হেরে যাওয়ার ভয়ে বিরোধী দলের নেতা নির্বাচনে আসছেন না-হাসিনা

প্রকাশ:| বুধবার, ১৬ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৪:০৩ অপরাহ্ণ

শেখ হাসিনা1প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ওঁদের (বিএনপি) জন্য আলোচনার দরজা এখনো খোলা। তাঁরা সংসদে এসে মুলতবি প্রস্তাব দিক, আলোচনা হবে। আমার কোনো সমস্যা নেই।’

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় গণভবনে ঈদের শুভেচ্ছা শেষে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, হেরে যাওয়ার ভয়ে বিরোধী দলের নেতা নির্বাচনে আসছেন না। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা ও জনগণ তাঁকে ভোট দেবেন—এ বিশ্বাস যদি থাকলে তিনি নির্বাচনে আসবেন।

২৫ অক্টোবরে বিরোধী দলের দা-কুড়াল নিয়ে আসার হুমকির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২৫ অক্টোবর খামোখা উত্তেজনা ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। বিরোধী দলকে বলব, সংবিধানের ৫৭, ৭২ ও ১২৩ অনুচ্ছেদ ভালো করে পড়ে দেখেন, সেখানে কী লেখা আছে। বিরোধীদলীয় নেতা যদি উসকানি না দেন, উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা না করেন—তাহলে ২৫ অক্টোবরের পরে কিছুই হবে না। আর প্রকাশ্য দিবালোকে দা-কুড়াল-ছুরি নিয়ে বের হওয়ার হুমকি জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। তাঁদের কেন এত মানুষ হত্যা করার প্রবণতা? ইনশাআল্লাহ ওই দিন দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ থাকবে।’

মহাজোটের বৃদ্ধি করা হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মহাজোট নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মহাজোট তো এমনিতেই মহা!

আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে আপনি আত্মপ্রত্যয়ী কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মহাজোট যে উন্নয়ন করেছে, মানুষ নিশ্চয় এর ধারাবাহিকতা চায়।। ইনশাআল্লাহ মানুষ মহাজোটকে আবার ভোট দেবে। মহাজোট আবার ক্ষমতায় আসবে।’

অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ রোল মডেল হয়ে উঠছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কয়েক দিন পূজা হয়ে গেল, আজ সমগ্র দেশে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। আগামী শুক্রবার বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের “প্রবারণা পূর্ণিমা” অনুষ্ঠিত হবে। তাহলে এ দেশের মাদ্রাসায় কেন বোমা-গ্রেনেড বানানো হবে? এতিমদের দিয়ে বোমা-গ্রেনেড বানিয়ে কাকে হত্যা করা হবে? এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ গরুর হাট ব্যবস্থাপনাসহ দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় মহাজোটকে আরেকবার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি বাড়িয়েছে। আপনারা দেখেছেন, ঢাকার চেহারা বদলে গিয়েছে। জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি রোধ করেছে। আওয়ামী লীগ জন্ম থেকেই মানুষের সেবা করছে। অধিকার রক্ষায় কাজ করছে। আমাদের আরেকবার সুযোগ দিন। আসুন, ত্যাগের মহিমায় আর্তমানবতায় ও জনকল্যাণে নিজেদের আত্মনিয়োগ করি। ঈদুল আজহা উপলক্ষে সবাইকে ঈদ মোবারক।’

এর আগে সকাল ১০টা থেকে বিশিষ্ট রাজনীতিক, কূটনীতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।

বেলা নয়টা ৫৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ঈদ শুভেচ্ছা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাহারা খাতুন, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামসহ দলীয় নেতারা।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল হক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মীজানুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য নজরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আনোয়ার হোসেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুন অর রশিদ প্রমুখ। পরে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে অনেকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজেদের অভাব ও দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের কথা আমলে নিয়ে ‘সমস্যার কথা’ লিখে জমা দিতে বলেন। পরে তাঁদের সমস্যা সমাধান করবেন বলে আশ্বাস দেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।