১টি স্ক্যানিং মেশিন বন্ধ, ধীরগতিতে স্ক্যানিং

প্রকাশ:| বুধবার, ২৫ অক্টোবর , ২০১৭ সময় ০৬:৫৭ অপরাহ্ণ

চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে বসানো কাস্টম হাউসের মোবাইল স্ক্যানারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চারটির স্থলে তিনটি স্ক্যানিং মেশিন চালু থাকায় কন্টেইনার স্ক্যানিং ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে।

এতে বিপাকে পড়েছেন আমদানি ও রপ্তানীকারকরা। কন্টেইনার স্ক্যানিংয়ের জন্য তাদের প্রতিনিধিদের প্রতিদিন বিভিন্ন গেইট ও টার্মিনালে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে সময়মত আমদানি-রপ্তানী ঠিক রাখতে অনেক ব্যবসায়ী বেশি ভাড়া গুণেও আকাশ পথে পণ্য পরিবহন করছেন।

সেই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া মোবাইল স্ক্যানার পরিচালনায় নিয়োজিত ৬১ কর্মকর্তা-কর্মচারির মাঝেও চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

যদিও আগামিতে টেন্ডারের শর্তে স্ক্যানার পরিচালনায় নিয়োজিত সব জনবল রাখার শর্ত বাধ্যতামূলক করার আশ^াসে তারা অন্যত্র কাজ করছেন। এর আগে তাদের চাকুরিচ্যুতির চিঠি দেন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মো. রইছ উদ্দিন এ প্রসঙ্গে মানবজমিনকে বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক এসজিএস কো¤পানি গত ১৭ অক্টোবর মঙ্গলবার রাত বারটার পর থেকে এই স্ক্যানিং মেশিন বন্ধ করে দেয়। ফলে তিনটি স্ক্যানিং মেশিনে কাজ চলছে এখন। তবে এতে তেমন সমস্যা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।

তিনি বলেন, যে মোবাইল স্ক্যানারটি বন্ধ করা হয়েছে সেটি মূলত অপর তিনটির ব্যাকাপ স্ক্যানার। এরপরও যদি স্ক্যানিং এ ধীরগতি সৃষ্টি হয় তবে বাড়তি অফিসার নিয়োগ করে ম্যানুয়ালি কন্টেইনার পরীক্ষা করা হবে।

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপর তিনটি স্ক্যানার মেশিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কাস্টমস থেকে নতুন একটি আলাদা স্ক্যানার ডিভিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। এ ডিভিশনে নিজস্ব লোকজনই মেশিন পরিচালনা ও মেনটেইন্সে থাকবে।

এসজিএস এর স্ক্যানার ম্যানেজার মিজানুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া স্ক্যানিংয়ে নিয়োজিত ৬১ কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকুরিচ্যুতির চিঠি পায় ১৭ অক্টোবর মঙ্গলবার। ফলে চালু স্ক্যানিংও বন্ধ করে সব কর্মকর্তা-কর্মচারী আন্দোলনে যাওয়ায় বড়ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের ৪ ও ৫ নম্বর জেটি এবং সিসিটি-২ টার্মিনালে কনটেইনার আড়াই ঘণ্টা স্ক্যানিং না হওয়ায় জট লেগে যায়।

একটি স্ক্যানারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ৬১ কর্মকর্তা-কর্মচারি চাকুরিচ্যুত হলেও মেয়াদ শেষে অন্য তিনটি স্ক্যানারে কর্মরতরাও চাকরিচ্যুত হবে এমন আশঙ্কায় সবাই একযোগে আকষ্মিক ধর্মঘটে যাওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের চাকুরি কাস্টমসে আত্তীকরণসহ তিন দফা দাবিতে এই আন্দোলনে নামেন।

মিজানুর রহমান বলেন, এক্ষেত্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের রাখার বিষয়টি যদি বাধ্যতামূলক করা হয় টেন্ডারে এবং স্ক্যানার ডিভিশনে যদি তাদের আত্তীকরণ করার ব্যবস্থা করা হয় সে ক্ষেত্রে সরকার যেমন লাভবান হবে তেমনি যদি নতুন টেন্ডারে বিদ্যমান জনবল রাখার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয় তাতেও সমস্যার সমাধান হবে। নয়তো কাস্টম কর্তৃপক্ষকে কন্টেইনার স্ক্যানিং এর মতো গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের ঝামেলায় পড়তে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং বৈশ্বিক নীতিমালার বাধ্যবাধকতার কারণে চিটাগাং পোর্ট ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন (সিপিটিএফ) প্রকল্পের আওতায় ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি মোবাইল কন্টেইনার স্ক্যানার, তিনটি রিলোকেটেড কন্টেইনার স্ক্যানার ও ১০ টি রেডিয়েশন ডিটেকশন ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস।

এরমধ্যে চারটি স্ক্যানার পরিচালনার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সোসাইটি জেনারেল ডি সার্ভিলেন্স (এসজিএস) নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। অন্যদিকে রেডিয়েশন ডিটেকশন যন্ত্রপাতি অপারেশন করে কাস্টমসের মেগাপোর্ট ইনিশিয়েটিভ।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশে এ ধরনের যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল না থাকায় আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে অপারেটর নিয়োগ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ৬ বছরের জন্য চারটি স্ক্যানার পরিচালনার করতে এসজিএসকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

২০১৫ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও বিদ্যমান স্ক্যানার সচল ও কার্যকর থাকায় আরও দুই বছরের জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্ধিত মেয়াদও শেষ হয়ে যাওয়ায় চলতি বছরের ১৭ আগস্ট ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটির সভায় মোবাইল স্ক্যানার পরিচালনার মেয়াদ ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এবং অপর তিনটি রিলোকেটেড কন্টেইনার স্ক্যানার পরিচালনার মেয়াদ আগামি বছরের ২২ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

আকাশপথেও পণ্য পরিবহণে চাপ বাড়ছে

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে অতিরিক্ত সময় লাগায় আকাশপথে পণ্য পরিবহনের চাপ বেড়েছে। স্ক্যানিং ধীরগতির কারণে সময়মতো পণ্য পাঠাতে বা আনতে দেরি হওয়ায় বাড়তি ভাড়া গুণেও আকাশ পথের দিকে ঝুকঁছে ব্যবসায়ীরা।

এতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরেও তৈরি হয়েছে রপ্তানি পণ্যের জট। অন্যদিকে ইউরোপগামী কার্গো অন্য দেশে স্ক্যানিংয়ের কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ভাড়া বাড়িয়ে দেয়ায় রপ্তানি খরচ বেড়ে গেছে বলে জানান রপ্তানিকারকরা।

এ অবস্থায় শাহ আমানত ও শাহ জালাল বিমানবন্দরে দ্রুত এক্সপ্লোসিভ ডিক্টেটিভ সিস্টেম মেশিন বসানোর অনুরোধ ব্যবহারকারী আমদানি-রপ্তানিকারকদের।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার রিয়াজুল কবির বলেন, চট্টগ্রম বন্দরে কনটেইনার ও জাহাজ জটের কারণে শাহ আমানত বিমানবন্দরে পণ্য পরিবহনে চাপ বেড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এই বিমানবন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন যে পরিমান পণ্য রপ্তানি হত তা এখন বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
[এমকে]