১২ মন্ত্রী ও নেতার অর্থ নেওয়া ফাঁস

প্রকাশ:| সোমবার, ১৪ মার্চ , ২০১৬ সময় ১০:৪৭ অপরাহ্ণ

১২ মন্ত্রী ও নেতার অর্থ নেওয়া ফাঁসনির্বাচনের ঠিক এক পক্ষকাল আগে ভারতের একটি ওয়েবসাইটের প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে তৃণমূল কংগ্রেসের ১২ মন্ত্রী ও নেতার অর্থ নেওয়া ফাঁস হওয়ায় রাজনীতিতে প্রবল শোরগোল তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এনে ভিডিওটি প্রকাশ করেছে নারদ নিউজ । ভিডিওতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, মন্ত্রী ও সাংসদদের টাকা নেওয়ার ছবি দেখা গিয়েছে। নারদ নিউজের ম্যাথু স্যামুয়েল ও এঞ্জেল আব্রাহামের নেতৃত্বে ২০১৪ সালে স্টিং অপারেশন চালিয়ে এই ঘুষ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছে। নারদ নিউজের দাবি, তাদের কাছে স্টিং অপারেশনের ৫২ ঘণ্টার ফুটেজ রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের এই দুর্নীতি ফাঁস হওয়ার পরই পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করেছেন। এমনকি তদন্ত করার আগে নির্বাচন বন্ধ রাখারও দাবি জানানো হয়েছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেছেন, ভিডিও দেখেছি। এটা জাল ভিডিও। তৃণমূল কংগ্রেসকে কালিমালিপ্ত করার জন্য নোংরা রাজনীতি চলছে। যে সংস্থা এই ভিডিও তৈরি করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে ডেরেক জানিয়েছেন। তবে সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র সাংবাদিক বৈঠক করে বলেছেন, স্টিং অপারেশনে যা দেখা যাচ্ছে, ভয়ঙ্কর। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা মানুষের হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা লুট করেছে। নির্বাচনের মুখে এত বড় ঘটনা সামনে এল। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। প্রয়োজনে নির্বাচন স্থগিত রাখা হোক। ততদিন রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন চলুক। প্রদেশ কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেছেন, এই ঘটনা সামনে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার আর কোনো অধিকারই নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অবিলম্বে আমরা মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা চাইছি। নির্বাচন কমিশনেও যাচ্ছি পুরো বিষয়টি জানাতে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা সিদ্ধার্থনাথ সিংহ সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, মা-মাটি-মানুষের নাম করে যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন, তাদের আসল চেহারা বেরিয়ে পড়েছে। কংগ্রেসের গর্ভ থেকে এই তৃণমূলের জন্ম। দুর্নীতিগ্রস্ত হতে কংগ্রেসের সময় লেগেছিল ৫০ বছর। তৃণমূল কংগ্রেস পাঁচ বছরেই সেই জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। বিজেপির তরফেও অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে।
স্টিং অপারেশন নিয়ে নারদ নিউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইমপেক্স কনসালটেন্সি নামে একটি ভুয়া বাণিজ্যিক সংস্থা তৈরি করে তারা। তারপর সেই সংস্থার প্রতিনিধি সেজে তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নারদ নিউজের প্রতিনিধিরা। ইমপেক্সের ব্যবসার কাজে সাহায্য চাওয়া হয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের কাছ থেকে। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, হাতে হাতে লক্ষ লক্ষ রুপি ঘুষ নেওয়ার পর ইমপেক্সকে নানারকমভাবে সাহায্য করার আশ্বাস দিচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। ভিডিওতে যে নেতাদের টাকা নিতে দেখা গিয়েছে, তারা হলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সুলতান আহমেদ, সৌগত রায়, শুভেন্দু অধিকারী, কাকলি ঘোষদস্তিদার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, ইকবাল আহমেদ। এদের প্রত্যেককেই ৪ লক্ষ বা ৫ লক্ষ রুপি দেওয়া হয়েছে বলে ভিডিওতে দেখানো হয়েছে। ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ দেওয়ার ব্যাপারে মুকুল রায়ের সঙ্গে কথা হচ্ছে গোপন ক্যামেরার পিছনে বসে থাকা ব্যক্তিদের। মুকুল রায় টাকা নিজের হাতে নিচ্ছেন না। তার ঘনিষ্ঠ আইপিএস এসএমএইচ মির্জার কাছে টাকা পৌঁছে দিতে বলছেন। তারপর এসএমএইচ মির্জা হাতে হাতে টাকা নিচ্ছেন, এমন ছবি দেখা গিয়েছে ভিডিওতে। ববি হাকিমও স্টিং অপারেশনের আওতায় এসেছেন। তবে তাকেও নিজের হাতে টাকা নিতে দেখা যায়নি। পাঁচ লক্ষ টাকা নিজের এক বিশ্বস্ত যুবকের হাতে অন্য ঘরে গিয়ে তিনি তুলে দিতে বলছেন।