১ হাজার টাকার পাঞ্জাবি ৩ হাজার ৫০০ টাকা

প্রকাশ:| বুধবার, ১৫ জুন , ২০১৬ সময় ০৯:০৩ অপরাহ্ণ

নগরীর টেরিবাজারের কাপড়ের দোকান মেগামার্ট ঢাকার উর্দু রোড থেকে ১ হাজার টাকার পাঞ্জাবি কিনে এনে তা বিক্রি করছে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি পাঞ্জাবিতেই তারা আড়াই হাজার টাকা করে লাভ করছে।

একই মার্কেটের স্টার প্লাস নামে আরেক দোকান আবার পাশের অন্য দোকান থেকে কাপড় কিনে তাতে প্রকারভেদে দুই-চার হাজার টাকা লাভ করছে।

১ হাজার টাকার পাঞ্জাবি ৩ হাজার ৫০০ টাকাআসন্ন ঈদকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো বুধবার সকালে টেরিবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রয়মূল্যের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের এই পার্থক্য ধরা পড়ে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান, তাহমিনা আক্তার ও রঞ্জন চন্দ্র দে। এতে সহযোগিতা করে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। এছাড়া চেম্বার ও ক্যাবের প্রতিনিধিরা অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানের সময় বাজার কমিটির সহায়তায় তাদের কনফারেন্স রুম থেকে পুরো মার্কেটে কেন্দ্রীয় সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান ব্যবসায়ীদের বেশকিছু নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে ক্রয়মূল্যের ইনভয়েস সংরক্ষণ ও ক্রেতাকে বিক্রয়মূল্যের রশিদ প্রদান করার নির্দেশ দেন। ক্রেতাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশও দেন তিনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান বলেন, ‘অভিযানকালে বেশ কিছু দোকানে ক্রয়মূল্যের সাথে বিক্রয়মূল্যের ব্যাপক পার্থক্য ধরা পড়ে। এর মধ্যে স্টার প্লাস নামে এক দোকানে দেখা যায় কাপড় ভেদে তারা ২-৪ হাজার টাকা লাভ করছে। আবার মেগামার্টে ঢাকার উর্দু রোড থেকে ১ হাজার টাকায় পাঞ্জাবি কিনে এনে তারা বিক্রি করছে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। তবে কিছু কিছু দেকানে সন্তোষজনক দাম দেখা গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু কাপড়ের বাজারে এ ধরনের অভিযান প্রথম, তাই ব্যাবসায়ীদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে এবং মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী চট্টগ্রামের সব কাপড়ের বাজার ও মার্কেটে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান।

এ অভিযানের পর নগরীর ফয়’স লেক এলাকায় কয়েকটি ওষুধের দোকানে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ, অননুমোদিত ওষুধ বিক্রির দায়ে চার বিক্রেতাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া নগরীর অন্যান্য কাঁচাবাজারে অধিকাংশ পণ্যের দামে স্থিতিশীলতা লক্ষ করা যায়। পাহাড়তলী বাজারে মূল্য তালিকা না থাকায় একজন বিক্রেতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির রহমান সানি, ইসতিয়াক আহমেদ ও সানজিদা সুলতানা।

আঁতুরার ডিপো বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করায় পাঁচ বিক্রেতাকে মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফোরকান এলাহী অনুপম, নাঈমা ইসলাম ও শেখ নুরুল আলম। পুলিশ ও আনসার সদস্যরা এসব অভিযানে সহযোগিতা করেন।


আরোও সংবাদ