হেরিটেজের তালিকায় বঙ্কিমের হাওড়ার বাড়ি…

প্রকাশ:| রবিবার, ২৩ আগস্ট , ২০১৫ সময় ১০:৫১ অপরাহ্ণ

ডেস্ক::

বাংলা সাহিত্যের প্রথম আধুনিক ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তার জন্ম ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁটালপাড়া গ্রামে। তবে বঙ্কিমচন্দ্রের আদিনিবাস ছিল হুগলি জেলার দেশমুখো গ্রামে। বঙ্কিমচন্দ্রের প্রপিতামহ রামহরি চট্টোপাধ্যায় মাতামহের সম্পত্তি পেয়ে কাঁটালপাড়ায় আসেন এবং সেখানেই বসবাস শুরু করেন। রামহরির পৌত্র যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের তৃতীয় পুত্র বঙ্কিমচন্দ্র।

সেই বঙ্কিমচন্দ্র কাজের সূত্রে হাওড়ায় ছিলেন দীর্ঘদিন। এসময় তিনি যে বাড়িতে অবস্থান করতেন সেই বাড়িটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করলো পৌর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পঞ্চাননতলা রোড সংলগ্ন ১৭ কাঠা আয়তনের তার নামাঙ্কিত পার্ক হাওড়া পৌরসভার উন্নয়ন বরাদ্দের জন্য বিবেচনা করার কথাও ঘোষণা হয়েছে।হেরিটেজের তালিকায় বঙ্কিমের হাওড়ার বাড়ি...

পৌর মেয়র রথীন চক্রবর্তী জানান, বঙ্কিমের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং একটি স্মৃতি সংগ্রহশালা গড়ে তোলার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হয়েছে।

জানা যায়, বঙ্কিমচন্দ্র কর্মজীবনে তিন বার হাওড়ায় আসেন। প্রথম বার, ১৮৮১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, মতান্তরে ১৮৭৮-এ। বর্ধমান জেলার কমিশনার তথা ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেটের পিএ হিসাবে। ১৮৮৩-র ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি আসেন ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট হিসাবে। তৃতীয় বার, ১৮৮৬-র ১০ জুলাই আসেন ডিএম এবং ডেপুটি কালেক্টর হিসাবে।

পুরনো রাজস্ব অফিসের দ্বিতীয়তলায় ছিল বঙ্কিমচন্দ্রের দফতর। গোড়ায় এখানে ছিল লোয়ার অরফ্যান স্কুল। ১৮৪৩-এ জেলা ভাগ হওয়ার পর মুন্সেফদের পুরনো কাছারি এখানে স্থানান্তরিত হয়।হেরিটেজের তালিকায় বঙ্কিমের হাওড়ার বাড়ি...

প্রাচীন পঞ্চানন মন্দির থেকে নামকরণ পঞ্চাননতলা রোডের। এই রাস্তা থেকে একটু ভিতরে ২১২ নম্বর বাড়ি। প্রবেশপথের মুখে শ্বেতপাথরের ফলক। হাওড়া সিটিজেন্স ফোরামের উদ্যোগে ২০০১-এর ২৬ জুন, অর্থাৎ বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মদিবসে এটি স্থাপিত হয়।

ফলকে লেখা ‘বন্দেমাতরম স্রষ্টা সাহিত্য সম্রাট’ এই বাড়িতে কিছু কাল ছিলেন। তার সঙ্গে এই বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-সহ কয়েক জন মণীষী দেখা করতে এসেছিলেন। হাওড়ায় তার বসবাস কাল এবং জন্ম-মৃত্যুর তারিখও খোদিত। ঠিক এরই পাশে, ২১৮ নম্বর বাড়িতেও কিছু কাল কাটান তিনি।

– See more at: http://www.alokitobangladesh.com/online/literature/2015/08/04/8355#sthash.FCsIIT8O.dpuf