‘১১৬৮টি কন্টেইনার ছাড়াই বন্দর ছেড়েছে ৫টি জাহাজ’

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বুধবার, ৮ আগস্ট , ২০১৮ সময় ১০:৫৪ অপরাহ্ণ

সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাল্টায় পরিবহন ধর্মঘটের প্রভাবে রপ্তানিযোগ্য এক হাজার ১৬৮টি বক্স কন্টেইনার ছাড়াই পাঁচটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগ করেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

বুধবার নগরীর দক্ষিণ খুলশীতে বিজিএমইএ ভবনের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় সংগঠনের নেতারা এ কথা বলেন।

সভায় বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি মঈনউদ্দিন আহমেদ মিন্টু বলেন, সুশৃঙ্খল শান্তিপূর্ণ আন্দোলন থেকে শিক্ষার্থীরা ফিরে গেল। কিন্তু দুঃখের বিষয় পরের দুইদিন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ধর্মঘটে জনজীবনের পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যও বিঘ্নিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প। আমদানি করা পণ্য বন্দর থেকে নেওয়া সম্ভব হয়নি এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্য জাহাজীকরণের জন্য সময়মত বন্দরে পৌঁছানো যায়নি।

তিনি বলেন, পণ্য জাহাজীকরণে ব্যর্থ হওয়ায় ডিসকাউন্ট দিতে হবে এবং বেশি ভাড়ায় বিমানযোগে পাঠাতে হবে। এজন্য বন্দরে জট এবং বর্হিবিশ্বে ইমেজ সংকট সৃষ্টি হয়। ক্রয়াদেশ অন্য দেশে চলে যায়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আমাদের এজন্য ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। মোট ক্ষতির পরিমাণ কত তা সংশ্লিষ্ট পণ্য মালিকদের কাছ থেকে তথ্য পেলে প্রকাশ করব।

পোশাক শিল্পে ৪৫ লাখ শ্রমিক ও দুই থেকে আড়াই কোটি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত জানিয়ে মঈনউদ্দিন আহমেদ মিন্টু বলেন, সামনে ঈদুল আজহা আসছে। আমাদের তো নির্ধারিত সময়ে বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে হয়। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে পরিবহনের ঘোষিত ও অঘোষিত ধর্মঘটে ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিকারকদের পক্ষে সময়মত মজুরি পরিশোধ কষ্ট সাধ্য হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপত্তার সাথে ব্যবসা করতে চাই। আশা করি কেউ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা না করে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সবাই মিলে কাজ করব।

মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু বলেন, বন্দরের ধারণক্ষমতা ৪৮ হাজার টিইইউস। দুই বছর আগে ধারণক্ষমতা ছিল ৩৭ হাজার টিইইউস। গত মঙ্গলবার কনটেইনার ছিল ৪৩ হাজার ৫০৭ টিইইউস। তাছাড়া ফেলে যাওয়া কনটেইনারের বিপরীতে বায়াররা ডিসকাউন্ট ও এয়ার শিপমেন্ট চাইছে। প্রধানমন্ত্রীকে আমরা ধন্যবাদ জানাই, এই জন্য যে, চট্টগ্রাম বন্দরের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী রপ্তানির ক্ষেত্রে সপ্তাহে সাত দিন বন্দর, কাস্টম, ব্যাংক, বিমাসহ লজিস্টিক সাপোর্টের ব্যবস্থা করেছেন। বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। বে টার্মিনালের নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করতে হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ফেরদৌস, পরিচালক মো. সাইফ উল্লাহ, আমজাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।


আরোও সংবাদ