হালদায় মা মাছের আনাগোনা বেড়েছে, ডিম ছাড়বে যে কোন সময়

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল , ২০১৬ সময় ১১:০২ অপরাহ্ণ

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছের আনাগোনা বেড়েছে। যেকোন সময় ডিম ছাড়তে পারে মা মাছ।
হালদায় মা মাছের আনাগোনা
এ নদীতে চৈত্র-বৈশাখ মাসে রুই, কাতলা মৃগেল ও কার্প জাতীয় মা মাছ ডিম ছাড়ে। চৈত্র মাসে নদীতে ছাড়া ডিম খুবই উৎকৃষ্ট। এ ডিমের পোনা দ্রুত বর্ধনশীল। বাংলা বছরের শেষ মাস থেকে বিশেষ করে ফাল্গুন মাসের শেষ দিকে সাংগু, মাতামুহুরী, কর্ণফুলীসহ বিভিন্ন শাখা নদী ও খাল থেকে মা মাছ হালদা নদীতে চলে আসে। প্রতি বছরের মতো এবারও মা মাছগুলো হালদা নদীতে এসেছে। মাছের পেট ভর্তি ডিম নিয়ে চৈত্র মাসে অমাবস্যা ও পূর্ণিমা দুটি বড় তিথি চলে গেছে। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় মা মাছ নমুনা দিলেও ডিম ছাড়েনি। নদীতে ডিম ছাড়তে বজ্রসহ প্রবল বর্ষণ প্রয়োজন। বর্ষণের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের বেগ প্রবল হলে মা মাছগুলো উজানে এসে ডিম ছাড়ে। কিন্তু এবার বৈশাখে মাসে সামান্য বৃষ্টি হলে বর্ষণ হয়নি। বর্ষণ না হওয়ায় হালদা নদীতে ঢলের বেগ না থাকায় মা মাছ ডিম ছাড়েনি।

প্রত্যেক বছর ডিম আহরণকারীরা ফাল্গুন মাস থেকে ডিম আহরণের সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত থাকে। এবারও ডিম আহরণকারীরা ইতোমধ্যেই তাদের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। একসময় ‘মাটির কুয়া’ ডিম থেকে রেনু ফোটানোর একমাত্র মাধ্যম ছিল। সনাতনী এ পদ্ধতিতে ডিম ফোটাতে গিয়ে অনেক ডিম নষ্ট হয়ে যেত। বিষয়টি সরকারের দায়িত্বশীল বিভাগের দৃষ্টিগোচর হলে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে হাটহাজারীতে চারটি এবং রাউজানে তিনটি হ্যাচারী প্রতিষ্ঠা করা হয়। এসব হ্যাচারীতে আধুনিক প্রদ্ধতিতে ডিম থেকে রেনু ফোটানো হয়। এতে করে ডিম বেশী নষ্ট হয় না। হালদা নদী ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও রাউজানের সীমানা নির্ধারণকারী।

ফটিকছড়ি এলাকায় মা মাছ স্বাধীনতার পর থেকে ডিম ছাড়ে না বলে এ উপজেলায় সরকার ডিম ফোটানোর জন্য কোন হ্যাচারী প্রতিষ্ঠা করেনি। হাটহাজারী-রাউজানের সীমানায় মা মাছ ডিম ছাড়ে বলে এ দুই উপজেলায় সরকার সাতটি ডিম ফোটানোর জন্য হ্যাচারী প্রতিষ্ঠা করেছেন। সামনে অমাবস্যা তিথি। এ তিথিতে বর্ষণ হলে মা মাছ নদীতে ডিম ছাড়তে পারে। ইতোমধ্যে নদীতে মা মাছের আনা গোনা দেখা গেছে বলে ডিম আহরণকারীরা জানিয়েছেন।

হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ডিম আহরণের জন্য আহরণকারীরা প্রস্তুত রয়েছে। সে জন্যমৎস্য বিভাগ হ্যাচারীগুলো ঠিক করে রেখেছে। নদী থেকে দুর্বৃত্তরা যাতে মা মাছ মারতে না পারে এ জন্য পাহারার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।


আরোও সংবাদ