১৩ এপ্রিল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ঐতিহাসিক মিলন মেলা

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১২ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ০৮:৪৪ অপরাহ্ণ

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
রাউজান উপজেলার দু’শ বছরের ঐতিহাসিক প্রাচীন নিদর্শন মহামুনি বিহার প্রাঙ্গনে প্রতিবারের ন্যায় আগামী ১৩ এপ্রিল হতে অনুষ্ঠিত হবে মহামুনি মেলা। চৈত্র সংক্রন্তিতে বর্ষ বিদায় ও পহেলা বৈশাখে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী আদিবাসী সম্প্রদায় ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠন গুলোর পরিবেশনায় থাকছে সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজন। এই সব আয়োজনের মধ্যে থাকছে আলোচনা সভা, গুণীজন ও কৃতি সংবর্ধনা, সংগীতানুষ্ঠান, নাটক, মুখাভিনয় সহ ব্যতিক্রমধর্মী মনোজ্ঞ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ইতোমধ্যে মেলার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন মেলা উদযাপন পরিষদ। শেষ মুহূর্তে মেলা প্রাঙ্গাণে পণ্যের স্টল স্থাপনের কাজ চলছে বেশ জোরে শোরে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ‘চাইঙ্গা ঠাকুর’ নামের এক বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুএই বিহারে ১৮০৫ মতান্তরে ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে মহামুনি অর্থাৎ মহামানব গৌতম বুদ্ধের মুর্তি স্থাপিত হয়েছে বলে এর নামকরণ করা মহামুনি মন্দির। এই মন্দিরটির কারণে মহামুনি গ্রাম ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ ধর্মারম্বীদের নিকট পবিত্র তীর্থ স্থানে পরিণত হয়। মহামুনি মন্দিটিকে কেন্দ্র করে মং সার্কেল রাজা ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে মহামুনি মন্দির চত্বরে মেলার প্রবর্তন করেন। যা বাংলা চৈত্র মাসের শেষ তারিখ থেকে শুরু হয়। এ মেলাটি মহামুনি মেলা নামে পরিচিতি লাভ করে। জানা যায়, একসময় মহামুনি মেলা এতই জনপ্রিয়তা লাভ করে যে অবিভক্ত বাংলায় পশ্চিমবঙ্গ হতেও এখানে জনসমাগম ঘটেছে।
মেলার প্রথমদিনে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী উপজাতি আবাল বৃদ্ধা-বণিতা বিভিন্ন যানবাহনে করে উৎসব প্রাঙ্গণ মহামুনি মন্দিরে বুদ্ধের কৃপা নিতে আসতে থাকবে। পূজা দিয়ে ও আনন্দ উল¬াস করে পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করে নেন তারা। জনশ্র“তি আছে, মেলায় উপজাতিরা পারিবারিক ভাবে পাত্র-পাত্রী পছন্দের মাধ্যমে একে অপেরর সাথে আত্মীয় বন্ধন সৃষ্টি করে। এই দিন বিশৃঙ্খলা এড়াতে মন্দির প্রাচীরে বিশেষ অনুমতি ব্যতিত বাঙ্গালী সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। তবে মেলা প্রঙ্গাণে পাহাড়ি-বাঙ্গালীর মহা মিলনে জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়।পুণ্যার্থীদের স্বাগত জানাতে নানা আয়োজন করেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ।
আদিবাসীদের কর্মসূচী সম্পর্কে মহামুনি গ্রাম উন্নায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু অনুপম বড়–য়া বাবুল দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, পুণ্যার্থীদের স্বাগত জানাতে নানা আয়োজন করেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। আগামী শুক্রবার আদিবাসীরা এখানে সকাল থেকে রাতভর অবস্থান করেন। সন্ধ্যায় তারা মহামুনি মন্দিরে পুজার মাধ্যমে বাংলা বর্ষকে বিদায় জানিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি পালন করেন। রাতে স্বনাম খ্যাত বিভিন্ন শিল্পী গোষ্ঠীর পরিবেশনায় থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।এটি দেশ বিদেশের পাহাড়ি উপজাতিদের এক মহা মিলন মেলা।
মেলার আয়োজন সম্পর্কে মেলা উদযাপন পরিষদের সচিব ও স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন বড়–য়া দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, মেলার সকল প্রস্তুতি আমরা সম্পন্ন করেছি। আদিবাসীদের এবার দশটি স্থায়ী টয়লেট সহ কিছু ভাসমান টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। উপজাতিদের অনুষ্ঠান স্থলে পর্যাপ্ত সুপেয় পানি ও আলোকসজ্জ্বার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাত্রি যাপনের জন্য সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রশাসনের সহযোগীতায় নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দ্বারা নিরপত্তা বেষ্টণী তৈরি করা হবে।
ইতোমধ্যে এই মহামুনি মেলাকে ঘিরে মন্দির চত্বরে বিভিন্ন কারু শিল্প, হস্তশিল্প, রকমারি প্রসাধনী, হরেক রকম মিষ্টান্ন দ্রব্যাদি. মৌসুমী ফলফলাদি ও খাবার হোটেলসহ রকমারি জিনিসের ষ্টল নির্মান করতে শুরু করেছে বিক্রেতারা। মন্দিরের এই উৎসবকে ঘিরে পাহাড়তলীতে গোটা এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে আনন্দ উৎসব। ১৭৪ বছরের প্রাচীণ এই মেলাটি চলবে সপ্তাহব্যাপী। অতীতে নানা উৎসবের মধ্যদিয়ে আয়োজিত মাসব্যাপী মেলাটি জৌলুস কালের আবর্তে কিছুটা স্তিমিত। তবুও মেলাটি নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই পাহাড়ী-বাঙ্গালী সম্প্রদায়ের কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও বৃদ্ধদের মাঝে। স্থানীয় সংগঠনগুলোতে সদস্যগুলোদের চলছে নৃত্য, গান আর নাটকের অনুশীলন। বর্ষ বরণের প্রস্তুতি ব্যস্ত সময় পার করছেন মহামুনি তরুণ সংঘ, মহামুনি সংস্কৃতি সংঘ, মহামুনি গ্রাম উন্নয়ন পরিষদ, মহামুনি মন্দির উন্নয়ন ও সংরক্ষণ কমিটি ও ত্রৈমাসিক জ্ঞানালোর কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ।
স্থানীয় সংগঠন গুলোর বর্ষবরণ প্রসঙ্গে মহামুনি তরুণ সংঘের সভাপতি প্রকৌশলী মিল্টন বড়–য়া দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, আগামী শনিবার পহেলা বৈশাখ সকালে স্থানীয় সংগঠন গুলোর যৌথ উদ্যোগে মন্দির অভিমুখী শোভাযাত্রার মাধ্যমে বর্ষবরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সকাল ১০ টায় মহামুনি বটমূল খ্যাত ফণী-তটি মঞ্চ স্থানীয় সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় হবে মুক্তাঙ্গণ অনুষ্ঠান। একই স্থানে পর্যায়ক্রমে চলতে থাকবে স্থানীয় সংস্থা গুলোর বৃত্তি প্রদান, গুণিজন ও কৃতি সম্বর্ধনা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ নানা কর্মসূচী। সপ্তাহব্যাপী চলবে এই আয়োজন। এর মধ্যে উলে¬খযোগ্য ১৫ এপ্রিল মহামুনি তরুণ সংঘ আয়োজনে এশিয়ার প্রথম ডি-লিট ডিগ্রী প্রাপ্ত দার্শনিক ডক্টর বেণী মাধব বড়–য়া স্মৃতি অর্পণ ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।
রাউজান থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেফায়েত উল¬াহ জানান, ঐতিহ্যবাহী মহামুনি মন্দির ও মেলা সমগ্র বাংলাদেশে সুপরিচিত প্রাচীণ নিদর্শন। এখনও (৯ এপ্রিল) মেলা কতৃপক্ষ আমাদের কিছু জানাই নি। তবুও নিরাপত্তার জন্য মেলায় ইউনিফর্ম ও সাদা পোষাকে পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। মেলায় কোন ধরনের মদ, জুয়ার আসর চলতে দেওয়া হবে না।
এছাড়া ও রাউজানে বাংলা নবর্বষ উপলক্ষে পশ্চিম গহিরা সর্তার ঘাট এলাকায় ২১ দিন ব্যাপী বৈশাখী মেলা ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হবে । বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাউজান বিশ্বিবিদ্যালয় কলেজ মাঠে ১৪ এপ্রিল শনিবার বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা অনুষ্টিত হবে । বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাউজান উরকিরচর আবুল খীল ঢাকাখালী এলাকায় ২ ুিদন ব্যাপী বৈশখী মেলা অনুষ্টিত হবে । রাউজানের উত্তর হিংগলা এলাকায় বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে নিশি মাতব্বর মেলা অনুষ্টিত হবে ।


আরোও সংবাদ