হালিশহরে দেওয়া হবে ২ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩ মে , ২০১৮ সময় ০৭:৪৪ অপরাহ্ণ

পানিবাহিত হেপাটাইটিস-ই (জন্ডিস) ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে নগরের হালিশহরে ২ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি এবং ১ লাখ ওরস্যালাইন বিতরণ করবে সিভিল সার্জন কার্যালয়।

বৃহস্পতিবার (৩ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, হালিশহরের কয়েকটি এলাকায় জন্ডিস ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি ও ওরস্যালাইন বিতরণ ছাড়াও রোববার (৬ মে) হালিশহর আরবান ডিসপেন্সারিতে বিআইটিআইডির সহযোগিতায় একটি অস্থায়ী ক্যাম্প খোলা হবে। যাতে জন্ডিসে আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে সব ধরনের প্যাথলজি পরীক্ষা করা হবে। তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ঢাকার আইইডিসিআর থেকে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ধারণা দূষিত পানির পাশাপাশি পচা-বাসি খাবার, রাস্তার পাশের দোকানের শরবত ইত্যাদিও জন্ডিস-ডায়রিয়ার জন্য দায়ী। তাই হোটেলে পচা-বাসি খাবার এবং রাস্তার পাশে ভাসমান শরবত বিক্রেতাদের উচ্ছেদে জেলা প্রশাসককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, হালিশহরে সব বাসা-বাড়িতে ওয়াসার পানির লাইন নেই। তাই ওয়াসার পানি সরবরাহের লাইনের সঙ্গে স্যুয়ারেজ লাইনের যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা ছাড়াও বিভিন্ন বাসা-বাড়ির ছাদের ওপর ও ভূগর্ভস্থ পানির ট্যাংকেও জীবাণুর আধার হতে পারে। তাই আমরা সবাইকে ফুটন্ত পানি পান করার পাশাপাশি থালা-বাসন ধোয়াসহ কুলি করার কাজেও ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছি। শিগগির আমাদের ঢাকার টিম ও ওয়াসার টিম দুইটি জায়গা থেকে একসঙ্গে পানির নমুনা সংগ্রহ করবে।

বুধবার (২ মে) ২৫ জন জন্ডিস আক্রান্ত রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহের পর দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (৩ মে) আরও ৬ জন রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে আনন্দীপুরের ২ জন এবং ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ৪ জন রোগী রয়েছেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে সিভিল সার্জন জানান, আমরা শুধু পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি ও ওরস্যালাইন বিতরণ করব না। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবার্তাও প্রচার করব। এ লক্ষ্যে লিফলেট ছাপানো হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) স্বাস্থ্য বিভাগ জন্ডিস ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের বিশদ কেস হিস্ট্রি নেবে। আমরা সচেতনতামূলক কার্যক্রমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবীদের অন্তর্ভুক্ত করছি।
এদিকে ডায়রিয়া ও জন্ডিসের রোগীদের সুচিকিৎসা ও তথ্য সরবরাহের জন্য নতুন একটি জেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (০১৮১৬ ০৩১১২১) খোলা হয়েছে।