হালদা নদীতে ডিম সংগ্রহে প্রহর গুনছেন ডিম সংগ্রহকারীরা

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ , ২০১৬ সময় ১০:১৬ অপরাহ্ণ

ডিম সংগ্রহ

শফিউল আলম, রাউজান প্রতিনিধি ঃ প্রবল বর্ষন হলে ও প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়েনি নদীতে মা মাছের ডিম সংগ্রহের প্রতিক্ষার প্রহর গুনছেন সহস্রাধিক ডিম সংগ্রহকারী । গত ২৮ মার্চ সোমবার সন্দ্ব্যা থেকে রাত সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত প্রবল বর্ষন ও বজ্রপাত হয় । এসময়ে রাউজানের পশ্চিম গহিরা অংকুরী ঘোনা, দক্ষিন গহিরা, পশ্চিম বিনাজুরী, কাগতিয়া, কাসেম নগর, আজিমের ঘাট, মগদাই, আবুর খীল, খলিফার ঘোনা, উরকির চর, হার পাড়া, মইশকরম, সার্কদা, মোকামী পাড়া, কচুখাইন, হাটহাজারীর মেখল, গড়দুয়ারা, মার্দরাসা, দক্ষিন মার্দরাসা এলাকার সহস্রাধিক জেলে, ডিম সংগ্রহকারীরা নৌকা ও জাল নিয়ে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে এই আশায় প্রতিক্ষার প্রহর গুনতে থাকে । গত সোমবার দিবাগত রাত থেকে ২৯ মার্চ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সময়ে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম না ছাড়ায় ডিম সংগ্রহকারীরা হতাশ হয়ে ফিরে যায় । ডিম সংগ্রহকারীরা জানান হালদা নদীতে মা মাছের আনা গোনা বেড়েছে । আরো বর্ষন হলে যে কোন সময়ে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে বলে আশা করছেন ডিম সংগ্রহকারীরা । হালদা নদী পরিদর্শন কালে দেখা যায় রাউজানের পশ্চিম গহিরা অংকুরী ঘোনা, দক্ষিন গহিরা, পশ্চিম বিনাজুরী, কাগতিয়া, কাসেম নগর, আজিমের ঘাট, মগদাই, আবুর খীল, খলিফার ঘোনা, উরকির চর, হার পাড়া, মইশকরম, সার্কদা, মোকামী পাড়া, কচুখাইন, হাটহাজারীর মেখল, গড়দুয়ারা, মার্দরাসা, দক্ষিন মার্দরাসা এলাকায় হালদা নদীর দুই তীরে মাটির কুয়া তৈয়ারী করে রেখেছে ডিম সংগ্রহকারীরা । মা মাছ ডিম ছাড়লে ডিম সংগ্রহকারীরা নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করে মাটির কুয়ায় ফেলে ডিম থেকে রেনু ফুটানোর পর রেনু বিক্রয় করার প্রতাশ্যায় রয়েছে । হালদা নদীতে থেকে মা মাছের ডিম সংগ্রহের পর ডিম ফুটানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে রাউজানের পশ্চিম গহিরার পাকা হ্যাচারী, কাগতিয়ার হ্যাচারী, মোবারক খীল হ্যাচারী, মদুনাঘাট, মার্দরাসার হ্যাচারীগুলো । রাউজানের পশ্চিম গহিরা অংকুরী ঘোনা এলাকার ডিম সংগ্রহকারী বিতান বড়–য়া জানান, হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছেন । গত সোমবার রাতে প্রবল বর্ষন হলে ও হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়েনি । হালদা নদীতে প্রচুর পরিমান মা মাছের আনা গোনা বেড়েছে । প্রবল বর্ষন ও বজ্রপাত হলে নদীতে পানির শ্রোত হলে যে কোন সময়ে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে বলে ডিম সংগ্রহকারী বিতান বড়–য়া জানান । ডিম সংগ্রহকারী বিতান বড়–য়া হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়লে নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করে ডিম ফুটানোর জন্য নদীর তীরে মাটির কুয়া খনন করে তৈয়ারী করে রেখেছেন । ডিম ফুটানোর পর রেনু পুকুরে ফেলে মাছের পোনা উৎপাদনের জন্য ডিম সংগ্রহকারী বিতান বড়–য়া তার বাড়ীর সামনে ও পার্শ্বে চারটি পুকুরের পানি সেচ পাম্পের মাধ্যমে বাইরে ফেলে দিয়ে শুকিয়ে রেখেছেন । চারটি পুকুরের মধ্যে সেচ পাম্প বসিয়ে রাখা হয়েছে । প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে যান্ত্রিক নৌযান চলাচল নিষ্দ্বি করা হলে ও হালদা নদী পরিদর্শন কালে দেখা গেছে, হালদা নদীর বিভিন্ন স্থানে পাওয়ার পাম্প ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে । হালদা নদী থেকে উত্তোলন করা বালু যান্ত্রিক নৌযান করে পরিবহন করার দৃশ্য দেখা যায় । এ ব্যাপারে রাউজান উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস অফিসার দিপন কান্তি দাশ বলেন, হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে জেলা মৎস অফিসার প্রভাতি দেব সহ অভিযান চালিয়ে নদীতে মাছ ধরার জাল উদ্বার করে জালগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে । হালদা নদীতে কোন বালু মহল ইজারা দেওয়া হয়নি বলে দাবী করে রাউজান উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি দিপক কুমার রায় বলেন, হালদা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলকারীদের বিরুদ্বে অভিযান পরিচালনা করা হবে ।