হাসিল মুক্ত ফতেয়াবাদ বাজার মুখরিত

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ১০:৩৩ অপরাহ্ণ

ফতেয়াবাদ গরুর বাজার     

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজচিটাগাং২৪.কম ::ঈদুল আযহার মাত্র ৩ দিন বাকি। এরি মাঝে সরব হয়ে উঠেছে ফতেয়াবাদে অবস্থিত হাসিল মুক্ত ঐতিহ্যবাহী গরুর বাজার। এছাড়া চট্টগ্রামের  বিভিন্ন স্থানে কুরবানীর পশুর হাট বসেছে। কুরবানীর পশু গরু, ছাগল আমদানি হয়েছে প্রচুর। কিন্তু পশুর হাটগুলো এখনও জমজমাট হয়ে ওঠেনি। গরু বিক্রেতারা আশা করছে কাল থেকে পুরোদমে জমে উঠবে কুরবানীর হাট। বেচাকেনা হবে গরু-ছাগল। নগরীর সবচেয়ে বড় গরুর হাট বসেছে সাগরিকা গরু বাজার ও আশপাশের এলাকায়।  জানা গেছে, ক্রেতার সুবিধার জন্য গতবারের মতো এবারও সাগরিকা গরুর হাটকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একটিতে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের, অপর বাজারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুমিল্লার এবং আরেকটিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দেশীয় গরু বিক্রি হচ্ছে। ২য় বড় বাজার হচ্ছে বিবিরহাট গরু বাজার।  একটিতে কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, যশোর, ময়মনসিংহ, ঢাকার দোহারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশাল বিশাল গরু, ষাঁড়, মাঝারি ও ছোট সাইজের  গরু এসেছে। এছাড়া অস্থায়ী বাজারগুলো হচ্ছে, সল্টগোলা, স্টিল মিল, পতেঙ্গা সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, বাকলিয়ায় সিডিএ’র কল্পলোক আবাসিক এলাকার মাঠ এবং কমল মহাজন হাট।

চট্টগ্রাম-নাজিরহাট সড়কের চৌধুরীহাট থেকে ফতেয়াবাদ পার হয়ে ছড়াকুল ও রেল সড়কের চৌধুরীহাট স্টেশন থেকে বালুরটাল পর্যন্ত এবং রেল ও সড়ক পথের মধ্যবর্তী স্থানের সব ফকা জায়গা জুড়ে প্রতিবছরের মতো এবারো কোরবানীর পশুর হাট বসেছে।

গরুর হাটফতেয়াবাদের এ বাজারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা  গেছে, আশপাশের বহু এলাকাসহ কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, যশোর, ময়মনসিংহ, জয়পুরহাট, নওগা, ঢাকার দোহারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশাল বিশাল গরু, ষাঁড়, মাঝারি ও ছোট সাইজের  গরু এসেছে। এসেছে ভারত ও নেপালি গরুও।

তবে হাটে গত কয়েকদিন ক্রেতারা আসেনি। যারা এসেছেন তারা দরদাম জিজ্ঞাসার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ক্রেতাদের বাজারে আসা শুরু না হলেও ব্যস্ততায় কমতি নেই বিক্রেতাদের। এখন ক্রেতার অপেক্ষায় আছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যাপারিরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাটে আসা গরু বিক্রেতারা জানান, দুই দিন আগে থেকেই চট্টগ্রামে গরু নিয়ে পৌঁছেছেন তারা। আজ পর্যন্ত আশানরুপ গরু বিক্রি হয়নি। তবে মাঝে মাঝে ক্রেতারা এসে গরু দেখে যাচ্ছেন।

জয়পুরহাট-নওগা থেকে ৪০টি গরু এনেছেন আলমগীর আলম। তিনি নিউজচিটাগাং২৪কে জানান তার গরুগুলো ৬৫হাজার থেকে ১লক্ষ টাকায় তিনি বিক্রি করবেন। তার সবচেয়ে বড় ফতেয়াবাদ গরুর বাজারগরুটির দাম হেকেছেন দেড় লক্ষ টাকা।

সিরাজগঞ্জ থেকে অরিফুল  ৪০টি ছোট-বড় আকারের গরু নিয়ে এসেছেন । এরমধ্যে একটি গরুর দাম হেঁকেছেন ২ লাখ টাকা। তার কাছে সর্বনিম্ন দামের গরুর ৫০হাজার টাকা।

কুষ্টিয়ার কবির একই গরুর বাজারবাজারে ৬০ টি গরু নিয়ে এসেছেন। তিনি জানালেন এরমধ্যে ২০টি গরু নিজের খামারে পালন করেছেন। এছাড়া রয়েছে ৪টি নেপালি গরু। নেপালি ৪টি গরুর দামই বেশি বলে নিউজচিটাগাং২৪কে জানালেন আলিম। তিনি বলেন, ১০২টা গরুর মধ্যে ৪টি নেপালি ষাঁড় রয়েছে। প্রত্যেকটি নেপালি গরুর দাম হেঁকেছেন তিনি ৩ লাখ টাকা। তার কাছে পশুর হাট৩১ লাখ টাকার নিচে কোন গরু নেই বলে জানান। ঝিনাইদহ থেকে ২০টি গরু নিয়ে আসা জমির তার দুটি গরুর দাম চেয়েছেন ৫ লাখ টাকা। ঢাকার দোহার থেকে ২২টি বড় আকারের গরু নিয়ে এসেছেন মিয়া আলী। প্রত্যেকটি গরু  লাখ টাকায় বিক্রি হবে বলে তিন আশা করছেন। নওগা থেকে মিজান এনেছেন ২০টি ষাঁড়-বলদ। তিনি প্রতিটি ষাঁড় ৬০হাজারের উপরে বিক্রি করবেন বলে নিউজচিটাগাং২৪কে জানান। কুষ্টিয়ার বিশাল বিশাল বলদ গরু এনেছেন আয়নাল। মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত গরু বেচাকেনা তেমন হয়নি বলে বিক্রেতারা  জানায়।

ফতেয়াবাদ গরুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় গরুর পাশাপাশি বাজারে এসেছে প্রচুর ছাগল । ৮ থেকে ২০ হাজারের মধ্যে এসব ছাগল বিক্রি করবেন বলে ব্যাপারীরা জানিয়েছেন।

হাটে আসা ক্রেতা আরাফাতুল আলম নিউজচিটাগাং২৪কে জানায়, ফতেয়াবাদে হাসিল না থাকায় এটা গণমানুষের বাজার হয়ে দাড়িয়েছে। সবাই এখানে এসে গরু কিনতে চায়।

হাটে আসা মহিলা ক্রেতা জারিয়া খাতুন নিউজচিটাগাং২৪কে বলেন, তিনি মাদার্শা থেকে পশুর হাটএসেছেন। পরিবারের সব ছেলে সদস্য প্রবাসে থাকায় তার উপর গরু কেনার দায়িত্ব পড়েছে। এখানে গরু তিনতে কোন সমস্য হয়না বলেও জানান তিনি।

হাটে আসা কয়েকজন ক্রেতা নিউজচিটাগাং২৪কে বলেন, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহের, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুমিল্লার গরুর দাম বেশি হাঁকছেন বিক্রেতারা । ছোট ছোট গরু ৩০-৫০ হাজার টাকা, ছোট মাঝারি গরু ৬০/৮০ হাজার টাকা, মাঝারি ৯০হাজার থেকে দেড় লাখ, বড় গরু ২/৫ লাখ টাকা হাঁকছেন। বিক্রেতারা এখন দাম ধরে ক্রেতা পরখ করছে। আগামী কাল তারা দাম কমাবে বলে ক্রেতারা আশা করছেন। গরু বাজারে গরু বেচাকেনা হচ্ছে কম। তবে আগামীকাল থেকে  কুরবানী পশু বিক্রি বাড়বে বলে বিক্রেতারা জানায়।

এদিকে জানা গেছে, চট্টগ্রামের আটটি উপজেলায় স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে মোট ৪০টি বাজার বসছে। এর মধ্যে সাতকানিয়ায় বসছে কেরানিহাটে। লোহাগাড়ার তিনটি হলো চুনতি ডেপুটি বাজার, আধুনগর ও পদুয়া তেওয়ারিহাট। চন্দনাইশের পাঁচটি হলো দোহাজারী হাজারিহাট, দেওয়ানহাট, বাগিচার হাট, খানহাট, রওশনহাট। পটিয়ার চারটি হলো মনসারটেক, শাদেশিয়  গরুন্তিরহাট, কলেজ বাজার, মইজ্জ্যারটেক ও এতিমখানা বাজার। আনোয়ারার চারটি হলো ফাজিলখাঁরহাট, চাতরি চৌমুহনী, সরকারহাট ও মালঘর বাজার। তবে বেশি বাজার আছে হাটহাজারী-অক্সিজেন সড়কে ১৬টি। এগুলো হলো আমানবাজার, বিশ্ববিদ্যালয় এক নং গেট, মদনহাট, ইসলামিয়া হাট, বালুখালী বাজার, মুহুরিহাট, সরকারহাট, মইন্যা পুকুর, শাহজাহান শাহ (রহঃ) মাজার গেট, কাটিরহাট, নূরআলী মিয়ারহাট, নাজিরহাট নতুন রাস্তার মোড় ও নাজিরহাট বাজার। ফটিকছড়ির ছয়টি হলো এবিসি স্কুল মাঠ বাজার, বারৈয়ারহাট, রাজঘাট বাজার, পেলা গাজীর দিঘির মাথা, আন্ডা মার্কেট (সদর), নাজিরহাট হাসপাতাল রোড মাথা। সর্বত্র কুরবানীর হাট নিয়ে চলছে উৎসবমুখর অবস্থা।