১ম ধাপে ফেরতের তালিকায় ১ লাখ রোহিঙ্গা

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর , ২০১৭ সময় ০৭:৩৯ অপরাহ্ণ

মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য মাঠপর্যায়ের চুক্তির খসড়া তৈরি করেছে বাংলাদেশ। কয়েকদিনের মধ্যে চুক্তির খসড়া মিয়ানমারের কাছে পাঠানো হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এক লাখ রোহিঙ্গার তালিকা যাবে মিয়ানমারে। গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মাঠপর্যায়ের চুক্তি (ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট) চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এরআগে সকালে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে মিয়ানমারের অনিবন্ধিত নাগরিকবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের (এনটিএফ) ১৭তম সভায় রোহিঙ্গাদের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। দুই বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. শহীদুল হক সন্ধ্যায় বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমরা ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্টের খসড়া তৈরি করেছি। এটি মিয়ানমারের কাছে পাঠানো হবে এবং তা চূড়ান্ত করতে দেশটির সঙ্গে আলোচনা হবে। আশা করছি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিবদের নেতৃত্বে যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) হয়েছে, মিয়ানমার জানুয়ারির শুরুতে সে দেশে জেডব্লিউজির বৈঠকের আয়োজন করবে।

এদিকে দুই বৈঠকে উপস্থিত অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ৯ লাখ ১২ হাজার রোহিঙ্গার একটি তথ্যভান্ডার (ডেটাবেইস) তৈরি করা হয়েছে। ওই তালিকা থেকে প্রথম ধাপে ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর থেকে আসা এক লাখ রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারের কাছে দেয়া হবে। এরপর মিয়ানমারের যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ফেরত পাঠানোর জন্য পরবর্তী তালিকা পাঠানো হবে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর যেসব রোহিঙ্গা এসেছে, শুধু তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য বিবেচনা করা হবে। ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্টের বিষয়ে জানতে চাইলে এক কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মাঠপর্যায়ে কাজের বিষয়গুলো এতে বিস্তারিতভাবে থাকবে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কোন কোন পথ দিয়ে যাবে, রাখাইন যাত্রার আগে বাংলাদেশের যেসব অস্থায়ী শিবিরে থাকবে তার তালিকা, রাখাইনে ফিরে কোথায় থাকবে, সে জায়গাগুলোর তালিকার বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক ডেপুটি হাইকমিশনার কেট গিলমোর বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমঝোতা নিয়ে তিনি সন্দিহান। রোহিঙ্গারা ভীষণ নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছে। রুয়ান্ডার হত্যাকাণ্ডের পর এবারই প্রথম এত অল্পসময়ে এত বেশি সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা নির্যাতনের ব্যাপারে কোনো তদন্ত হয়নি। প্রত্যাবাসনের পর তারা যে আবার নিপীড়নের শিকার হবে না, তারও নিশ্চয়তা নেই। আন্তর্জাতিক আইনের সবচেয়ে সাধারণ ভিত্তিটাও বিবেচনায় নিলে শরণার্থীদের জোর করে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশের ঠিক হবে না।


আরোও সংবাদ