হুন্ডি ব্যবসায়ীদের তৎপরতা আশংকা জনক হারে বৃদ্ধি

প্রকাশ:| সোমবার, ২৯ জুলাই , ২০১৩ সময় ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

হাটহাজারীতে ঈদকে সামনে রেখে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা তৎপর জাল টাকার কারণে গ্রাহকেরা শংকিত ঋণ
বিপ্লব দে, হাটহাজারী,নিউিজচিটিাগাং২৪.কম।।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ঈদকে সামনে রেখে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের তৎপরতা আশংকা জনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে তৎপর হয়ে উঠেছে জাল টাকার ব্যবসায়ীরাও। ফলে জাল টাকার কারণে গ্রাহকেরা ও চরম শংকিত। রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাংকে নানামুখী হয়রানী ও বিড়ম্বনাকে পুঁজি করে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের এই তৎপরতা।
সূত্র জানায় এই উপজেলার আওতাধীন পনেরটি ইউনিয়ন এবং তৎসংলগ্ন একটি সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ডের ষাট/ বাষট্টি হাজার লোক মধ্য প্রাচ্য সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাস করে। কর্মস্থানের তাগিদে পিতা/ মাতা, আত্মীয় স্বজন ও মাতৃভূমির মায়া ত্যাগ করে অর্থ উপার্জনের জন্য তারা প্রবাস জীবন যাপন করছে। এসব প্রবাসীরা সাংসারিক খরচ সহ নানা প্রয়োজনে বাড়ি ঘরে টাকা প্রেরণ করে। বিশেষ করে রমজানের ও কোরবানের ঈদ, পূঁজা পার্বনে প্রবাসীদের অর্থ প্রেরণের হার স্বাভাবিক ভাবে বেশি। নিয়মানুসারে প্রবাসীরা ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের উপার্জিত কষ্টের অর্থ দেশে প্রেরণের কথা। এতে প্রবাসীদের অর্থ প্রেরণের হিসাব রাষ্ট্রে যেমন থাকে তেমনি প্রেরিত অর্থ থেকে সরকারেরও কিছু রাজস্ব আয় হয়। কিন্তু মধ্য প্রাচ্যে সারাদিন হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সেখানে দেশে টাকা পাঠাতে লাইনে দাড়িয়ে ড্রাফ্ট বানাতে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। সেখানে নানা মুখি ঝক্কিঝামেলা কাটিয়ে দেশে ড্রাফ্ট পাঠালে সেই টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করতে সীমাহীন বিড়ম্বনা ও হয়রানির শিকারে পরিণত হতে হয়। তাছাড়া দেশে রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংক থেকে উত্তোলনে সময়ও লাগে। উপজেলার আওতাধীন রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংক জরুরী টাকা উত্তোলন করতে ব্যাংকের অবৈধ উৎকোচ দাবী ও বৈধ গ্রাহকদের সাথে ব্যাংকে কর্মরতদের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও নানা ভাবে ঘুরাঘুরির কারণে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে প্রবাসীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে নানামুখী বিড়ম্বনা ও হয়রানির হাত থেকে রক্ষার জন্য প্রবাসীরা হুন্ডিকে অর্থ প্রেরণের সহজ মাধ্যম হিসাবে বাধ্য হয়ে বেচে নেয়। এই উপজেলায় শতাধিক তালিকাভূক্ত চিহ্নিত হুন্ডি কারবারী রয়েছে। একজন হুন্ডি কারবারীর আওতায় ১০/১২ জন টাকা বিতরণকারী রয়েছে। এই উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রাউজান, ফটিকছড়ি এবং নগরীর কিছু হুন্ডি ব্যবসায়ীর মাধ্যমেও প্রবাসীরা টাকা প্রেরণ করে। হুন্ডি কারবারী টাকা বিতরণকারীরা গ্রাহকদের বাড়ীতে গিয়ে মোটর সাইকেল নিয়ে প্রেরিত অর্থ পৌঁছে দিয়ে আসে। অথবা গ্রাহকদের ব্যাংক একাউন্টে টাকা জমা করে দেয়। হুন্ডির টাকা রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংকে খুব কম জমা হয়। কারণ এই সব ব্যাংকে লোকবল সংকটের কথা বলে চেকের টাকা পরিশোধ করতে বিলম্ব করে। তাই বেসরকারী মালিকানাধীন ব্যাংকের একাউন্টে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা নিজের লোক দিয়ে টাকা জমা করে দিয়ে আসে। আবার কম টাকা তথা ৫/১০ হাজার টাকা হলে গ্রাহক নিজেকে হুন্ডি ব্যবসায়ীর বাড়ি কিংবা নিজের অফিস নামিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আনতে হয়। ২০/৫০ হাজার টাকা বা ততোধীক গ্রাহকদের বাড়ি কিংবা ব্যাংক একাউন্টে জমা করে দেয় ব্যবসায়ী নিজ দায়িত্বে। এই উপজেলায় পৌঁনে শতাধিক বেসরকারী ব্যাংক রয়েছে। এসব ব্যাংকে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের টাকা জমা করে আসে। আবার এক শ্রেণীর ব্যাংক তাদের ব্যাংকে একাউন্ট করতে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের সাথে যোগযোগ রক্ষা করে। কারণ তাদের একাউন্টে কোটি কোটি টাকা জমা হয়। একাউন্টে বেশি টাকা জমা করার জন্য কর্তৃপক্ষ তাদের নানা ভাবে প্রলোভিত করে। এমনকি নানা উপডৌকনও দেওয়ার কথা জনশ্র“তি রয়েছে। উপজেলা সদরের বিভিন্ন বড় বড় মার্কেট, নজুমিয়াহাট, সরকারহাট, কাটিরহাট, নাজিরহাট এবং মদুনাঘাটের আধুনিক মার্কেটের হুন্ডি ব্যবসায়ীদের আকর্ষণীয় দোকান রয়েছে। এসব দোকানের বেচা বিক্রি নাথাকলেও হুন্ডি ব্যবসার অফিস হিসাবে তারা এসব দোকানকে ব্যবহা করে। গত বছর রমজানের ও কোরবানের ঈদের সময় অন্তত ২০জন হুন্ডি ব্যবসায়ীর কোটি টাকা হাটহাজারীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছিনতাই হয়েছিল। কিন্তু এই বিপুল টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানায় কোন মামলা হয়নি। প্রকৃত রহস্য বের হয়ে পড়ার আশংঙ্কায়। অবশ্য পরে ছিনতাইকারী চক্রের সাথে সমাঝোতা করে ছিনতাইকৃত টাকার কিছু পরিমাণ উদ্ধার হওয়ার কথাও শুনা গেছে। হুন্ডি ব্যবসায়ীরা এলাকার কিছু সন্ত্রাসী বাহিনীও লালন করে মাসোহারার ভিত্তিতে। এসব হুন্ডি ব্যবসায়ীদের সাথে থানার আইন শৃংখলা বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে গোপন সমাঝোতার কথাও মানুষের মুখে মুখে প্রচারিত রয়েছে। রয়েছে দায়িত্বশীল প্রশাসনের সাথে বুঝাপরা। তাছাড়া কিছু স্বার্থন্বেষী জনপ্রতিনিধিদের সাথে সখ্যতার কথাও জনমুখে প্রচার রয়েছে। দায়িত্বশীল প্রত্যেকের সাথে সুসম্পর্কের কারণে হুন্ডি ব্যবসায়ী চক্র দেদারসে জাল টাকার ব্যবসা করছে বলেও খবর প্রচারিত আছে। হুন্ডি ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের জাল টাকা দিয়ে দিলেও পরে জাল টাকার আলামত বুঝতে পেরে পুনরায় টাকা বদলাতে তাদের (হুন্ডি ব্যবসায়ীদের) কাছে গেলে গ্রাহক ও টাকা প্রাপককে হুমকি ও ভয় ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে ভুক্তভোগীদের সূত্রে উল্লেখ করে। ঈদকে সামনে রেখে হুন্ডি ব্যবসার কারণে বিশেষ করে সরকার বিপুল রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জাল টাকার কারণে মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। ব্যাংকের লোকবল সংকটের অজুহাতে গ্রাহকদের বিড়ম্বনা ও নানামুখী হয়রানীর কারণে প্রবাসীরা রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে উৎসাহ ও আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গৃহীত না হলে অবৈধ হুন্ডির ব্যবসার প্রবণতা বৃদ্ধির সাথে সাথে সরকার বিপুল রাজস্ব আয় থেকে যেমন বঞ্চিত হবে তেমনি নানামুখী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডও বৃদ্ধি পাবে অভিমত প্রকাশ করেছেন পর্যবেক্ষক মহল।