১৪১ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ০৯:০৩ অপরাহ্ণ

মহান বিজয় দিবসে ১৪১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। নগরীর সার্কিট হাউজে শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সংবর্ধনার অংশ হিসেবে তাদের হাতে ফুল, ক্রেস্ট, উত্তরীয় তুলে দেওয়া হয়।

১৪১ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ৯৩ জন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা কমান্ডের অর্ন্তভূক্ত। বাকি ৪৮ জন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, চট্টগ্রাম নগর কমান্ডের অন্তর্ভূক্ত।

মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জ, মোহা. শফিকুল ইসলাম, নগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার, জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন, পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ড‍ার মো. সাহাবউদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে বের করা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণমুলক বই‘মুক্তি’র মোড়ক উম্মোচন করা হয়। পরে সব মুক্তিযোদ্ধাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘বাঙালি স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়ার পরে অনেক ষড়যন্ত্র চলছে পরাধীনতার সেই সময়গুলোতে ফিরিয়ে নেওয়ার। কিন্তু বাঙালি ষড়যন্ত্রের দিকে কখনও ফিরে যাবে না।’

তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেকোন কাজে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান।

ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জ, মোহা. শফিকুল ইসলাম নিজের জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমার বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। আমি গ্রামেই এসএসসি পাশ করেছি। সেই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সন্তান আমি আজ ডিআইজি হয়েছি। বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে আমি এ পর্যায়ে আসতে পারতাম না। কারণ পাকিস্তানিরা আমাদের সন্তানদের যোগ্যতা থাকা সত্বেও কখনও বড় জায়গায় যেতে দেয়নি।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ডার মো. সাহাবউদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, কিছু পাওয়ার জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধে যাইনি, গিয়েছি দেশের জন্য জীবন দিতে। তাই আমরা যারা মুক্তিযোদ্ধারা এখনও বেঁচে আছি তাদের কাছে এটি বাড়তি জীবন।

তিনি বলেন, ‘আমরা দুই লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। আজ আমরা ১৬ কোটি মানুষ। আমরা দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা এই ১৬ কোটি মানুষকে নিয়ে এগিয়ে যাবো।’

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফয়েস লেক বধ্যভুমিতে দেখলাম রান্নার আয়োজন হচ্ছে, জুতো নিয়ে বধ্যভুমির উপর হাঁটাচলা করছে মানুষ। এই ধরণের আচরণ কেমনে করে। চট্টগ্রামে যেসব বধ্যভুমি রয়েছে সেগুলো যথাযথ সংরক্ষণ করতে হবে-এটাই আমাদের দাবি।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন মুক্তিযোদ্ধাদের সবসময় সহায়তা করা এবং ভবিষ্যতেও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান।

অন্যান্য বক্তারাও তাদের বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদানের দাবি জানান।


আরোও সংবাদ