হালদায় মা মাছের আনাগোনা; ডিম ছাড়তে অপেক্ষা

প্রকাশ:| সোমবার, ৬ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ০২:৫৯ অপরাহ্ণ

কেশব কুমার বড়ুয়া, হাটহাজারী ॥

হালদায় মা মাছের আনাগোনা১এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীতে মা মাছের আনাগোনা বেড়েছে। মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে ডিম আহরণের জন্য হ্যাচারীগুলো প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। নদী থেকে দুর্বৃত্তরা যাতে মা মাছ মারতে না পারে এ জন্য পাহারার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মা মাছের নিরাপদ বিচরণের জন্য নদীতে ইঞ্জিন চালিত নৌযানের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। তাছাড়া হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন হালদা নদী পাহারার জন্য পানকৌড়ি নামে একটি নৌযান সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রেখেছে।

হালদা নদীতে চৈত্র বৈশাখ মাসে রুই,কাতলা,মৃগেল ও কার্প জাতীয় মা মাছ ডিম ছাড়ে। চৈত্র মাসে নদীতে ছাড়া ডিম খুবই উৎকৃষ্ট। এ ডিমের পোনা দ্রুত বর্ধনশীল। বাংলা বছরের শেষ মাস থেকে বিশেষ করে ফাল্গুন মাসের শেষ দিকে সাঙ্গু, মাতামুহুরী,কর্ণফুলি নদীসহ সংযুক্ত বিভিন্ন শাখা নদী ও খাল থেকে মা মাছ হালদা নদীতে চলে আসে। হালদা নদী সংযুক্ত বিভিন্ন নদী ও খাল থাকলেও এসব খাল ও নদীতে মা মাছের ডিম ছাড়ার উপযুক্ত পরিবেশ নেয়। প্রকৃতি হালদা নদী বাংলাদেশের আশীর্বাদ হিসাবে এমন ভাবে উপযোগী করেছে এ নদী মা মাছের মেটারনিটি ক্লিনিক স্বরূপ। মা মাছের নিরাপদে ডিম ছাড়তে অনুকূল পরিবেশ থাকায় আশপাশের খাল ও নদী থেকে পেট ভর্তি ডিম নিয়ে কার্প জাতীয় মা মাছ হালদা নদীতে চলে আসে। ইতিমধ্যে কয়েক দফা বৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টির কারণে নদী, নালা ও খাল বিল ছড়া প্রভৃতি পানির জলাধার শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। সম্প্রতি দফায় দফায় যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘদিন বৃষ্টি না থাকায় বৃষ্টির পানি মাটি ও পাহাড়ে চুষে ফেলেছে। ফলে পাহাড় থেকে নেমে আসা খাল ও ছড়ায় ঢল হওয়ার মত বৃষ্টি হয়নি। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় খাল ও ছরার ঢল হালদা নদীতে নামতে পারেনি। ফলে হালদা নদীতে ও ঢলের প্রকোপ হয়নি। মা মাছ সাধারণত পর্যাপ্ত বজ্রসহ বৃষ্টিপাত না হলে নদীতে ঢলের প্রকোপ না থাকতে ডিম ছাড়ে না। আবার নদীতে প্রবল ঢল ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হলেও অমাবস্যা, অষ্টমী ও পূর্ণিমা তিথি না হলে মা মাছ ডিম ছাড়েনা। চৈত্র মাসের প্রথম দিকে অমাবস্যা ও মাঝামাঝি সময়ে অষ্টমী তিথি চলে গেলেও

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

হালদা 2 হালদায় মা মাছ      হালদা নদী 1 হালদা 1 হালদা নদীবজ্রসহ প্রবল বৃষ্টিপাত না থাকায় নদীতে ঢলের তোড় না হওয়ায় মা মাছ ডিম ছাড়েনি।

সামনে পূর্ণিমা তিথি, যদি পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয় এবং নদীতে ঢলের সৃষ্টি হয় তাহলে হয়তো নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে। বর্ষণের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের বেগ প্রবল হলে মা মাছ গুলো উজানে এসে ডিম ছাড়ে। কিন্তু এবার চৈত্র মাসে অদ্যাবধি প্রবল বর্ষণ হয়নি। বর্ষণ না হওয়া হালদা নদীতে ঢলের বেগ না থাকায় এ যাবত চৈত্র মাসে মা মাছ ডিম ছাড়েনি। প্রত্যেক বছর ডিম আহরণকারীরা ফাগুন মাস থেকে ডিম আহরণের সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত থাকে। এবারেও ডিম আহরণকারীরা ইতিমধ্যেই তাদের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এক সময় মাটির কুয়া ডিম থেকে রেনু ফোটানোর এক মাত্র মাধ্যম ছিল। সনাতনী এ পদ্ধতিতে ডিম ফোটাতে গিয়ে অনেক ডিম নষ্ট হয়ে যেত।এতে ডিম আহরণকারীরা হতাশ হয়ে পড়ত। বিষয়টি সরকারের দায়িত্বশীল বিভাগের দৃষ্টিগোচর হলে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে নদীর হাটহাজারী অংশে চারটি এবং রাউজান অংশে তিনটি হ্যাচারী প্রতিষ্ঠা করা হয়। এসব হ্যাচারীতে আধুনিক পদ্ধতিতে ডিম থেকে রেনু ফোটানো হয়। এতে করে ডিম বেশি নষ্ট হয়না। হালদা নদী ফটিকছড়ি,হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার সীমানা নির্ধারণকারী। ফটিকছড়ি এলাকায় মা মাছ স্বাধীনতার পর থেকে ডিম ছাড়েনি বলে এ উপজেলায় সরকার ডিম ফোটানোর জন্য কোন হ্যাচারী প্রতিষ্টা করেনি। হাটহাজারী ও রাউজানের সীমানায় মা মাছ ডিম ছাড়ে বলে এ দুই উপজেলায় সরকার সাতটি ডিম ফোটানোর জন্য হ্যাচারী প্রতিষ্ঠা করেছেন। সামনে পূর্ণিমা তিথি এ তিথিতে পর্যাপ্ত বর্ষণ হলে মা মাছ নদীতে ডিম ছাড়তে পারে।