১ হাজার কন্টেইনার কিনতে ১১ টি দরপত্র

প্রকাশ:| সোমবার, ৩ এপ্রিল , ২০১৭ সময় ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

দেউলিয়া হয়ে যাওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ কোম্পানি হানজিন শিপিং লিমিটেডের নিলামে উঠা ১ হাজার ৫৭ টি কন্টেইনার কিনতে দরপত্র দাখিল করেছে ১১ টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

২২টি লটে ১ হাজার ৫৭টি কনটেইনার নিলামে তোলে বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত রোববার (২ এপ্রিল) পর্যন্ত নিলামে অংশ নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান ক্যাটালগ সংগ্রহ করেছিল। সোমবার সকাল ১১ টা পর্যন্ত নিলাম দরপত্র অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১১টি প্রতিষ্ঠান ৫৬ লটে এসব কন্টেইনার কিনতে দরপত্র দাখিল করে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো.জাফর আলম বলেন, মঙ্গলবার দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি যাচাই বাছাই করে সর্বোচ্চ দরদাতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এসব কন্টেইনার কার্যাদেশ দেবে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, হানজিনের কাছে বন্দরের পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা। পাওনা টাকার মধ্যে কনটেইনার হ্যান্ডেলিং, ইয়ার্ডে কন্টেইনার রাখার ভাড়া ও দুটি জাহাজের বন্দর ব্যবহারের ভাড়া রয়েছে।

নিলামে তোলা ১ হাজার ৫৭ কনটেইনারের মধ্যে ২০ ফুট, ৪০ ফুট ও ৪৫ ফুট লম্বা কনটেইনার রয়েছে। প্রতিটি ২০ ফুট লম্বা হিসাবে ধরা হলে ১ হাজার ৮৯৪ টিইইউস কনটেইনার নিলামে তোলা হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, হানজিনের পাওনা আদায়ের বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দরের পাওনা টাকা আদায়ে হানজিনের কনটেইনার নিলামে তোলা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার শিপিং কোম্পানি হ্যানজিন দেউলিয়ার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্দরে কন্টেইনার নামতে দেওয়া হয়নি। এতে ওই কোম্পানির জাহাজ ও কন্টেইনারে পণ্য দিয়ে বিপাকে পড়ে আমদানি-রফতানিকারকরা। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে থাকা কন্টেইনার নিয়ে যেতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

গত বছরের ৩১ আগস্ট সিঙ্গাপুর আদালতে হ্যানজিন শিপিংয়ের দেউলিয়া হওয়ার আবেদন আদালতে জমার পর থেকে ৪ হাজার ১৩৭ একক পণ্যভর্তি কন্টেইনার সিঙ্গাপুর বন্দরে আটকা পড়েছিল। এরমধ্যে ব্যবসায়ীরা বেশিরভাগ কন্টেইনার অন্য কোম্পানির কন্টেইনারে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে।

সিঙ্গাপুর বন্দর কর্তৃপক্ষ গত বছরের ১২ নভেম্বর হানজিনের কন্টেইনার সরিয়ে নিতে একটি নোটিশ জারি করে। ২৮ নভেম্বরের মধ্যে এসব কন্টেইনার সরিয়ে না নিলে নিলামে তোলা হবে অথবা সেগুলো সরিয়ে ফেলে নিজেদের জিম্মায় নেওয়া হবে বলে নির্দেশনা জারি করে। একই পদ্ধতি অনুসরণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।