হালদা নদীতে মাত্রাতিরিক্ত অত্যাচার!

প্রকাশ:| সোমবার, ১৮ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ০৬:৪০ অপরাহ্ণ

মাত্রাতিরিক্ত অত্যাচার

শফিউল আলম, রাউজান প্রতিনিধিঃ দক্ষিন এশিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর পাড় কেটে নদীটির উপর নির্মম ভাবে অত্যাচার শুরু করছে বি,বি,এফ নামে একটি ব্রীক ফিল্ড। দেশের প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ উৎপাদনকারী এই নদীর উপর মাত্রাতিরিক্ত অত্যাচার হলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিরবতা রহস্যজনক। এনিয়ে এলাকার পরিবেশবাদীরা সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিরবতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সরোজমিন পরিদর্শন কালে দেখা যায়, রাউজান পশ্চিম গহিরা হালদা’র তীর সংলগ্ন মেখল ইউনিয়নের শেষ সীমান্তে গড়ে উঠেছে একটি প্রতিষ্ঠিত ইট ভাটা। হালদার পাড় দখল নিয়ে এই ভাটাটি ইট প্রস্তুত করছে প্রায় এক যুগ ধরে। ভাটাটি জম্ম লগ্ন থেকে ইট তৈরী করছে হালদা নদীর মাটি দিয়ে। জ্বালানী হিসাবে কয়লার বিপরীতে ব্যবহার করে আসছে কঁচি কাঠ । ফিল্ডের চতুরপাশে স্তুপ করে সাজিয়ে রেখেছে জ্বালানী কাঠ। চুল্লির দায়িত্বে থাকা শ্রমিকরা একে একে করে চুলার মুখে ঢালছেন এক সাইজের কঁচি এই গাছের টুকরা। খবর নিয়ে জানা যায়, বিবিএফ নামে এই ইট ভাটার মালিক হলদিয়া ইয়াছিন শাহ কলেজের প্রভাষক আবদুল মন্নান। ইট ভাটার উত্তর প্রান্তে চোখ বুলালে দেখা যাবে বিশাল আকৃতির একটি মাটির স্তুপ। এই মাটির স্তুপের পিছনে গেলে দেখা মেলে শতাদিক মাটিয়াল হালদার পাড় কেটে মাটি ফেলছে এই মাটির স্তুপের উপর। বিশাল এই মাটির স্তুপ থেকে পূর্ব দিকে কিছু শ্রমিক কাঁচা মাটি দিয়ে ফর্মায় গুটি পাকিয়ে ইট তৈরী করছে। কিছু শ্রমিক কাঁচা ইট গুলি রৌদে শুকাতে সাড়ি বন্ধ ভাবে সাজিয়ে রাখছেন। হালদার পাড় কেটে ফেলা প্রসঙ্গে মাটিয়ালদের মতামত জানতে চাইলে তারা জানান ইট ভাটার মালিকের নির্দেশে মাটি কাটা হচ্ছে। হালদার মাটি ও পাড় কাটার কোন অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তারা জানান তাহা মন্নান সাহেব জানেন। এশিয়া খ্যাত হালদা নদীর মাটি ও পাড় কাটার প্রসঙ্গে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে ইট ভাটার ম্যানেজার আবু হানিফ জানান, আপনি ও দেখছেন এটা হালদা নদীর পাড় কাটা হচ্ছে এই বিষয়ে আমি কি বলবো । এই ফিল্ডের মালিক রাউজানের হজরত এয়াসিন শাহ কলেজের প্রভাষক অধ্যাপক আবদুল মন্নান বলেন আমি হালদার পাড় থেকে মাটি কাটতে নিষেধ করেছি । এই ব্যাপারে কোন রিপোর্ট করবেনা আমি আপনার সাথে কথা বলবো । স্থানীয়রা জানান, ইট ভাটার অত্যাচারে হালদা তার নিজস্ব গতি হারাতে বসেছে। বিরুপ প্রভাব পড়েছে মৎস্য সম্পদের উপর। হালদা বিশেষজ্ঞদের মতে চৈত্র- বৈশাখ মাসে নুনা পানির মা মাছ হালদা’র মিটা পানিতে ডিম ছাড়ার শত বছরের প্রাকৃতিক নিয়ম রয়েছে। তাহা ধ্বংস করছেন কিছু অসাধু ইট ভাটা ও একদিক অবৈধ বালি মহাল। তাদের তথ্যনুসন্ধান মতে গত এক যুগ ধরে মা মাছের অভয় অরুন্য আগের তুলনায় কমে গেছে। এই ভাবে চলতে থাকলে হারিয়ে যাবে মৎস্য প্রজনন। কর্মহীন হয়ে পরবে হালদার দুই পাড়ে বসবাসকারী জেলেরা। ইটভাটার মালিক কর্তৃক হালদার উপর অত্যাচার প্রসঙ্গে রাউজান পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ আন্দোলন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার জানান, হালদা বিশ্বের ন্যাচারাল সম্পদ। পাড় কাটা, ইট ভাটা স্থাপন ও হালদার পানি দূষণ দু:খ জনক। তিনি বলেন, ইট ভাটা অবশ্যই উচ্ছেদ করতে হবে। এই ব্যাপারে রাউজান পরিবেশ আন্দোলন কমিটির সভাপতি সাংবাদিক মীর আসলাম বলেন হালদা নদীর পাড় কেটে ইটের ভাটায় ইট তৈরীর বিষয়ে পত্রিকায় প্রতিনিয়ত সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের টনক নড়বে ।