হালদায় মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে

প্রকাশ:| রবিবার, ১১ মে , ২০১৪ সময় ০৬:২২ অপরাহ্ণ

এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। রোববার বেলা চারটায় রাম দাশ মুন্সীর হাট এলাকায় মা মাছ ডিমের নমুনা ছেড়েছে।

তবে আহরণকারীরা জানিয়েছেন, নমুনার পরিমাণ বেশি নয়। ডিম সংগ্রহকারীরা ডিম ছাড়ার জন্য এটি মা মাছের পূর্ব প্রস্তুতি বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। আজ-কালের মধ্যে মা মাছ পুরোপুরি ডিম দেবে বলে ‍আশা প্রকাশ করছেন রাম দাশ মুন্সীর হাট এলাকার ডিম আহরণকারী মো. কামাল।

সাধারনত মা মাছ চৈত্র থেকে বৈশাখ ‍মাসে আমাবস্যা, পূর্ণিমা ও অষ্টম তিথিতে প্রবল পাহাড়ি ঢলে নদীতে ডিম ছাড়ে।

গত কয়েকদিন হাটহাজারী,ফটিকছড়ি ও রাউজান এলাকায় বজ্রসহ প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে রোববার রাতে পাহাড়ি ঢলের তোড় বৃদ্ধি পেলে মা মাছ হালদা নদীতে ডিম ছাড়বে।

হালদা নদীতে মা মাছ নমুনা ছেড়েছে এ খবর ডিম আহরনকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পরলে ডিম আহরনকারীরা নৌকা ও ডিম আহরনের সরঞ্জাম নিয়ে হালদা পাড়ে অপেক্ষা করছে।

ডিম দূর্বৃত্তরা যাতে লুট করতে না পারে সেজন্য চট্টগ্রামের রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশে পাহারাও বসিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। উপজেলা মৎস্য বিভাগ ডিম ফুটানোর জন্য হাটহাজারী এলাকায় মদুনাঘাট শাহ মাদারী,মাছুয়াগোনা ও গড়দুয়ারা এবং রাউজানের কাগতিয়া,মোবারকখীল ও পশ্চিম গহিরার পাঁচটি হ্যাচারি প্রস্তুত রয়েছে। যাতে মা মাছ ডিম ছাড়ার সাথে সাথে হ্যাচারিতে এনে ডিম ফুটাতে পারে। হ্যাচারি সহাকারীগন গত কয়েকদিন পর্যন্ত হ্যাচারি গুলোতে অবস্থান করছেন।

হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, হালদায় মা মাছ ডিম ছাড়াটা প্রকৃতি নির্ভর। কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি ঢল সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া রাম দাশ মুন্সীর হাট এলাকায় মা মাছ ডিমের নমুনা ছেড়েছে। আজ সন্ধ্যায় বা রাতে মা মাছ নদীতে ডিম ছাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, গত বছর এই হালদা নদী থেকে এক হাজার ৫০ কেজিরও বেশি ডিম আহরতি হয়। এরআগের বছর আহরিত হয় ৬০০ কেজির মত। তবে এবার মাছের আনা-গোনা যেরকম দেখা যাচ্ছে তা আশাব্যঞ্জক। সবকিছু যদি অনুকুলে থাকে তাহলে এক হাজার ৭০০ কেজি এক হাজার ৮০০ কেজি পর্যন্ত ডিম আহরণ করা সম্ভব হতে পারে বলে মৎস্য কর্মকর্তা ও হালদা গবেষকরা ধারনা করছে।


আরোও সংবাদ