‘২০৪১ সালের মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনেক এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৫:৫৭ অপরাহ্ণ

‘২০৪১ সালের মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনেক এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ-প্রধানমন্ত্রী G। বৃহস্পতিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ফেলোশিপের চেটক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে বিপুল জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করতে পারলেই উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ দিতে হয়। তারপরও দেশের সাধারণ নাগরিকদের দেয়া করের টাকায় গবেষণা খাতে অনুদান ও ফেলোশিপ দিচ্ছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘মানব ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া দেশগুলোকেই জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাভুক্ত করেছে। দারিদ্র্য (মাথাপিছু আয়), মানবোন্নয়ন (পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সাক্ষরতার হার বিবেচনায়) এবং অর্থনৈতিক সামর্থ্য- এই তিনটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে দশ বছর পরপর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা হালনাগাদ করা হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করতে চাই, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত গবেষণা উন্নয়নে আমাদের জাতির পিতা সদ্য স্বাধীন দেশে যেভাবে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন সে পথ অনুসরণ করে আমাদের সরকারও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত গবেষণা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদানসহ সকল প্রকার সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করা হবে। যারা গবেষণায় যুক্ত তাদের অবসরের বয়সসীমা শিথিল করার সিদ্ধান্তও সরকারের রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বস্তরে বিজ্ঞান শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে শিক্ষাসূচি চালু করে বিশ্বমানের আধুনিক মানুষ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছি, যাতে কুসংস্কারাচ্ছন্নতা, অপপ্রচার ও গুজবনির্ভরতা এবং সব ধরনের অন্ধত্ব ও গোঁড়ামি থেকে মুক্ত হয়ে প্রাণশক্তিতে পরিপূর্ণ জীবনযাপনের পথ উন্মুক্ত হয়। এক শ্রেণীর সুযোগসন্ধানী বিজ্ঞান শিক্ষা থেকে দূরে রেখে সাধারণ মানুষকে যেভাবে তাদের ক্রীড়নক বানিয়ে রেখেছিল, এখন থেকে তা আর সম্ভব হবে না।’

এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা প্রকল্পে বিশেষ অনুদান, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ এবং এনএসটি ফেলোশিপের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

লন্ডনের কিংস কলেজে অর্থোপেডিক টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণায় থাকা চিকিৎসক মোহাম্মদ সালেহ উদ্দিন মাহমুদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব কাজী কামরুন্নাহার এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানিমা মোস্তফার হাতে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

আর এনএসটি ফেলোশিপের চেক পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তি বিভাগের এনএসটি ফেলো ইসরাত শারমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের এনএসটি ফেলো নাসিব সাইয়িদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের এনএসটি ফেলো মাহবুবা রহমান এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের এনএসটি ফেলো সজীব কুমার সাহা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিয়াক সার্জন অসিত বরণ অধিকারী এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহকারী অধ্যাপক হামিদা গুলশান প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে গবেষণার জন্য বিশেষ অনুদানের চেক নেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত সচিব এ কে এম আমির হোসেন।এম আমির হোসেন।


আরোও সংবাদ