১৩ ডিসেম্বর নতুন চমক-ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:১৭ অপরাহ্ণ

দেশের রাজনৈতিক সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে নতুন চমক দেখানোর কথা জানালেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। তিনি বলেছেন, ‘আগামী ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে অনেক নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। যা সে সময়েই আপনারা দেখতে পাবেন।’

শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা এলাকায় মেঘনা ব্রিজ পরিদর্শনকালে মন্ত্রী একথা বলেন।

এসময় এরশাদ প্রসঙ্গে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওয়াবদুল কাদের বলেন, ‘যেটা হওয়া দরকার তা তো হয়েছেই। সেটা হয়ত তার অংকে মেলেনি। সেজন্য তিনি বাইরে প্রকাশ করছেন না।’

দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রধানের মধ্যে যে কোনো পরিস্থিতিতে সংলাপের আবশ্যকতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘যে কোনো পরিস্থিতিতে সংলাপ হতে পারে। সমঝোতার সুযোগ থাকতে পারে। সেটা নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই প্রেসিডিয়াম সদস্য আরো বলেন, ‘সমঝোতা মানে নির্বাচন। আজকে দেশে যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে সে অবস্থা থেকে বের হতে সংলাপ ও সমঝোতা হওয়া দরকার। পর্দার অন্তরালে হলেও সংলাপ-সমঝোতা হওয়া দরকার।’

এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপদের কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরিক হয়ে সরকারের শেষ সময়ে এসে আওয়ামী লীগের সমালোচনায় মুখর হন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। শেষ পর্যন্ত ঘোষণা দিয়ে জোট থেকে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু তার পরের দিনই শেখ হাসিনার ফরমুলার অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দেন এরশাদ। মহাজোটে ফিরে না গেলেও শেখ হাসিনা জাপা থেকে সাত জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা নেন। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে বাদ দিয়ে করতে চাওয়া নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে জাপার মতো বড় দলকে দৃশ্যত প্রতিদ্বন্দ্বী রাখতেই আওয়ামী লীগ এরশাদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়েছিল।
ওবায়দুল কাদের
কিন্তু গত মঙ্গলবার হঠাৎ আরেক চমক দেখালেন এরশাদ। সব দলের অংশগ্রহণ না থাকায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেন তিনি। পরের দিন মন্ত্রিসভা থেকে দলের সাত নেতাকে পদত্যাগেরও নির্দেশ দেন। এরপর আওয়ামী লীগের হিসাব নিকাশও উলটপালট হয়ে গেলো। এখন শেখ হাসিনা যেমন এরশাদকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন তেমনি বিএনপিও তাকে সিদ্ধান্তে অটল থাকার জন্য নানাভাবে প্ররোচিত করার চেষ্টা করছে।

এখন দেখা যাক, সদা পরিবর্তনশীল মানসিকতার এরশাদকে আওয়ামী লীগ টলাতে পারে কি না। না কি বিএনপি এই সাবেক সেনাশাসককে ম্যানেজ করে শেখ হাসিনাকে বেকায়দায় ফেলে, তাকে নতুন হিসাব নিকাশের দিকে যেতে বাধ্য করে।

ওবায়দুল কাদের কোন চমকের ইঙ্গিত দিলেন এখন সেটাই দেখার বিষয়। গণতন্ত্রের দুই ধ্বজাধারী দল এখন একসময়কার গণতন্ত্র হত্যাকারীকে ম্যানেজ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। যেখানে উভয়েই গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি নিয়ে রাজনীতির মাঠ সরগরম করে রেখেছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালে একই রকম রাজনৈতিক সঙ্কট চলাকালে ‘৩০ এপ্রিলের ট্রামকার্ড’ চমক দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল। কিন্তু সে তারিখে কিছুই ঘটেনি। এটা নিয়ে রাজনীতিতে নানা রসাত্মক গল্পও প্রচলিত হয়ে গেছে। সমালোচিত ও বিদ্রুপের শিকার হয়েছেন জলিল।


আরোও সংবাদ