১৫০ কিমি সবুজ বেষ্টনী উজাড়

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ১১:৩০ অপরাহ্ণ

সাগরের অব্যাহত ভাঙন, জলবায়ু পরিবর্তন আর বনদস্যুদের তা-বে উজাড় হচ্ছে চরগঙ্গামতি, ফাতরারচরসহ কলাপাড়ার উপজেলার উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী। ১০ বছরে কলাপাড়ার বেড়িবাঁধের ১৫০ কিলোমিটার বনাঞ্চল উজাড় করা হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বহু বছরের পুরনো এ বনাঞ্চল দিন দিন সৌন্দর্য হারাচ্ছে। হুমকির মুখে রয়েছে পরিবেশ। বন সংরক্ষণের ব্যাপারে বনবিভাগ নির্বিকার। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই এ উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী নিঃশেষ হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদীরা। সরেজমিন দেখা গেছে, সাগর এবং নদীর ভাঙন, নির্বিচারে গাছ কেটে নেয়াসহ রিসাইকিলিং পদ্ধতিতে গাছ মারা যাওয়ায় এবং নতুন গাছ না লাগানোর কারণে কুয়াকাটা সাগরপাড়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও বেড়িবাঁধের বাইরের ছইলা-কেওড়া বাগান, বাঁধের ঢালে সামাজিক বনায়ন সব ধ্বংস করে দিচ্ছে বনদস্যুরা। ফলে সমুদ্র তীরবর্তী এই এলাকায় প্রাকৃতিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে এখানকার অন্তত ৮ লক্ষাধিক মানুষ তাদের সহায় সম্পদ নিয়ে দুর্যোগের শঙ্কায় বেঁচে আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানায়, ১০ বছরে কলাপাড়ার বেড়িবাঁধের বাইরের অন্তত ১৫০ কিলোমিটার বনাঞ্চল উজাড় করা হয়েছে। এসব বাগান উজাড় করে বাড়িঘর, মাছের খামার ও ব্যক্তিগত পুকুর করা হয়েছে। এমনকি বনের গাছ উজাড় করে করা হচ্ছে ইটভাটা। বন ও পরিবেশ আইনকে চরমভাবে উপেক্ষা করে যত্রতত্র বসানো হয়েছে অসংখ্য স’ মিল। ফলে এ উপকূলীয় জনপদে দুর্যোগকালীন ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। কুয়াকাটাসংলগ্ন চাপলি গ্রামের গোকুল কর্মকার বলেন, আগে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ছিল। সাগরের করাল গ্রাস, ঝড়-বন্যায় আর বনদস্যুদের আগ্রাসী থাবায় ধ্বংস হয়ে গেছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। সিডর, আইলা ও মহাসেনের পরে জীবন রক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী বনের ওপরই যেন চলছে নিধনযজ্ঞ। মাইলের পর মাইল বনাঞ্চল উজাড়ের কারণে এখন বেড়িবাঁধগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। জীবন বিপন্ন হওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন বাঁধের ভেতরের লাখ লাখ মানুষ। জানা যায়, গঙ্গামতি ও কুয়াকাটা এলাকার বন বিভাগের আওতাধীন জমিতে বহু সাইনবোর্ড রয়েছে। বছরের পর বছর এই সাইনবোর্ড লাগিয়ে রাখা হলেও বন বিভাগের এতে কোনো মাথাব্যথা নেই। পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফি আহাম্মেদ জানান, পাউবোর বাঁধের বাইরের বাগান কিংবা জমি যারা দখল করছে তাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেলায় আমাদের অনেক খাস জমি রয়েছে, যেগুলো দখলে নেই। আমরা আমাদের জমি উদ্ধারের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছি। বন বিভাগের একাধিক রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, বনাঞ্চল দখলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে ওইসব বনদস্যুরা। অবৈধভাবে বসানো স’ মিল শনাক্ত করে তা বন্ধেরও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।