১৯ কুটনীতিক বলছেন রাখাইন পরিস্থিতি ‘ভয়ানক’

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর , ২০১৭ সময় ০৮:৫৭ অপরাহ্ণ

মিয়ানমারের রাখাইন পরিদর্শনে গিয়ে সেখানকার মানবাধিকার পরিস্থিতির বর্ণনা করতে গিয়ে মিয়ানমারে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত নিকোলাস কোপেলের নেতৃত্বাধীন ১৯ কুটনীতিকও বলছেন পরিস্থিতি ‘ভয়ানক’। গত সোমবার মিয়ানমার বিদেশি কুটনীতিকদের রাখাইন পরিদর্শনে অনুমতি দেয়।

কিন্তু মিয়ানমারের সেনাবাহিনীসহ দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীগুলো এবং উগ্রবাদী বৌদ্ধরা রাখাইন প্রদেশের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে বর্বরতা চালিয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানাতে ব্যর্থতা দেখিয়েছেন ওই কুটনীতিকরা।

জাতিসংঘ অনেক আগেই রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের ওই সহিংসতাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে আখ্যায়িত করেছে। আর হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ওই সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে আখ্যায়িত করেছে।

ওই সহিংসতার ফলে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। গত কয়েকদশকে এশিয়ায় এত কম সময়ে এভাবে এত বেশি সংখ্যক মানুষ একসঙ্গে উদ্বাস্তু হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

মিয়ানমারের সরকারি সহায়তায় ওই পরিদর্শন ট্যুর শেষে কোপেলের নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন দেশের কুটনীতিকরা মিয়ানমার সরকারকে রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তদন্ত করে দেখার এবং জরুরি ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা নিয়ে দাতা সংস্থাগুলোর কর্মীদেরকে রাখাইনে ঢুকতে অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে কুনীতিকরা আরো বলেন, সহিংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আর নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে কোনো বৈষম্য না করেই রাখাইনের সব মানুষকে নিরাপত্তা দিতে হবে। আর বাড়িঘরে আগুন লাগানোর ঘটনাও বন্ধ করতে হবে।

এ ছাড়া গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের ৩০টি পুলিশ পোস্ট এবং সেনাচৌকিতে হামলার জন্য আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিকেও তিরস্কার করেন তারা।

ওই হামলাকে অজুহাত হিসেবে খাড়া করেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এক বর্বর রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান শুরু করে। ওই অভিযানে রোহিঙ্গাদের অসংখ্য গ্রাম ও বাড়িঘর আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় এবং প্রায় ৩-৫ হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশে পালিয়ে আসারা সেনা সদস্যদের দ্বারা গণহারে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ এবং পালিয়ে আসার সময়ও নির্বিচারে গুলি করার অভিযোগ করেছেন।

ওই কুটনীতিকরা জাতিসংঘের তদন্তকারী দলকেও রাখাইনে প্রবেশের অনুমতি দানের আহবান জানিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, রাখাইনে আমরা ভয়াবহ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা দেখেছি। সুতরাং আমরা আবারো আহবান জানাই যেন আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংগঠনগুলোকে সেখানে প্রবেশে অনুমতি দেওয়া হয়।

আগস্ট মাসের শেষদিকে অং সান সু চি আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংগঠনগুলোর সঙ্গেও রোহিঙ্গা বিদ্রোহী, যাদেরকে তিনি সন্ত্রাসী বলেন, তাদের যোগাযোগ আছে এমন মন্তব্য করার পর ত্রাণকর্মীরা সেখানে যেতে ভয় পাচ্ছেন। এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজেদের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন।