১৯৭৫ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ এখন সবচেয়ে শক্তিশালী

প্রকাশ:| শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ০৯:৩৩ অপরাহ্ণ

জয়১৯৭৫ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ এখন সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়।৭৫’র পর আ. লীগ এখন সবচেয়ে শক্তিশালী: জয়

শনিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশন সময়ে এক বিশেষ সাক্ষাতকারে তিনি একথা বলেন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়ে উপস্থাপকের এক প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, “পঁচাত্তরের এর পর থেকে আওয়ামী লীগ এখন সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থায় আছে।”

নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ সব সময় ঐক্যবদ্ধ হয়- দাবি করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগে যারা রাজনীতি করতে আসে তারা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে আসে।কি পেলাম, আর কি পেলাম না- এটা তাদের কাছে বিবেচ্য নয়। নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ সবসময় ঐক্যবদ্ধ হয়।”

উত্তরাধিকারের রাজনীতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জয় বলেন, “উত্তরাধিকারের বিষয়টি অনেকবারই আলাপ হয়েছে। এখানে আমি বলবো, একজন ডাক্তারের ছেলে যখন ডাক্তার হয়, একজন আইনজীবীর ছেলে যখন আইনজীবী হয় বা একজন ব্যবসায়ীর ছেলে যখন বাবার ব্যবসার হাল ধরে তখন উত্তরাধীকারের বিষয়টি আসে না।”

তিনি বলেন, “আমরা যারা রাজনৈতিক পরিবারের, আমরা ছোটবেলা থেকে রাজনীতি দেখছি। এদেশের ভালো সময়, খারাপ সময়-এগুলো আমাদের চোখে দেখা।আর আমি কখনোই চাইনি লাফ দিয়ে দলের কোনো পদে আসবো। আমি এখনো দলের প্রাথমিক সদস্য।”

উত্তরাধীকারের রাজনীতির কারণে অনেকেই দলের শীর্ষ পদগুলোতে উঠে আসতে পারেন না বলে তাদের মধ্যে না পাওয়ার হতাশা কাজ করে কি না- এমন এক প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, “অন্যান্য দলের মধ্যে কি হয়, সেটা আমি বলতে পারব না। তবে আওয়ামী লীগে এমনটা নেই।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। গত নির্বাচনে দেখেছেন আমাদের দলে অনেক নতুন, তরুণ প্রজন্মের অনেকে এসেছে। আওয়ামী লীগের গত কাউন্সিলেও অনেক নতুন মুখ এসেছে। তবে এটা ঠিক, আওয়ামী লীগ বড় দল, পাওয়া না পাওয়া নিয়ে কিছুটা সমস্যা তো হয়ই।”

আওয়ামী লীগের ব্যর্থতার কথা বলা হলেই পদ্মা সেতু, হলমার্ক, ডেসটিনি, শেয়ারবাজার কেলেংকারীর বিষয়গুলো উঠে আসে- উল্লেখ করে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “এসব বিষয়ে ব্যর্থতার যে অভিযোগ তোলা হয় তা ঠিক নয়।”

জয় বলেন, “হলমার্ক আমাদের সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গত বিএনপি সরকারের সময়ে হলমার্ক, ডেসটিনি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠানই হাওয়া ভবনের তৈরি করা।এগুলোতে আগে থেকেই দুর্নীতি চলে আসছিল। আমরা সেই দুর্নীতি ঠেকিয়েছি।”

শেয়ারবাজার কেলেংকারী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তদন্তে মামলা করার মতো কিছু আসেনি। ফলে যিনি তদন্তটি পরিচালনা করেছিলেন তিনিও কিছুটা বিতর্কিত হয়ে পড়েন।”

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে জয় বলেন, “এটা আমাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমরা ভেতর থেকে খবর পেয়েছিলাম যে আমাদের এই ঋণটা দেয়া হবে না।”

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “দুদক এই বিষয়টি তদন্ত করেছে। যাদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে তারা কিন্তু এখন জেলে আছে। অন্যদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ না থাকায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।”

নৌকায় ভোট চাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার দল হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। নৌকার পক্ষে আমাকে ভোট চাইতেই হবে।”