হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাব না, যাব না।নির্বাচন হতে দেবনা

প্রকাশ:| রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ০৯:০৭ অপরাহ্ণ

তেল-গ্যাস কমিটির পাশে আছি ।রামপালে বিদুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে।
kaleda_n
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে তাঁরা যে শুধু নির্বাচনে যাবেন না তা নয়; এ ধরনের নির্বাচন প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেছেন, আন্দোলন করে ‘দুর্নীতিবাজ’, ‘চোর’, ‘বেইমান’, ‘মুনাফিক’ সরকারকে সরাতে হবে।

আজ রোববার খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানে এক জনসভায় খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাব না, যাব না। শুধু যাব না নয়; তাদের অধীনে নির্বাচন হবে না। নির্বাচন প্রতিহত করা হবে।’ বক্তব্যে খালেদা জিয়া পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ চলমান বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলেন। এর পাশাপাশি তিনি সরকারি দলের প্রতি নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘হাসিনাকে বলতে চাই এখনো সময় আছে। অবাধ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। না হলে দেশের মানুষ যেভাবে জেগে উঠেছে, মানুষের যে অগ্নস্ফুিলিঙ্গ দেখেছি, তা কাটাবার সাধ্য আপনাদের কারও নেই। তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ হটাও, দেশ বাঁচাও।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা তেল-গ্যাস কমিটির পাশে আছি। আপনাদের যা দরকার লাগবে আমাদের বলবেন। দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে প্রস্তুত আছি।’ তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘রাজপথে আবার দেখা হবে। আন্দোলন করে দুর্নীতিবাজ, চোর, বেইমান, মুনাফিক সরকারকে সরাতে হবে।’
জনসভায় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘কারও সাহায্য নিয়ে নির্বাচন করবেন, তা ভাবলেও সম্ভব হবে না। আপনাদের যারা কেউ কেউ সাহায্য করে, তারাও তখন আর এগিয়ে আসবে না। কারণ তারা জানে, যখন জনগণ জেগে ওঠে তখন আর করার কিছু থাকে না।’
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফসল ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তাহলে এখন কেন সেটা চালু করতে বাধা। তাদের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও গরমিল রয়েছে।

তেল-গ্যাস কমিটির পাশে আছি
খালেদা জিয়া বলেন, রামপালে বিদুৎকেন্দ্র করার চেষ্টা চলছে। সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। খুলনা অঞ্চলের মানুষ বসবাস করতে পারবে না। সেজন্য রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চেষ্টার প্রতিবাদে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ এবং বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি লংমার্চ করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা তেল-গ্যাস কমিটির পাশে আছি। আপনাদের যা দরকার লাগবে আমাদের বলবেন। দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে প্রস্তুত আছি।’

নৌমন্ত্রী কেন পোশাকশিল্প নিয়ে কথা বলেন
বিরোধী দলের নেতা বলেন, সরকার পোশাকশিল্প ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘নৌমন্ত্রী কেন যান পোশাকশিল্প নিয়ে কথা বলতে? সরকার দেশে পোশাক শিল্প বন্ধ করে অন্য কোথাও চালু করার পরিকল্পনা করছে।’ এটা ধ্বংস করে দেশে তারা বেকার সৃষ্টি করতে চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গ্রামীণ ব্যাংককে দেউলিয়া করবে সরকার
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো লোকদের সম্মান করে না। তিনি বলেন, অন্যকে সম্মান না করলে সম্মান পাবেন না। দেশের মানুষের কাছে ধিকৃৃত হবেন। তিনি বলেন, ড. ইউনূস দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে আছেন। তাই তাঁর কাছে গ্রামীণ ব্যাংক ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। না হলে এটিও অন্য ব্যাংকের মতো দেউলিয়া হয়ে যাবে।
সাগর-রুনির খুনিকে ধরলে সত্য বের হয়ে আসবে
সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যার কথা তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, আসল খুনিকে ধরা হয়নি। কারণ আসল খুনিকে ধরলে সত্য বেরিয়ে আসবে। সরকারের দুর্নীতি যাতে প্রকাশ না হয় সেজন্য সাগর-রুনিকে হত্যা করা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘পাপ কোনো দিন চাপা থাকে না। সব তথ্য আমাদের কাছে আছে। সময়মতো জনগণের সামনে আনা হবে।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তথ্যগুলো সঠিকভাবে প্রচার করতে হবে।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত হলে থলের বিড়াল বের হবে
খালেদা জিয়া বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। হলে থলের বিড়াল বের হয়ে আসত। তিনি বলেন, যারা দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে রক্ষা করতে পারে না, তারা দেশকে কীভাবে রক্ষা করবে?

আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা আলেমদের হত্যা করেছে
খালেদা জিয়া বলেন, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করেছে। কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে। রাস্তার আলো নিভিয়ে বহু লোককে হত্যা করেছে। রক্তে রাজপথ ভেসে গেছে।

দেশ ডাকাতের হাতে
খালেদা জিয়া শেয়ারবাজার, সোনালী ব্যাংকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সরকার ডাকাতি করেছে। আজকে ডাকাতের হাতে বাংলাদেশ পড়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে লোকের বিদেশে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ জনগণ আর এই সরকারকে বিশ্বাস করে না। সরকারের আমলে মানুষ অত্যাচারিত ও নির্যাতিত হচ্ছে।
দুটো পদ্মা সেতু করব
খালেদা জিয়া জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘পদ্মা সেতু কি হচ্ছে? হচ্ছে না। সরকার করতে পারল না। সব চুরি করে নিজের পকেটে ভরল। দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিল। ক্ষমতায় এলে দুটো পদ্মা সেতু করব আমরা।’

সরকারকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছে খুলনা
খালেদা জিয়া বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থীকে নির্বাচিত করে খুলনাবাসী সরকারকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছে। এজন্য সরকারের ভয়। সরকার এখন একলা নির্বাচন করতে চায়। খালেদা জিয়া বলেন, ‘আসার সময় দেখেছি রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ। যে সরকার একটা রাস্তা মেরামত করতে পারে না সে সরকারের আমলে কীভাবে উন্নয়ন আশা করা যায়। কাজেই তাদের কাছে উন্নয়নের আশা করা অর্থহীন। তাদের উন্নয়ন এমন, যা চোখে দেখা যায় না। বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা লুট করে তারা নিজেদের উন্নয়ন করেছে।’


আরোও সংবাদ