হালদা নদীর পাড় কাটা, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে মাছ শিকার

প্রকাশ:| শনিবার, ২৩ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ০৭:০৬ অপরাহ্ণ

হালদা নদীর পাড় ২
শফিউল আলম, রাউজান ঃ প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর তীর কেটে পাড় কাটা মাটি দিয়ে তৈয়ারী করা হচ্ছে ইট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে মাছ শিকার । দক্ষিন এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে প্রতি বৎসর এপ্রিল মাস থেকে জুন, জুলাই মাসে রুই, কাতলা,মৃগেল, কালীবাউশ মাছ ডিম ছাড়ে । হালদা নদীতে ছাড়া মা মাছের ডিম ডিম সংগ্রহকারীরা নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করে নদীর তীরে মাটির কুয়ায় ও মৎস বিভাগের নির্মিত হ্যাচারীতে ফুটিয়ে রেনু উৎপাদন করেন । হলদা মা মাছের ডিম থেকে ডিম ফুটানোর পর দেশের বিভিন্ন এলাকার মৎসচাষী, মৎস হ্যাচারীর মালিকেরা হালদার মাছের পোনা ক্রয় করে নিয়ে যায় । হালদা নদীর মাছের পোনা পুকুর জলাশয়ে ফেলে মাছের চাষ করার পর মৎসচাষী ও মৎস হ্যচারীর মালিকেরা লাখ লাখ টাকা মাছ বিক্রয় করে আয় করেন । প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মাঠের অভয় আশ্রম গড়ে তোলার লক্ষ্যে মৎস মন্ত্রনালয় হালদা নদীর নাজির হাট থেকে কালুর ঘাট পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ নদীতে মাছ শিকার নিষিদ্ব করেন । হালদা নদীতে যান্ত্রিক নৌডান চলাচল নিষিদ্ব করা হয় । হালদা নদীকে মাছের অভয় আশ্রম গড়ে তোলতে প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী পুনঃরুদ্বার প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প করা হয় । প্রকল্পের আওয়তায় হালদা নদীর তীরবর্তী হেলে, মৎসজীবিদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ বিতরন, হালদা নদীর তীরে বৃক্ষরোপন, ডিম ফুটানোর জন্য রাউজানের পশ্চিম গহিরা, গহিরা মোবারক খীল, কাগতিয়া, হাটহাজারীর মাছুয়া ঘোনা, মার্দ্রাসা এলাকায় হ্যচারী নির্মান করা হয় ।
হালদা নদীর পাড়
হালদা নদীর সুফল ভোগীদেরকে ভিজি এফ কার্ডের আওতায় খাদ্যশষ্য প্রদান করা হয় । নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী থেকে প্রতিনিয়ত নৌকা নিয়ে বড়শী ও জাল দিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছে এলাকার অসাধু ব্যক্তিরা । রাউজানের নোয়াপাড়া ছায়ার চর, মোকামী পাড়া ও সার্কর্দা ভেঙ্গে নদীর ঐ পাড়ে হেগে উঠা হালদার চর থেকে প্রতিনিয়ত ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে ।এলাকার লোকজন জানান, চর থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে বোট ও নৌকা যোগে চর কাটা মাটি হালদা নদীর তীরে গড়ে উঠা রাউজানের কচুখাইন, সার্কর্দা, পশ্চিম আবুল খীল, হাটহাজারীর পুর্ব মেখল এলাকায় নগরীর মোহরা ইটের ভাটায় বিক্রয় করছে এলাকার মাটি বিক্রয় সিন্ডিকেটের সদস্যরা । হালদা নদীর তীরে গড়ে উঠা ইটের ভাটার মালিকেরা ও হলদা নদীর পাড় কেটে ও জেগে উঠা চর থেকে ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন রাতে মাটি কেটে যান্ত্রিক বোট ও নৌকা যোগে ইটের ভাটায় এনে মাটির স্তুপ দিয়ে ঐ মাটি দিয়ে ইট তৈয়ারী করছে অবাধে । প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর সার্কদা, কচুখাইন, মোকামী পাড়া, উরকিরচর, মদুনাঘাট, পশ্চিম আবুর খীল, মগদাই সুইস গেইট, আজিমের ঘাট, পশ্টিম বিনাজুরী, কাসেম নগর, মেবারক খীল, দক্ষিন গহিরা, বদুর ঘোনা, কোতেয়ালী ঘোনা, নদীম পুর, নগরীর মোহরা, মার্দরাসা, গড়দুয়ারা, মেখল এলাকার শতাধিক স্পটে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ড্রেজার ও পাওয়ার পাম্প বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে । বেপরোয়া ভাবে বালু উত্তোলন, মটি কাটার ফলে প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর মাছের অবয় আশ্রম হুমরি মুখে পড়েছে । অপরদিকে হালদা নদীর ভাঙ্গন দিন দিন বৃদ্বি পেয়ে এলাকার এলাকার বাসিন্দ্বাদের বসতঘর, ফসলী জমি হালদা নদীতে বিলিন হয়ে রাউজান- হাটাহাজারী দুই উপজেলার দুই হাজারের বেশী পরিবার হালদা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বসত ভিটা হারিয়ে ভাড়া বাসায় ও নিজের জম্মভুমি ছেড়ে অন্য এলাকায় গিয়ে আত্বিয় স্বজনের বাড়ীতে ভাঙ্গনো বসত ভিটা হারানো পরিবারের মধ্যে নগন্য সংখ্যক পরিবার অন্য স্থানে জমি ক্রয় করে বসতভিটা গড়ে তোলেছেন । প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর হেগে উঠা চর থেকে মাটি কাটা ও পাড় কেটে ইটের ভাটায় ইট তৈয়ারী করা ও বেপরোয়ভাবে বালু উত্তোলন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের ফলে হালদা নদীর মা মাছের বংশ বিস্তার হুমকির মুখে পড়েছে । এই প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা মৎস অফিসার হালদা প্রকল্প পরিচালক প্রভাতী দেবের কাছে মুঠো ফোনো জানতে চাইলে জেলা মৎস অফিসার হালদা প্রকল্প পরিচালক প্রভাতী দেব বলেন, হালদা নদী থেকে মাছ শিকারের বিষয়ে আমাকে কেউ বলেনি, হালদা নদীর পাড় কেটে, জেগে উঠা চর কাটা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে জানানো হবে । এদিকে গত ২৯ জানুয়ারী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামিম আল ইয়ামীন হালদা পাড়ের তিনটি ভাটায় অভিযান চালিয়ে তিনটি তিনটি ভাটাকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে। দুটি ভাটার দুজনকে ২১ দিন করে কারদণ্ড দিয়েছে। অভিযান পরিচালনাকারীরা হালদা পাড়ের কচুখাইন এলাকার এ আলী ব্রিকফিণ্ড, একই এলাকার শাহ আলম মজুমদার কেবিআই ব্রিকফিল্ড ও উরকিরচর আবুরখীলের শান্তি রঞ্জন বড়–য়ার শান্তি ব্রিকফিল্ডে লাইসেন্স বিহীন ও পরিবেশ সনদ ছাড়া ইট তৈরীর অপরাধে প্রতি ফিল্ডকে এখ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। ভ্রাম্যমান আদালত এ সময় এস আলী ফিল্ডের ম্যানেজার ও কেবিআই ফিল্ডের ম্যানেজার যথাক্রমে রবিন্দ্র লাল দে ও সাহাবুদ্দিন আহমদকে ২১ দিন করে কারাদণ্ড প্রদান করেন । অভিযানের পর ও থেমে থাকেনি হালদার নদীর পাড় কাটা, হালদা নদীতে হেগে উঠা চর কাটা ।