১৬ দিনেও চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হয়নি

প্রকাশ:| রবিবার, ১০ এপ্রিল , ২০১৬ সময় ০৯:৫৪ অপরাহ্ণ

পেকুয়া
গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া প্রতিনিধি।
পেকুয়ায় সিএনজি অটোরিক্সার চালক মোহাম্মদ হোসাইন প্রকাশ হোছাইয়া (১৭) হত্যাকান্ডের রহস্য এখনো উদঘাঠিত হয়নি। হত্যাকান্ডের ঘটনার ১৬দিন অতিবাহিত হয়েছে। অথচ পুলিশ এ পর্যন্ত ঘটনার কোন ধরনের ক্লু উদঘাটন করতে সক্ষম হননি। তবে ঘটনার পরপরই পুলিশ হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহভাজন হিসেবে আ্বদুর রহমান নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে। উপজেলার টইটং ইউনিয়নের জালিয়ারচাং এলাকায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। নিহত মো.হোসাইন এর পরিবার অভিযোগ, মামলার অগ্রগতি ও তদন্ত চলছে স্লো-গতিতে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার পর স্থানীয় আতাউল্লাহ ও রুবেল নামের দুই যুবক আতœগোপন হয়েছে। এদের মধ্যে রুবেলের বাড়ি একই ইউনিয়নের মৌলভী হাসানের জুম এলাকায়। অপর যুবক আতাউল্লাহ’র বাড়িও একই এলাকায়।
নিহত মো.হোসাইনের মা হামিদা বেগম জানিয়েছেন, গত ২৬মার্চ রাতের যেকোন সময়ে তার ছেলে মো. হোসাইনকে দুর্বৃত্তরা গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে তার লাশ জালিয়ারচাং টেইট্যাখালী বিলের ধান ক্ষেতে ফেলে দেয়। আমার ছেলেকে হাত-পা রশি দিয়ে বেধে গলার পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে। ঘটনার দিন আব্দু রহমান, রুবেল, আতাউল্লাহসহ ৫জনকে স্থানীয় মাহমদ মাঝিসহ লোকজন প্রায় ১টার দিকে ঘটনার দিন রাতে কাছারীমুড়া দেখতে পান।
একই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে এক কি.মিটার দক্ষিনে জালিয়ারচাং বড়পাড়া এলাকায় জাহেদ নামে এক ব্যক্তি একই ব্যক্তিদের ভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করতে দেখতে পান। অপরদিকে যেখানে লাশ পাওয়া গেছে ওই স্থানে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদেরকে ঘুরাফেরার সময় দেখতে পান দু’জন মৎস্য শিকারী। তবে ওই তিন যুবকের গতিবিধি সন্দেহজনক ও বিচলিতভাব দেখছিলেন স্থানীয়রা। এর সুত্র ধরে ঘটনার আব্দু রহমানকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
হামিদা বেগম জানিয়েছেন, হত্যাকান্ডের ঘটনার দিন রাতে পুলিশের হাতে আটক আব্দু রহমান আতাউল্লাহ’র বাড়িতে রাত্রি যাপন করে। নিহত মো.হোসাইনের জেঠা মোজাফ্ফর জানিয়েছেন খুন হওয়ার পর আতাউল্লাহ ও রুবেলসহ তিন যুবক রাজাখালী এক আতœীয়’র বাড়িতে আতœগোপনে ছিলেন। খুনের বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে আলাপচারিতা হয়। বিষয়টি পাশ্ববর্তী এক মহিলা শুনতে পান।
মোজাফ্ফর আহমদ অভিযোগ করেছেন আব্দু রহমানের বাড়ি থেকে পুলিশ হত্যাকান্ডের কিছু আলামত জব্দ করেছেন। এসবে মধ্যে হোসাইনের ব্যবহৃত লুঙ্গি, প্যান্ট ও লুঙ্গি মোড়ানো একটি ধারালো দা উদ্ধার হয়েছে। আতাউল্লাহ’র বাড়িকে ঘিরে হত্যাকান্ডের মুল রহস্য। পুলিশকে ওই বাড়িতে যেতে বলেছি। কিন্তু পুলিশ সময় নেই বলে ওই বাড়িতে এখনো যাইনি । এদিকে মো.হোসাইন এর হত্যাকান্ডের ঘটনা নিয়ে কোল কিনারা মিলেনি এ পর্যন্ত। হামিদা বেগম বাদি হয়ে ঘটনার পর আব্দু রহমানসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে পেকুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করে।
বাদি অভিযোগ করেছেন, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকতার কাছ থেকে মামলা নিয়ে কোন ধরনের সহযোগিতা করছেনা। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে যারা ঘটনার সাথে জড়িত তারা বর্তমানে নানা ধরনের তৎপরতা শুরু করেছে।
জানা গেছে গত ২৬মার্চ গভীর রাতে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের গর্জনীয়াপাড়া এলাকার দুবাই প্রবাসি আব্বাস উদ্দিনের ছেলে মো.হোসাইনকে গলাকেটে হত্যা করে। স্থানীয়রা সকালে টেইট্যাখালী বিলে তার লাশ দেখতে পায়। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। এ সময় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এক হৃদয় বিদারক ঘটনার অবতারনা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পেকুয়া থানার এসআই সুমন এর কাছে জানতে তার মুঠোফোনে যোগোযোগ করা হয়। রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া যায়নি।