১৯ বৎসরে ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন খোকন ও গিয়াস উদ্দিন জামিলে হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ০৯:৪১ অপরাহ্ণ

১৯ বৎসরে  ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন খোকন ও গিয়াস উদ্দিন জামিলে হত্যাকান্ডের বিচার হয়নিশফিউল আলম, রাউজানঃ ১৯ বৎসরে ও হত্যাকান্ডের বিচার পায়নি নিহত ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন খোকন ও গিয়াস উদ্দিন জামিলের স্বজনেরা । হত্যাকান্ডের ১৯ বৎসর পর বিচার না পেয়ে ছাক্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন খোকন ও গিয়াস উদ্দিন জামিলের পরিবারের সদস্যরা স্বজন হারানো বেদনা বুকে নিয়ে বেঁচে রয়েছে । হত্যাকান্ডের দিন তারিখ আসলে নিহত ছাত্রলীগ ইকবাল হোসেন খোকনের মাতা ৯০ বৎসর বয়স্ক বৃদ্বা প্রিয় সন্তান ইকবাল হোসেন খোকনের জন্য ডুকরে ডুকরে কেদেঁ দিন যাপন করেন । ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন খোকন বিবাহ করার নয় মাসের মধ্যে ১৯৯৪ সালের ৩ সে্েপটম্বর তার সহকর্মী ছাত্রলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন জামিল বেবী টেক্সী নিয়ে চট্টগ্রাম কাপাতাই সড়ক হয়ে রাউজানের গশ্চি থেকে চট্টগ্রাম শহরে যাওয়ার পথে, কাপ্তই সড়কের নোয়াপাড়া কমলার দিঘীর পাড় এলাকায় এনডিপির দুধর্ষ ক্যাডার করাগারে বন্দী শীর্ষ সন্ত্রাসী বিধান বড়–য়া, আত্বর্গোপেন থাকা আবু তাহের, ফজল হক, বাটপারে আবছার, সেয়দের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা দুই ছাত্রলীগ নেত কে বহনকারী বেবী টেক্সীর গতিরোধ করে প্রকাশ্য দিবালেকে গুলি করে ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন খোকন, গিয়াস উদ্দিন জামিলকে প্রকাশ্য দিবালোকে নির্মমভাবে হত্যা করে । হত্যাকান্ডের পর শীর্ষ সন্ত্রাসী হত্যকান্ডের নায়ক ফজল হক সহ হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে পুলিশ আদালতে সোর্পদ করেন । আদালত থেকে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের জেল হাজতে প্রেরণ তরা হয় । হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতরা আইনের ফাকঁ ফোকর গলিয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার প্রভাব বিস্তার করে জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় আবারো সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন । ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন খোকনের হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত শীর্ষ সন্ত্রাসী বিধান বড়–য়া বর্তমানে কারাগারে আটক, অপর খুনি শীর্ষ সন্ত্রাসী ফজল হক সৌদি আরবে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ফজল হকের সহযোগী হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িত শীর্ষ সন্ত্রাসী আবু তাহের, বাটপার আবছার, সৈয়দ সহ খুনিরা হত্যাকান্ডের পর এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে । নিহত ছাক্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন খোকনের মাতা ৯০ বৎসরের বৃদ্বা আলবেলা খাতুন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন খোকন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা এলাকার দিলুয়ারা বেগমকে বিবাহ করার নয়মাসের মধ্যে আমার ছেলেকে খুন করা হয় । সে সময়ে আমার পুত্রবধু দিলুয়ারা অর্ন্তসত্বা ছিল । আমার প্রিয় সন্তান ইকবালকে হত্যা করার পর পুত্রবধূর গর্ভ থেকে ছেলে সন্তান জম্মলাভ করেন । আমার নাতি ইমরান হোসেন রোকন বর্তমানে রাউজানের ইমাম গাজ্জালী কলেজের এইস এস সি ২য় বর্ষের ছাত্র। নাতি ইমরান হোসেন রোকন তার হম্মদাতা পিতাকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি । ঘাতকেরা ইমরান হোসেন রোকনের পিতা ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন খোকনকে হত্যা করার পর মামলা করা হয়েছে । হত্যাকান্ডের ১৯ বৎসর অতিবাহিত হলে ও স্বজন হারানো বেদনা নিয়ে বিচারের আশায় বৃদ্বা আলবেলা খাতুন প্রতিক্ষার প্রহর গুনছেন । বৃদ্বা আলবেলা খাতুন বলেন আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার দেখে যেতে পারব কিনা তা নিয়ে চিন্তায় আছি । ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হত্যার পর তার স্ত্রী যখন এক ছেলে সন্তান জম্ম দিয়েছে, সেই সময়ে নিহত ছাত্রলীগ নেতা ইকবালের ছোট ভাই যুবলীগ নেতা মোশারফ হোসেন ছোটন ইকবালের বিধবা স্ত্রীকে বিবাহ করে ইকবালের ছেলে ইমরান হোসেন রোকন কে সহ লালন পালন করেন । গতকাল মঙ্গলবার ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন খোকন ও গিয়াস উদ্দিন জামিলের ১৯তম মৃত্যবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল ও স্মরণ সভার আয়োজন করেন শহীদ ইকবাল জমিল স্মৃতি সংসদ । শহীদ ইকবাল জামিল স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে দুই ছাত্রলীগ নেতার কবরে পুস্পস্তবক অর্পন করেন । গশ্চি সমবায় মাঠে চেয়ারম্যান আব্বাসউদ্দিনের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন গৃহাযন ও গণপুর্ত মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি, রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন খান, রাউজান পৌর সভার প্যানেল মেয়র বশির উদ্দিন খান, চেয়ারম্যান লায়ন সাহাবু উদ্দিন আরিফ, আলহাজ্ব দিদারুল আলম, ভুপেষ বড়–য়া, আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন দে, আবদুল নবী, সুনিল চক্রবর্তী, আরিফুল ইসলাম, বাবুল মিয়া মেম্বার, ছাত্রলীগ নেতা আবদুল জব্বার সোহেল জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।স্মরণ সভায় বক্তারা বলের ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল, জামিল সহ অনেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি রাউজানকে সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত করেছিলো । বর্তমান সরকারের শাসণ আমলে এবি এম ফজলে করিম চৌধুরীর একান্ত প্রচেষ্টায় সন্ত্রাসের জনপদ রাউজানকে শান্তির জনপদে পরিণত করেছে । রাউজানে শান্তির সুবাতাস ফিরিয়ে আনার জন্য ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন খোকন ও গিয়াস উদ্দিন জামিল সহ যে সব নেতা কর্মী সংগ্রাম করতে গিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির লালিত সন্ত্রাসীদের হাতে জীবণ দিয়েছে । রাউজানে শান্তির সুবাতাস ফিরিয়ে আসায় ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন খোকন ও গিয়াস উদ্দিন জামিল সহ যে সব নেতা কর্মী জীবণ দিয়েছে তাদের আর্ত্বা শান্তি পাচ্ছে