১২দিন পর শ্যালা নদীতে জাল: কাঙ্ক্ষিত মাছ বা কাঁকড়া মিলেনি

প্রকাশ:| সোমবার, ২২ ডিসেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

অবশেষে ১২দিন পর শ্যালা নদীতে জাল ফেললেন মাছ, কাঁকড়া শিকারীরা। তবে কাঙ্ক্ষিত মাছ বা কাঁকড়া পাওয়া যাচ্ছে না। শিকারীদের ধারনা, মাছসহ অন্য জলজ প্রাণি স্থান পরিবর্তন করেছে। শিকার না পাওয়ায় হতাশ মৎস্যজীবীরা।

গত ৯ ডিসেম্বর শ্যালা নদীতে সাড়ে তিন লাখ লিটার ফার্নেস ওয়েলবাহী ট্যাংকার ডুবির ঘটনার পর থেকে শিকারীদের জাল পড়েনি নদীতে।

শ্যালা নদীতে প্রায় ১৪ বছর ধরে কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন জয়মনি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক সরদার (৫৫)। তিনি বলেন, যেদিন জাহাজ ফেটে নদীতে তেল ভেসে যায় সেদিনও ভোরে আমি আমার ভাগ্নে রবিউল মল্লিককে (৩২) নিয়ে শ্যালা নদীর সংযোগ খাল উড়ুবুনয়া খালে চার (খাবার) দিয়ে চারো (কাঁকড়া ধরার জাল ও বাঁশ দিয়ে তৈরি এক প্রকারের খাঁচা) পেতেছিলাম। বেলা বাড়লে দেখতে পাই আলকাতরার মতো কি যেন নদীর পানিতে ভাসছে। ওই কালো জিনিস সারা নৌকায় লেগে যায়। পরে জানতে পারি সেটি এক প্রকারের তেল। এরপর থেকে গত ১২দিন নদীতে আর চারো ফেলিনি।

তিনি বলেন, কাকঁড়া শিকার করাই আমার একমাত্র আয়ে পথ। এ কয়দিন ধার দেনা করে খেয়ে না খেয়ে দিন কেটেছে।
শ্যালা নদীতে জাল
নৌকায় থাকা রবিউল মল্লিক বলেন, আজ (সোমবার) ভোরে চারো পেতে দুপুর পর্যন্ত মাত্র কয়েকটি কাঁকড়া পেয়েছি। অথচ আগে (ট্যাংকার দুর্ঘটনার পূর্বে ) এ সময়ের মধ্যে অন্তত একশ কাঁকড়া পেয়েছি।

জয়মনি গোলের চরে নৌকায় বসে কাঁকড়ায় সুতা বাঁধছিলেন বয়োবৃদ্ধ আব্দুল কাদের(৬৫)। তিনি বলেন, সোমবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত মাত্র ৫০টির মত কাকঁড়া ধরতে পেরেছি। কিন্তু আগে ঝুড়ি ভরে যেত। দুই একটি কাকঁড়ায় এখনও তেল লেগে আছে। তিনি বলেন, রোববারও মরা কাকঁড়া চরে আটকে থাকতে দেখেছি। বর্তমানে নদীতে তেমন তেল ভাসতে দেখা না গেলেও কাঁকড়া তেমন একটা পাওয়া যাচ্ছে না। মনে হয় তারা এলাকা ছেড়ে গেছে। জানি না কবে তা স্বাভাবিক হবে।

জয়মনি গ্রামের আসাদুল ইসলাম (৩৪) বলেন, এখন বাগদা পোনা ধরার ভর মওসুম চলছে। কিন্তু নদীতে নেট ( ঘন কারেন্ট জাল) ধরতে পারছি না। সকালে নেট টেনেছিলাম কিন্তু একটি বাগদা পোনাও পাইনি। এমনকি অন্য সময়ে ছোট ছোট চিংড়িসহ অন্যান্য মাছের বাচ্চা উঠত কিন্তু তাও দেখা যায়নি। জানি না এ অবস্থা থেকে কবে মুক্তি পাব বা আদৌ পাব কিনা।

আসাদুল বলেন, শ্যালা নদীর পাশে বনে হরিণ, বানর ও শুকর খাবার খেতে আসতো। ট্যাংকার ডুবে যাওয়ার পর থেকে আর তাদের দেখা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে চাঁদপাই রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, বর্তমানে কাঁকড়া ধরার মওসুম শুরু হয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে কাঁকড়া প্রজনন মওসুম শুরু হচ্ছে। সে সময়ে কাকঁড়া শিকার বন্ধ থাকবে। গত কয়েকদিন নদীতে কাকঁড়ার পাশ নেয়া জেলেরা শিকার ধরতে পারেনি।

কামাল হোসেন বলেন, শ্যালা নদীর পানি এখন স্বাভাবিক। আর কোথাও তেল ভাসতে দেখা যাচ্ছে না।


আরোও সংবাদ