হারুন হত্যাকান্ডে বিএনপির দুর্বল কর্মসূচি, হতাশ মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর , ২০১৭ সময় ০৯:৩৮ অপরাহ্ণ

ফারুক মুনির : চট্টগ্রামের ছাত্রদল নেতা নুরু কিংবা ঢাকার খিলগাঁও থানা ছাত্রদল সভাপতি জনি, যারা টুকটাক রাজনীতির খবর রাখেন তারা জানেন দুটি মৃত্যু নিয়ে সরকার এবং বিরোধী দল নড়ে ছড়ে বসে ছিল।
যদি আরেকটু পিছনে যাই, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রদল নেতা জমির উদ্দিন আর জাহাঙ্গীর ফরিদের কথা। শিবির সন্ত্রাসীদের হাতের এই দুই নেতা খুন হওয়ার পর শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশের ছাত্রদল এক দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছিল।
৩ ডিসেম্বর রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট থানার মাদারবাড়ি এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার ঘোষণায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ শেষে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের পথে দূর্বৃত্তরা পরিবহন ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদ চৌধুরীকে গুলি করে পালিয়ে যান।
হারুনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হারুন নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক ডেপুটি মেয়র মরহুম দোস্তগীর চৌধুরীর ভাতিজা। তিনি যুবদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।
হারুনের মৃত্যুর পর বিএনপি নেতারা ওইদিন রাত সাড়ে ৯ টার দিকে হারুনকে সদরঘাট থানা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক দাবী করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি পাঠান। তারা অংশ নেন হারুনের জানাযায়। জানাযায় অংশ নিয়ে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটি রাজনৈতিক হত্যাকান্ড নয়। সামাজিকভাবেই এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করা হবে। তার এই বক্তব্যে মূলত দলীয় নেতাকর্মীরা হতাশ হন।
বিতর্ক আছে হারুনের দলীয় পদবী পরিচয় নিয়ে। তিনি নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্করের অনুসারী ছিলেন। তাই মৃত্যুর পরপর তাকে সদরঘাট থানা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক বলে দাবী করলেও কখন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছি সেটা বক্কর নিজেও বলতে পারেন নি। এ ব্যাপারে তার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে এড়িয়ে যান। ফোন ধরেন নি নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনও।


হারুন হত্যাকান্ডে স্বজনদের আহাজারী

নগর যুবদলের সভাপতি কাজী বেলাল হারুন হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিচারের দাবী করে নিউজচিটাগাং২৪.কম’কে বলেন- হারুন হত্যাকান্ডের জোরালো প্রতিবাদ করতে না পারা আমাদের ব্যর্থতা। তবে সামাজিকভাবে খুনিদের প্রতি ঘৃণা, ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন দীপ্তি নিউজচিটাগাং২৪.কম’কে বলেন, নগর যুবদল বিক্ষোভ মিছিল করেছে, দোয়া অনুষ্ঠান করেছে। বিএনপি লাশের রাজীনীতিতে বিশ্বাসী নয়। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের এই হত্যাকান্ড তাই নগর বিএনপি সামাজিকভাবে প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহমদুল আলম চৌধুরী রাসেল নিউজচিটাগাং২৪.কম’কে বলেন, দলীয় নেতা কর্মীদের প্রতি, তাদের ত্যাগ তিতিক্ষার প্রতি নগর নেতৃবৃন্দের উচিত দায়িত্বশীল হওয়া।
নগর যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ নিউজচিটাগাং২৪.কম’কে বলেন, প্রতিনিয়তই কোথাও না কোথাও বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা-কর্মী ঘুম, খুন হচ্ছে। প্রতিবাদও হচ্ছে।
ছাত্রদল কর্মী আকবর হোসেন বলেন, “নেতারা যেভাবে দায় এড়িয়ে ঘরে ঢুকে গেলেন তাতে আমরা শংকিত। আগামী দিনে যদি আমারও কিছু একটা হয় তখন প্রতিবাদ করার মানুষ পাওয়া যাবে না।”
যুবদল কর্মী মনজুর হোসেন বলেন, “এটা বিএনপি মতো একটা দলের স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। একজন নিবেদিত প্রাণ নেতা প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হলো অথচ কার্যকর কোন প্রতিবাদ দল করতে পারেনি।”
ছাত্রদলের সাবেক আরেক নেতা বলেন, “রাজনীতি করে রাজনীতিবিদ হলে রাজনৈতিক কর্ম কৌশল তাদের জানা থাকতো। বর্তমান নেতারা টাকা আর তেল দিয়ে পদ কিনেছেন। তারা কীভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচী দিবেন?” তিনি বিষ্ময় প্রকাশ করে আরো বলেন, “বিক্ষোভ করলে কিংবা আন্দোলন করলে পুলিশ বাঁধা দিবে বুঝলাম, কিন্তু একটা শোক সভা করার যোগত্যা নগর কমিটির হলো না!”
নগর কমিটির এক নেতা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বর্তমান নেতৃত্বকে অথর্ব আখ্যায়িত করে বলেন, “অথর্বরা বিএনপির মতো একটি দলের নেতৃত্ব দখল করে আছে। প্রকাশ্য দিবালোকে হারুন খুন হলো। আর তারা দলীয় ব্যানারে বড় কোন কর্মসূচী দিতে পারে নি। আমরা হতাশ।”