হাসিনার প্রত্যাবর্তন বাঙালি জাতিসত্তাকে পুনরুজ্জীবিত করে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৬ মে , ২০১৭ সময় ০৯:১৯ অপরাহ্ণ

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের আলোচনা সভায় কবি ও সাংবাদিক অরুণ দাশগুপ্ত

বরণ্য বুদ্ধিজীবি, কবি ও সাংবাদিক অরুণ দাশগুপ্ত বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যাকান্ডের সময় প্রবাসে থাকা শেখ হাসিনা সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়ায় ৭১ এর পরাজিত শক্তির শেষ রক্ষা হয়নি। ১৯৮১ সালে ১৭ মে তাঁর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি সত্তার আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে সম্ভাবনা পুনরুজ্জীবিত হয় এবং তিনি বঙ্গবন্ধু ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করে জাতিকে পাপমুক্ত করেছেন। তিনি আজ বিকেলে নগরীর জামালখান এক্সক্লুসিভ কনভেনশন সেন্টারে বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩৬তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালনোপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলা আয়োজিত ‘জনগণের ক্ষমতায়নে আলোকিত প্রিয় স্বদেশ, তোমার কর্মেই আজ সারা বিশ্বে সমুজ্জল বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে কবি অরুণদাশগুপ্ত এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বাঙালি যুদ্ধে বিজয়ী জাতি। এই জাতিকে ধ্বংস করার জন্য ক্রমাগত আঘাত করা হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পরও বাঙালি জাতিসত্তাকে ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। বরং বাঙালি আজ বিশ্বে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি। কোন অপশক্তির কাছেই বাঙালি কখনো পরাভব মানবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন বিশ্বশান্তি, প্রগতি ও উন্নয়নের অগ্রদূত। তিনি হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, আজ আমাদের মধ্যে আত্মতুষ্টির কোন কারণ নেই। বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর অব্যাহত ষড়যন্ত্র চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনও নিরাপদ নন, তাই বাঙালিও নিরাপদ নয়। এ জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন সরকার, প্রশাসন ও দলের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকাদের চিহ্নিত করে দেশকে শঙ্কা মুক্ত করা। বিশেষ অতিথির ভাষণে চট্টগাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব বলেন, আজকের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা বাঙালি জাতি সত্তার নেতৃত্বের শূন্যতা প্রকৃতির নিয়মেই পূরণ করেছেন। যা কিছু সত্য, সুন্দর ও চিরন্তন তার ক্ষয় নেই, শূণ্যতা নেই। অনেক ওলট-পালটের পরও শূণ্যতা পূরণ হয়। তিনি আরো বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে পবিত্র ধর্মের নামে মানবতা বিরোধী অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে। এই অবস্থা যতদিন থাকবে ততদিন আমরা অন্ধকারেই থাকবো। সভাপতির ভাষণে নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাী সদস্য ও জামালখান ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর প্রকৌশলী বিজয় কুমার চৌধুরী কিষাণ বলেন, আমরা মুখে অনেক কথাই বলি, কিন্তু কথা রাখিনা। আমরা ঐক্যের কথা বলি আবার আমাদের মধ্যেই হানাহানি সবচেয়ে বেশি। এই বিপরীত মানসিকতা আত্মঘাতী। আমরা যদি তা-ই করি তা হলে রাজনীতি ছেড়ে দেয়া উচিত। সংস্কৃতিকর্মী শ্রাবণী দে ও দিলীপ সেন গুপ্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন দেবনাথ, নগর যুবলীগের সদস্য লিটন রায় চৌধুরী, তানভীর আহমেদ রিংকু, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত, আকবর শাহ থানা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু সুফিয়ান, সাংস্কৃতিক সংগঠক কবি সজল দাশ, চট্টগ্রাম আইন কলেজের সাবেক ভি.পি এডভোকেট টিপু শীল জয়দেব, নগর ছাত্রলীগের সদস্য বোরহান উদ্দিন গিফারী, মোস্তফা কামাল, মুসলেম উদ্দিন, রায়হানুল ইসলাম, সংস্কৃতিকর্মী এনাম উদ্দিন, ইফতেখার শাকিল, জিয়াউল ইসলাম জিয়া, আল হাসান সানি, ইমদাদুর রহমান রিয়াদ, কৌশিক মজুমদার, ইয়াসিন আরাফাত চৌধুরী, তৌহিদুল ইসলাম, শাওন বড়–য়া রুবেল প্রমুখ।