১২ দফা দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলনে অচল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যাল

প্রকাশ:| শনিবার, ২৪ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৬:৩২ অপরাহ্ণ

ja be j u১২ দফা দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে টানা চতুর্থ দিনের মতো নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন। বুধবার সকাল ১১টা থেকে তার নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন আন্দোলনরত ‘সাধারণ শিক্ষক ফোরাম’।

আজ (শনিবার) থেকে সাধারণ শিক্ষক ফোরামের ডাকা সর্বাত্মক ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। বেলা ১১ টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষক ফোরামের সদস্য সচিব অধ্যাপক কামরুল আহসান জানান, “ভিসি বার বার আমাদের আন্দোলনকে কতিপয় শিক্ষকদের আন্দোলন বলছেন। অথচ ইতোমধ্যে আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ ও ভিসির পদত্যাগ দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ শিক্ষক। এর মধ্যে শিক্ষক সিনেট সদস্য ৩২ জনের মধ্যে ২৯ জন রয়েছে। নির্বাচিত সিনেট ৬ জনের মধ্যে ৫ জন রয়েছে। বিভিন্ন অনুষদের ৬ জন ডীনের মধ্যে ৫ জন স্বাক্ষর করেছেন। ১৫ জন হল প্রভোস্টের ১২ জন রয়েছেন। ৩৪ জন বিভাগীয় সভাপতির মধ্যে ২৫ জন আমাদের সঙ্গে আছেন। অথচ কিছু স্বার্থবাদী শিক্ষক ছাড়া ভিসির পক্ষে অন্য কোন শিক্ষক নেই।”

সংবাদ সম্মেলনের পর বেলা ১২ টার দিকে শতাধিক শিক্ষক ভিসির পদত্যাগ দাবিতে কালো পতাকা ধারণ করেন।

এদিকে, ভিসি আনোয়ার হোসেন আবারও পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি একজন নির্বাচিত ভিসি। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আমি পদত্যাগ করব না। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের কথা বিবেচনা করে শিক্ষকদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের কাছে শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচার, ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটায়’ অমুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে ভর্তি, অযোগ্য প্রার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বানানো, শিক্ষকদের সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য, গণমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে অশালীন ও আপত্তিকর বক্তব্য, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করা, ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম, সিন্ডিকেট সদস্যকে অপমান করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট ১২টি অভিযোগে ভিসির পদত্যাগের এক দফা দাবিতে শিক্ষক সমিতি আন্দোলনে নামলে হাইকোর্টের একটি রিট আবেদনের মাধ্যমে ওই আন্দোলনের ওপর রুল জারি করা হয়। এ অবস্থায় ৩০শে জুলাই থেকে শিক্ষক সমিতি প্রশাসনিক ভবন থেকে অবরোধ তুলে নিলেও শিক্ষকদের নবগঠিত প্লাটফর্ম ‘সাধারণ শিক্ষক ফোরাম’ তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে।

গত বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদ, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, জীববিজ্ঞান অনুষদ, গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের অধিকাংশ বিভাগে কোন ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজে স্থবিরতা বিরাজ করছে। নিয়মিত সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক না হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতি হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের (২০১৩-১৪) অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট পাস হয়নি, যার কারণে বিশ্ববিদ্যায়ের অর্থনৈতিক কাজে সৃষ্টি হচ্ছে নানা ধরনের জটিলতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগে নির্দিষ্ট সময়ে ফাইনাল পরীক্ষা হওয়া নিয়ে শঙ্কায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নিয়মিত একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক না হওয়াতে নতুন (২০১৩-১৪) শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা যথাসময়ে নেয়া সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।