হৃত্বিক রোশানের ডিভোর্সে ১০০ কোটি রুপির স্টেটমেন্ট !

প্রকাশ:| সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:০৫ অপরাহ্ণ

images15১৩ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন হৃতিক রোশন ও সুজান রোশন। ১৩ ডিসেম্বর বিচ্ছেদের খবর নিশ্চিত করেছেন হৃতিক নিজেই। পরে সুজানও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন। সম্প্রতি বলিউডকেন্দ্রিক কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়, বিচ্ছেদ মীমাংসার জন্য হৃতিকের কাছে ১০০ কোটি রুপি দাবি করেছেন সুজান। তবে খবরটিকে ভিত্তিহীন ও গুজব বলেই উড়িয়ে দিয়েছেন সুজান।

এ প্রসঙ্গে সুজানের ভাষ্য, ‘বিচ্ছেদ মীমাংসার জন্য আমি হৃতিকের কাছে ১০০ কোটি রুপি দাবি করেছি—এমন খবর পড়ে খুবই মর্মাহত হয়েছি। এ খবরে বিন্দুমাত্র সত্যতাও নেই। স্রেফ অনুমানের ওপর ভিত্তি করে এমন খবর রটানো হয়েছে।’
সুজান আরও বলেন, ‘এ ধরনের মিথ্যা খবর পরিবেশন নিঃসন্দেহে অনৈতিক একটি কাজ। এভাবে কারও ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করা একদমই উচিত নয়।’ জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
২০০০ সালের জানুয়ারি মাসে ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে সফল অভিষেক হয়েছিল হৃতিকের। একই বছরের ডিসেম্বরে সুজানকে ভালোবেসে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের আগে কয়েক বছর চুটিয়ে প্রেম করেছিলেন তাঁরা। বছরের পর বছর ধরে বলিউডের অন্যতম সফল ও সুখী দম্পতি হিসেবে উচ্চারিত হয়েছে তাঁদের নাম।
হূতিক-সুজান দাম্পত্যে প্রথম অশান্তির ঢেউ ওঠে ২০১০ সালে। সে বছর মুক্তি পাওয়া ‘কাইটস’ ছবিতে সহ-অভিনেত্রী মেক্সিকান মডেল ও অভিনেত্রী বারবারা মোরির সঙ্গে হূতিকের সখ্যের খবর চাউর হলে দূরত্ব তৈরি হয় হূতিক ও সুজানের মধ্যে। ধারণা করা হচ্ছে, হূতিক-বারবারা সখ্যের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবেই বিচ্ছেদের মতো কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন সুজান।
বেশ কিছুদিন ধরেই হূতিক-সুজান বিচ্ছেদের গুঞ্জন চলছিল। শুরুতে অস্বীকার করলেও চলতি মাসের ১৩ তারিখে বিচ্ছেদের খবর নিশ্চিত করেন হূতিক। এরপর রোশন পরিবারের কাছের একটি সূত্র জানায়, চার মাস ধরে রোশন পরিবার থেকে দূরে আছেন সুজান। তিনি পেশায় একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। ডিসেম্বরে তিনি নিজের একটি বুটিক হাউস খোলেন। বুটিক হাউসের কাছেই মুম্বাইয়ের ভারসোভা এলাকায় দুই ছেলে রিহান ও রিদানকে নিয়ে আলাদা বাসায় থাকছেন সুজান।
এদিকে হৃতিক ও সুজানের বিচ্ছেদের পেছনে বলিউডের অভিনেতা অর্জুন রামপালের হাত রয়েছে বলেও খবর চাউর হয়েছিল। অবশ্য বিষয়টিকে অস্বীকার করেন অর্জুন। তিনি বলেন, ‘হৃতিক ও সুজান দুজনই আমার খুব কাছের বন্ধু। কাছের কেউ যখন বিচ্ছেদের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন এমনিতেই মনটা অনেক খারাপ হয়ে যায়। জীবনের কঠিনতম সময় পার করছে হূতিক ও সুজান। এ অবস্থায় অযথা ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানোর কোনো মানে হয় না। তাঁদের বিচ্ছেদে আমার সম্পৃক্ততা নিয়ে আজেবাজে কেচ্ছা-কাহিনি রটানো হচ্ছে। এটা আমাকে খুবই মর্মাহত করেছে। হূতিক-সুজানের এই কঠিন সময়ে আমি ও আমার স্ত্রী মেহের সব রকম সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে চাই। বরাবরের মতো এখনো আমরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করছি।’
অর্জুনের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন সুজানও। তিনি বলেছেন, ‘হৃতিক ও আমার খুবই কাছের একজন বন্ধু অর্জুন। আমাদের বন্ধুত্বের বন্ধন অনেক বেশি দৃঢ়। অযথাই কাউকে দোষারোপ করার বিষয়টি একদমই অনুচিত একটি কাজ।’
হৃতিকের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেও বিচ্ছেদের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি সুজান। এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য, ‘অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই অনেক কিছু ঘটে যায়। পরিস্থিতিই মানুষকে বাধ্য করে অপ্রত্যাশিত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে। বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে আমি স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাই না। কারণ আমি নিজেও একজন মা ও মেয়ে।’