হাসিনাকেও কাঁদতে হবে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৭ মে , ২০১৪ সময় ১১:০০ অপরাহ্ণ

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, গুম, খুন ও অপহরণ হওয়া ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজনের মতো একদিন শেখ হাসিনাকেও কাঁদতে হবে। এসবের জবাবদিহি করতে হবে।হাসিনাকেও কাঁদতে হবেবিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী জোট নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক এমপি নিখোঁজ সাইফুল ইসলাম হিরু ও পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজের পরিবার। নয়টায় খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারা সাক্ষাৎ করেন। এ সময় নিখোঁজ সাইফুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তার স্ত্রী ফরিদা ইসলাম, বড়মেয়ে তাসনুভা ইসলাম, ছোট মেয়ে মাশরুফা ইসলাম, একমাত্র ছেলে বাফসানুল ইসলাম, জামাতা মহিউদ্দিন আহমেদ খান এবং তৌসিফুর রহমান এবং নিখোঁজ হুমায়ুন কবির পারভেজের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তার স্ত্রী শাহনাজ আক্তার, ছেলে শাহরিয়ার কবির রাতুল, মেয়ে ময়মুনা জাহান ঈশিতা, জান্নাতুল মাইশা, ছোটভাই গোলাম ফারুক, শ্বশুর সৈয়দ আহমেদ মোল্লা ও ভগ্নিপতি গিয়াস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নাজিম উদ্দিন আলম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল কবির খোকন, মহিলা দলের সভাপতি নুরে আরা শাফা, সাধারন সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সাবেক এমপি কর্ণেল (অব) আনোয়ারুল আজিম, আবুল কালাম, ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী, লাকসাম উপজেলা চেয়ারম্যান ইলিয়াস পাটওয়ারি, বিএনপি নেতা শাহ সুলতান খোকন ও কাজী আবুল বাশার এ সময় উপস্থিত ছিলেন। নিখোঁজ পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, ২০১৩ সালের ২৭শে নভেম্বর র‌্যাব সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম হিরু এবং লাকসাম পৌর বিএনপি সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের আর কোন হদিস পাওয়া যায়নি।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, গুম, খুন ও অপহরণ হওয়া ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজনের মতো একদিন শেখ হাসিনাকেও কাঁদতে হবে। এসবের জবাবদিহি করতে হবে।

গত বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ কুমিল্লার লাকসামের বিএনপির দুই নেতার স্বজনেরা আজ মঙ্গলবার রাতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর গুলশান কার্যালয়ে দেখা করেন। এ সময় খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের প্রতি এ সময় খালেদা জিয়া সমবেদনা জানান এবং ধৈর্য ধারণ করার পরামর্শ দেন।

খালেদা জিয়া বলেন, দল গুছিয়ে শিগগির তাঁরা আন্দোলনের কর্মসূচি দেবেন। সরকার যতই গুম-খুন করুক, তাদের বিদায় করে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

লাকসামের উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং লাকসাম পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবিরকে গত বছরের ২৭ নভেম্বর ‘গুম’ করা হয়েছে বলে দাবি করে আসছে বিএনপি।

খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, পুলিশ, প্রশাসন, বিচার বিভাগ দলীয়করণ করা হয়েছে। এখন দেশে দুই রকম বিচার চলছে। সরকারি দলের সদস্যদের জন্য এক রকম আর বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের জন্য আরেক রকম বিচার। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা কোনো অপরাধ না করলেও তাদের শাস্তি দেওয়া হয়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের লোকেরা গুম-খুন করলেও তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত র্যাব সদস্যদের বিচারেরও দাবি জানান খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়া বলেন, সরকার বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেয় না। তারা এত অপকর্ম করেছে, গুম-খুন, সন্ত্রাস, আত্মীয়করণ করেছে যে তা চিন্তার বাইরে। সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। এ কারণে এখন তারা জনগণকে ভয় পায়।

খালেদা জিয়া বলেন, এভাবে চলতে পারে না। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। সরকারের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। ‘খুনি সরকারের’ বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।


আরোও সংবাদ