হালদাকে বাঁচানো না গেলে বিপন্ন হবেবৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবন

প্রকাশ:| শনিবার, ২০ আগস্ট , ২০১৬ সময় ০৮:৩১ অপরাহ্ণ

সচেতন নাগরিক সমাজ’র ব্যানারে শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীকে দূষণ ও দখলের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হয়েছে।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সিকান্দার খান বলেন, বিশ্বে যেসব প্রাকৃতিক প্রাচুর্য্যের কারণে বাংলাদেশ পরিচিত তার মধ্যে অন্যতম হালদা নদী। এই নদী কার্প জাতীয় মাছের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র। দূষণের কারণে এখন নদীটি মৃতপ্রায়। এর আশপাশের লোকালয় দূষণে বিপর্যস্ত।হালদাকে বাঁচানো না গেলে বিপন্ন হবেবৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবন

হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, হালদা নদী চট্টগ্রামবাসীর সুপেয় পানির প্রধান উৎস।এ নদী যেভাবে দূষিত হচ্ছে তাতে পানিশোধন করেও আর নগরীতে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। তখন নগরবাসী চরম পানি সংকটে পড়বে। যেসব কারখানা হালদা দূষণের জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কোনো জোরালো পদক্ষেপ কখনোই নেওয়া হয়নি।

হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজের অধ্যাপক পরিবেশবিদ ইদ্রিস আলী বলেন, হালদার মত সম্পদশালী নদী বিশ্বে বিরল। কিন্তু অবহেলা, অযত্মে আর সর্বগ্রাসী মনোভাবের কারণে আমরা হালদাকে হারাতে বসেছি। দূষণের কারণে হালদা তীরের মানুষের জীবনবিপন্ন। জনপদ শূন্য করে কার লাভ, নদী ধ্বংস করে কে মুনাফা করতে চায়? হালদা না বাঁচলে চট্টগ্রামও মুমূর্ষু হয়ে যাবে। সেজন্য হালদা রক্ষায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

প্রকৌশলী পলাশ বড়ুয়ার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জসিমউদ্দিন শাহ, হালদা রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, চ্যানেল আইয়ের ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সরওয়ার আমিন বাবু, রাশেদ খান মেনন, নাজিমুদ্দিন মিয়াজী, জাহাঙ্গীর সুমন, সৌমেন বড়ুয়া, অমিত চক্রবর্তী, লিটন, মামুন, এস এম মুজিব, চৌধুরী জাহদি প্রমুখ।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে অংশ নেয় হালদা রক্ষা কমিটি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, হাটহাজারী ফেডারেশন, রেসকোর্স, হালদা ডিম সংগ্রহকারী সমিতি, আহমদিয়া পাড়া জনকল্যাণ সংস্থা, রাউজান কবি নজরুল সাহিত্য পরিষদ, অতীশ দীপঙ্কর সোসাইটি ও সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন।

সমাবেশে হালদার ভাঙন প্রতিরোধ, মা মাছ রক্ষা, রাবার ড্যাম ও প্যারালাল খাল নির্মাণ বন্ধ, উজানের পানি প্রত্যাহার বন্ধ ও উজানে তামাক চাষ নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়।