১২ জনের সঙ্গে জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে-র‌্যাব

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ১০:৫৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার একটি মাদরাসা থেকে আটক ২৫জনের মধ্যে ১২ জনের সঙ্গে জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ন(র‌্যাব)।
Capture
ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে জঙ্গীদের তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো বলে অভিযোগ র‌্যাবের। এছাড়া তাদের সঙ্গে আল কায়েদা জঙ্গী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা থাকতে পরে বলেও ধারণা করছে র‌্যাব।

তবে আটককৃতদের দাবি, তারা এখানে পড়তে এসেছেন। তাদের সঙ্গে কোন জঙ্গী সংশ্লিষ্টতা নেই।

শুক্রবার বিকালে পতেঙ্গা র‌্যাব-৭ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।

র‌্যাব-০৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন,‘দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দরিদ্র পরিবারের ছেলেদের বাছাই করে হাটহাজারীতে নিয়ে আসা হয়। তারপর তাদেরকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্যাতিত মুসলমানদের ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে জেহাদে উদ্বুদ্ধ করা হয়। পরে একে-৪৭ রাইফেল চালনার কৌশল, আইএস, আল নুসরা, আল কায়েদা, হামাস, হিজবুল্লাহ, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত এসএসএফের প্রশিক্ষণের ভিডিও দেখানো হয়। এসব ভিডিও ফুটেজ আমরা উদ্ধার করেছি।’

তিনি বলেন,‘প্রাথমিক পর্যায়ে তারা এখানে তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ নিতেন। পরবর্তীতে হাতে কলমে প্রশিক্ষণের জন্য অন্য কোথাও নেওয়া হতে পারে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’

মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন,‘সন্দেহজনকভাবে ২৫জনকে আটক করা হয়েছিল। এদের মধ্যে থেকে ১২জনের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের প্রত্যেকের কাছে একটি করে মেমোরি কার্ড রয়েছে। তারা এসব ভিডিও ফুটেজ সেখানে লুকিয়ে রাখতো। এসব মেমোরি কার্ড থেকে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ৬২ জিবি ডাটা উদ্ধার করা হয়েছে। নিজেদের মধ্যে তারা কখনো মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতো না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তারা যোগাযোগ করতো এবং কথা বলা শেষে তা মুছে দিত। যার কারণে তাদের সনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

র‌্যাব অধিনায়ক বলেন,‘আল কায়েদা উপমহাদেশে ঘাঁটি গাড়ার যে ঘোষণা দিয়েছে, এর সঙ্গে আটকৃতদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদেরকে টিএফআই সেলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য র‌্যাবের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হবে।’

আটকৃতদের দাবির বিষয়ে র‌্যাব অধিনায়ক বলেন,‘তারা যদি আরবী সাহিত্য শিখতে আসে তাহলে তাদের কাছে কেন একে-৪৭ চালানোর ভিডিও, বিমান অপহরণ ও শিশুদের অস্ত্র চালনার ভিডিও থাকবে? জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বিস্তারিত বেরিয়ে আসবে।’

তবে আটকৃতদের কারা জড়ো করেছে? এর পৃষ্টপোষক কারা? এদের প্রশিক্ষকই বা কে? কতদিন ধরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে? এধরণের গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রশ্নের জবাব মেলেনি।

তবে র‌্যাব অধিনায়কের দাবি,‘মো. ফাত্তাহ নামে একজন এ মাদরাসার প্রধান। তাকে গ্রেফতার করা হলে সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

আটকৃতরা হলেন- শেরপুর জেলার শেরপুর থানার নাকপাড়া গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমান ইবনে আসাদউল্লাহ (২৩), মুন্সিগঞ্জ জেলার টুঙ্গীবাড়ি থানার কামার বাড়ি গ্রামের ইদ্রিস মোল্লার ছেলে ওসমান গনি (২০), শেরপুর জেলার সদর থানার বাগরাবাশা গ্রামের মো. কাজী মহিউদ্দিনের ছেলে মোস্তাকিম বিল্লাহ মাশরুর (২১), ভোলা জেলার লালমোহন থানার ভোলা গ্রামের নাজমুল হোসেনের ছেলে মো. নাবিল হোসাইন (১৯), চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম চেচুরিয়া আবুল শামার ছেলে মো. সিরাজুল মোস্তফা সোলাইমান (১৯), পাবনা জেলার আলিমপুর থানার সাগরকান্দি গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে শামিম হোসাইন ইসমাঈল (১৮), ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর থানার হিম্মত নগর গ্রামের আবিদ আলীর ছেলে মাহমুদুল হাসান (২২), নেত্রকোনা জেলার সদর থানার পাঁচাশি গ্রামের আব্দুল ওক্কাছের ছেলে মো. ইউসুফ (২৩), গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানার মো. মুরাদুল ইসলাম শেখের ছেলে শফিকুল ইসলাম শেখ সালাউদ্দীন (১৯), জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার চোনারচর গ্রামের শুকুর মাহমুদের ছেলে রফিকুল ইসলাম যুবায়ের (১৯), গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানার মৃত আবাবর শেখের ছেলে আব্দুল কাইয়ুম শেখ মানছুর ইসলাম (১৮), শেরপুর জেলার শ্রীবর্দ্দী থানার কুড়ি কাছনীয়া গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে মো. হারুনুর রশিদ (১৯)।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার আলীপুর সুলতান আহমেদ সড়কের সাফিনা ভবন থেকে ২৫ জনকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১৩জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।