বশীল কর্মকর্তরা জানান, ঈদ উপলক্ষে যাত্রী পরিবহনের চাপ কমাতে অতিরিক্ত বগি বা কোচ সংযোজন করতে দ্রুততার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাজ করে যাচ্ছেন ওর্য়াকশপের ১১৬৮ জন শ্রমিক- কর্মকর্তা। তবে মন্ত্রণালয়ের দেয়া এসব কোচ মেরামতে তীব্রভাবে অনুভব হচ্ছে দক্ষ ও আধা দক্ষ শ্রমিকের অভাব। কেননা এই ওয়ার্কশপে যেখানে মঞ্জুরকৃত জনবলের সংখ্যা ১৭৮০ জন সেখানে বর্তমানে জনবল রয়েছে মাত্র ১১৬৮ জন। শতকরা ৩৪ ভাগ জনবল সংকটের ৯০ ভাগই দক্ষ ও আধা দক্ষ জনবল সংকট। এরপরও লক্ষ্যামাত্র পূরণে গত ১৫ মে থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ৩৮ দিনে বিরতিহীনভাবে কাজ করে ৩৬ টি কোচ মেরামত করে পাহাড়তলী ওয়ার্কশ কর্তৃপক্ষ। বাকী ৫০টি কোচ মেরামত করার জন্য সময় হাতে রয়েছে মাত্র ২১ দিন।

রোবাবর বিকেলে পাহাড়তলীর রেলওয়ে ওয়ার্কশপের বিভিন্ন শপ ঘুরে দেখা গেছে, বগি শপের কেউ বগি ও স্প্রিং প্রতিস্থাপন করছেন। হুইল শপে কেউবা গ্রিজ বা লুব্রিকেন্ট দিয়ে চাকা সচল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। আবার কেউবা চাকায় টায়ার লাগিয়ে পুরানো চাকাকে নতুন করার চেষ্টা করছেন। স্মিথি শপে কয়লার আগুনে লোহাকে গলিয়ে কোচে ব্যবহারযোগ্য প্রয়োজনীয় উপকরণ তৈরি করা হচ্ছে। ওয়েল্ডিং শপে চলছে দ্রুততার সঙ্গে কোচের বিভিন্ন স্থানে নষ্ট হয়ে যাওয়া ডেন্টিংয়ের কাজ। পেইন্ট শপে অন্যান্য শপ থেকে আনা কোচগুলোকে রং তুলির আঁচড় দিয়ে নতুন আঙ্গিকে তৈরি করা হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে ট্রেনের গায়ে শ্রেণী ভেদে কোচের নম্বর, ট্রেনের ক্যাটাগরির নাম, আসন অনুযায়ী বিভিন্ন কোচের দরজায় সাংকেতিক চিহ্ন। জিইআর শপে কোচের ভেতরে থাকা বৈদুতিক সংযোগগুলো সঠিক রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মেরামতের কাজ নিরলসভাবে করে যাচ্ছেন এই শপের শ্রমিকরা। ক্যারেজ শপেও চলছে দ্রুতগতিতে কোচের বিভিন্ন ধরনের মরামত।

ওয়ার্কশপ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে এ কারখানা থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৮৬টি কোচ মেরামত করে চলনক্ষম করা হচ্ছে। এসব কোচের মধ্যে চট্টগ্রাম ডিভিশনের জন্য ১৮টি আন্তঃনগর কোচ, ২৮টি মেইল এক্সপ্রেস ট্রেনের কোচ, ঢাকা ডিভিশনের জন্য ১৭টি আন্তঃনগর ও ২৩টি মেইল এক্সপ্রেস ট্রেনের কোচ মেরামতের কাজ চলছে পুরোদমে। আগামী ২১ দিনের মধ্যে এসব কোচ মেরামত করে সংযোজন করা হবে ঈদ যাত্রায়। এসব ট্রেনের উপর ভিত্তি করে চারটি স্পেশাল ট্রেন ও আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনের কোচ সঙ্কট পরিপূরণ করা হবে বলে আশা করছেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানার ব্যবস্থাপক এফ এম মহিউদ্দিন বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে ঈদ উপলক্ষে যাত্রী পরিবহনের জন্য আমাদের ৮৬টি কোচ মেরামত করে দেয়ার টার্গেট দিয়েছে। সে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে আমরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। বিশেষ এই অ্যাসাইন্টমেন্টের কাজ গত ১৫ মে থেকে শুরু হয়ে আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত চলবে। গত ২১ জুন পর্যন্ত আমরা ৩৬টি কোচ মেরামত করে যাত্রী পরিবহনের উপযোগি করে পরিবহন বিভাগকে হস্থান্তর করেছি। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লক্ষ্য পূরণ করতে পারবো।’

৩৮ দিনে মাত্র ৩৬ টি কোচ মেরামত হলে বাকী ২১ দিনে কীভাবে ৫০টি কোচ মেরামত সম্ভব হবে এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে গেলে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে সেটি কতটুকু সম্ভব হবে তা নিশ্চিত নয়। আমাদের ওয়ার্কশপে বর্তমানে শতকরা ৩৪ ভাগ জনবল সংকট রয়েছে। এরমধ্যে ৯০ ভাগই হচ্ছে দক্ষ ও আধা দক্ষ জনবল।’

কারাখানায় কর্মরত একাধিক শ্রমিক জানিয়েছেন, প্রতিদিন একটি বেশি কোচ মেরামত করা বর্তমান জনবল দিয়ে সম্ভব নয়। সে হিসেবে নির্ধারিত ৫৯ দিনে সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৬৫টি কোচ মেরামত করা সম্ভব হবে পাহতলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপে।

তবে সব ধরণের সমীকরণকে পাল্টিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ৮৬টি কোচ মেরামত করে যাত্রী চলাচলের উপযোগী করা হবে বলে দাবি করেছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোজাম্মেল হক।

তিনি সোমবার বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের যে লক্ষ্যমাত্র দিয়েছে। সেই লক্ষ্যমাত্র আমরা ঠিকই পূরণ করবো।’

গত ৩৮ দিনের উৎপাদনের হিসাবটি তার সামনে তুলে ধরা হল তিনি বলেন, ‘আমি এখনো হিসাব করেনি। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্র অনুযায়ী ৮৬টি কোচ আমাকের বুঝিয়ে দিতে হবে ওয়ার্কশপ কর্তৃপক্ষকে।’


আরোও সংবাদ