১৩৭ বছর ধরে আলো ছড়িয়ে চলেছে পূর্ণ চন্দ্র সেন স্কুল

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর , ২০১৭ সময় ১১:০০ অপরাহ্ণ

পূজন সেন, বোয়ালখালী:
সারোয়াতলী পূর্ণ চন্দ্র সেন উচ্চ বিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যম-িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৩৭ বছরের গৌরবে সৌরভে সংস্কৃতিতে ও ক্রীড়ায় রতœপ্রসবিনী এ প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৮০ সালে।

৭ একর ৬৪ শতক নিজস্ব ভুমি নিয়ে এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সারোয়াতলী সেন পরিবারে সন্তান চট্টগ্রামের প্রথম ব্যারিষ্টার পূর্ণ চন্দ্র সেন। ১৯২০ সালের পূর্বে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী স্বীকৃতি পায় এ বিদ্যাপীঠ।

এ প্রতিষ্ঠান তৎকালীন সময়ে অজ্ঞতার অন্ধকার ভেদ করে গড়ে তুলে এক শিক্ষিত প্রজন্মের। কালে কালে সমুজ্জ্বল এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলোক দ্বীপ্তি ছড়িয়ে চলেছে বিদ্যার্থীদের মাঝে।

গাছগাছালিতে সুশোভিত নয়নাভিরাম ছায়া সুনিবিড় এ বিদ্যাপীঠের রয়েছে সুবিশাল মাঠ, দুইটি পুকুর ও প্রতিষ্ঠালগ্নের টিনের ছাউনিযুক্ত দীর্ঘ বিদ্যালয় ভবনে চলে পাঠদান। পরবর্তী সময়ে আরো একটি একতলা বিশিষ্ট ভবন ও একটি দ্বিতল ভবন নির্মিত হয়। সব মিলিয়ে ৩০টি কক্ষ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে অধীনে ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ভোকেশনালে বর্তমানে একহাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছে এ বিদ্যালয়ে।

বর্তমানে ১৮ জন শিক্ষক নিয়মিত পাঠদান করে চলেছেন। এর মধ্যে ১১ জন এমপিও ভুক্ত ও ৭ জন প্রাতিষ্ঠানিক সম্মানিতে শিক্ষকতা করছেন। এছাড়া ১জন অফিস সহকারি, ১ জন লাইব্রেরিয়ান ও ১ জন কর্মচারি রয়েছেন।

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে পাঠাগার, বিজ্ঞানাগার, সুপরিসরে মাল্টিমিডিয়া সেন্টার, দৃষ্টিনন্দন অডিটোরিয়াম, এবাদতখানা, পৃথক আধুনিক টয়লেট ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা। এসব কিছুই বিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত বলে জানান প্রধান শিক্ষক মো.কামরুল হাসান।

তিনি জানান, এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রয়েছে ঈর্ষনীয় ফলাফল। গত ২০১২ সালে জুনিয়র স্কুল সাটিফিকেট (জেএসসি) শতকরা পাশের হার ৭৭.১। এসএসসিতে ৯৭.৯২ ও ভোকেশনালে পাশের হার শতভাগ। ২০১৩ সালে জেএসসিতে শতকরা পাশের হার ৯৯.২। এসএসসিতে ৯৫ ও ভোকেশনালে শতভাগ। ২০১৪ সালে জেএসসিতে শতকরা পাশের হার ৯৮.৮১। এসএসসিতে ৯৮.৬৫ ও ভোকেশনালে ৯৭.৩৭। ২০১৫ সালে জেএসসিতে শতকরা পাশের হার ৯৬.৯৬। এসএসসিতে শতকরা পাশের হার ৯৮.৭৩ ও ভোকেশনালে শতভাগ। ২০১৬ সালে জেএসসিতে শতকরা পাশের হার ৮০.৫৪। এসএসসিতে ৯৭.৫০ ও ভোকেশনালে ৯৮.৭। ২০১৭ সালে এসএসসিতে শতকরা পাশের হার শতভাগ ও ভোকেশনালে ৭৮.৪।

সহকারি প্রধান শিক্ষক দিলীপ কুমার মল্লিক বলেন, বিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নেই চলছে কার্যক্রম। ২০০৬ সালে একটি দ্বিতল ভবন সরকারিভাবে নির্মাণ করা হয়। এরপর এক দশকেও সরকারি বেসরকারি কোনো অনুদান পায়নি এ বিদ্যাপীঠ।

সকল যোগ্যতা থাকা পরও শতবর্ষী এ বিদ্যাপীঠের নাম জাতীয়করণ তালিকায় ঠাঁই পায়নি বলে জানান বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শৈবাল দাশ।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ ছাত্র মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, এ বিদ্যালয় নিরবে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে গেলেও সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।