১০৫টি নতুন আর্টিকুলেটেড বাস নামানো হবে

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শুক্রবার, ১২ জানুয়ারি , ২০১৮ সময় ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

বিমানবন্দর থেকে সায়েদাবাদ এবং কুড়িল থেকে পূর্বাচল সড়কে নতুন বাস সেবা চালু করতে চায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এই দুই রুটে ১০৫টি নতুন আর্টিকুলেটেড বাস নামানো হবে। পূর্বাচলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নকশায় রাখা ডিপোতে বাসগুলো রাখা হবে।

গত রোববার নগর ভবনে অনুষ্ঠিত ডিটিসিএর পরিচালনা পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন বাসগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নয়, সরকার–নিয়ন্ত্রিত একটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আহম্মদ। তিনি বলেন, ‘আমরা ডোনার (দাতা) খোঁজার কাজ শুরু করেছি। এরপর কোম্পানি গঠন ও বাসমালিকদের সঙ্গে কথা বলা হবে।’

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বা কয়েকটি কোম্পানির মাধ্যমে নগরের বাস সেবা চালুর সুপারিশ করা হয়েছিল। এখান থেকে ধারণা নিয়েই রাজধানীতে চার হাজার নতুন বাস নামানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। এর বাস্তবায়নে তিনি কিছুটা এগিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর অকালমৃত্যুতে সেই উদ্যোগ থমকে গেছে। ডিটিসিএ যা করছে, সেটি সেই উদ্যোগেরই সংক্ষিপ্ত রূপ।

ডিটিসিএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীর বাস পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা করার জন্য ‘ঢাকা বাস নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’ গঠন করা হবে। এই কোম্পানি অপারেটরদের সঙ্গে চুক্তি, বাস সার্ভিস ফ্রিকোয়েন্সি নির্ধারণ ও ভাড়া আদায়ের কাজ করবে।

পরীক্ষামূলক রুট হিসেবে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার এবং কুড়িল থেকে পূর্বাচল ২ নম্বর সেক্টর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই পথে মোট ২৭ কিলোমিটার সড়কে ১৬টি স্টেশন থাকবে।

বিমানবন্দর থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত পথে স্টেশনগুলো হবে বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, কুড়িল, নদ্দা, নতুন বাজার, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, বাসাবো, কমলাপুর ও সায়েদাবাদ।

কুড়িল থেকে পূর্বাচল ২ নম্বর সেক্টরে পর্যন্ত স্টেশনগুলো হবে কুড়িল, বসুন্ধরা, মাস্তুল, ইউসুফগঞ্জ ও পূর্বাচল ২ নম্বর সেক্টর।

ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আহম্মদ বলেন, ‘আগে আমরা ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে চাচ্ছি। আনিসুল হক সাহেব যে ক্ষেত্রটা প্রস্তুত করেছিলেন, যেকোনো কারণেই হোক, সেটি সেই অবস্থায় আর নাই। এখন নতুন করে আবার তাঁদের (বাসমালিক-শ্রমিক) সঙ্গে কথা বলতে হবে। তাঁদেরকে আস্থায় আনতে হবে। সঠিকভাবে চললে এটি অপারেটরদের জন্যও লাভজনক ব্যবসা হবে।’

ডিটিসিএর তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত নির্ধারিত করিডরে এখন ২১টি রুট আছে। এতে ২১টি প্রতিষ্ঠানের ৯ শতাধিক বাস চলাচল করে। ডিটিসিএর কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হলে এই বাসসংখ্যা ১০৫–এ নেমে আসবে।

বাসের সংখ্যা কমলে যাত্রীর চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় সম্ভব হবে কি না জানতে চাইলে সৈয়দ আহম্মদ বলেন, বাসের সংখ্যা কমলে বাসের গতি বেড়ে যাবে। এখন এই করিডরে বাসের গতি ঘণ্টায় ৫-৭ কিলোমিটার। এটি বেড়ে হবে ১৫-১৭ কিলোমিটার। ফলে কম বাসে বেশি ট্রিপ দেওয়া যাবে। যাত্রী পরিবহনে সমস্যা হবে না, অপারেটরও লাভবান হবেন।

১০৫টি বাসই নতুন হবে কি না জানতে চাইলে সৈয়দ আহম্মদ বলেন, নতুন না হলে সার্ভিস ভালো হবে না। সার্ভিস ভালো না হলে যাত্রীরা আকৃষ্ট হবেন না। ভালো যাত্রীসেবা দিলেই মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি ছেড়ে বাসে উঠবেন। আর ব্যক্তিগত গাড়ি কমলে যানজট কমবে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, অতিরিক্ত বাস ও রুটসংখ্যাও যানজটের কারণ। কোনো ধরনের সমীক্ষা ছাড়া অপেশাদারিভাবে রুট নির্ধারণ এবং যাঁকে খুশি তাঁকে বাস চালানোর অনুমতি দেওয়ার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ডিটিসিএর প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাসচালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে না। চালক হবেন বেতনভুক্ত। ফলে যাত্রীসেবার মান বাড়বে। যাত্রী নিয়ে চালকের কোনো চিন্তা থাকবে না। ঢাকা চাকার মতো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বাস দাঁড়াবে এবং সেখান থেকেই যাত্রীরা উঠবেন।

তবে উদ্যোগটির বাস্তবায়ন কঠিন কাজ বলে মনে করেন এই পরিবহন বিশেষজ্ঞ। কারণ, কোম্পানির আওতায় এলে পরিবহন খাতভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনের অস্তিত্ব থাকবে না। ফলে প্রথমেই তাদের বাধার সম্মুখীন হতে হবে। কারণ, পরিবহন খাতে পেশির, নেতৃত্বের যে সংস্কৃতি চলছে, কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক সংস্কৃতি চালু হলে পেশির রাজনীতি বন্ধ হয়ে যাবে। তবে সরকার চাইলে কোম্পানিভিত্তিক বাস চালানো যে সম্ভব, তা আনিসুল হক দেখিয়েছেন গুলশানে ‘ঢাকা চাকা’ চালু করে। আর বাস চালানোর জন্য যে কোম্পানি গঠন করা হবে, সেটি হতে হবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন। কারও চাপের কাছে নত হওয়া যাবে না।

জানতে চাইলে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ প্বলেন, ‘ডিটিসিএর সভায় কোম্পানিভিত্তিক বাস চালানোর ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে আমাদের এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।’


আরোও সংবাদ