হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্নার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে ব্যবসায়ী সমাজ

প্রকাশ:| রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ১০:৪০ অপরাহ্ণ

উচ্ছেদ অভিযানের সময় এক ব্যবসায়ীর দাঁড়ি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান পান্নার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন ব্যবসায়ী সমাজ।

তার আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা প্রার্থনা ও আগামী সাত দিনের মধ্যে তাকে উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা না হলে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি পালনের হুমকি দেন ব্যবসায়ীরা। রোববার বিকেলে হাটহাজারী পৌর এলাকার ডাকবাংলোর সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এরআগে ইউএনও ইসরাত জাহান পান্নার নেতেৃত্বে গত শুক্রবার হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে উচ্ছেদ অভিযানের সময় দাঁড়িওয়ালা ব্যবসায়ী লোকমানকে ব্লেড দিয়ে দাঁড়ি চাইচ্যা ফেলে দেয়ার হুমকি দেন এবং নিজ হাতে লাটি নিয়ে ইউএনও তাদের পেটান। এরপর প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

প্রতিবাদে সমমনা ইসলামী দলের সভাপতি মাওলানা মীর ইদ্রিসের সভাপতিত্বে ও মাওলানা মো. কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন মাওলানা মুফতি শিহাব উদ্দিন।

সমাবেশে মাওলানা আহসানউল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন, ‘শতকরা নব্বইভাগ মুসলামানের দেশে ইউএনও ইসরাত জাহান পান্না গত শুক্রবার হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে উচ্ছেদ অভিযানে দাঁড়িওয়ালা ব্যবসায়ী লোকমানকে ব্লেড দিয়ে দাঁড়ি চাইচ্যা ফেলে দেয়ার হুমকি প্রিয় নবী (সা.) এর শানে বেয়াদবী। এ ধরনের বেয়াদবী কখনো মুসলমানরা মেনে নিতে পারেন না।’

তিনি বলেন, ‘ইউএনও তার পিতৃসমতুল্য এক বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে লাঠি দিয়ে মারার দৃশ্য নির্মম বর্বরতা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। অবিলম্বে এর জন্য ইউএনওকে মুসলামানদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মীর ইদ্রিস বলেন, ‘ইউএনও অতীতে উচ্ছেদের নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। সর্বশেষ গত শুক্রবার তিনি প্রিয় নবীকে ভালবেসে দাঁড়ি রাখা ব্যবসায়ী লোকমানের দাঁড়ি ব্লেড দিয়ে চাইচ্যা ফেলার হুমকি ও ব্যবসায়ীদের নিজ হাতে মারধর করার ভিডিও চিত্র মুসলমানদের মনে চরম আঘাত দিয়েছে। এ জন্য ইউএনওকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রেস কনফারেন্স করে ক্ষমা চাইতে হবে। সেই সঙ্গে আগামী রোববারের মধ্যে ইউএনওকে হাটহাজারী থেকে প্রত্যাহার করে না নিলে সর্বস্তরের মুসলামানদের নিয়ে হরতালসহ বৃহত্তর কর্মসূচি দেয়া হবে।’

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে মাওলানা আলমগীর, মাওলানা এনায়েত হোসেন, মাওলানা জোনায়েদ, মাওলানা রাশেদ, মাওলানা আতিক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এদিকে এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান পান্নাকে জানতে চাইলে তিনি কাউকে কটুক্তি কিংবা মারধর করার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বিক্ষোভের ঘটনাটিকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ইউএনও ইসরাত জাহান পান্না উপজেলা মদুনাঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করার সময় লোকমান নামক এক দাঁড়িওয়ালা ব্যবসায়ীকে, ‘এই এই দোকনটা কার? একদম ব্লেড দিয়া দাঁড়ি চাইচ্যা ফেলাইয়া দিমু, এগুলো কি তোর বাপের জায়গা, লজ্জা করে না।’ বলে হুমকি দেন। একপর্যায়ে তিনি ওই দোকান থেকে আরো সামনে অগ্রসর হয়ে বৃদ্ধ সামশু সওদাগরকে মালামাল কুঁড়াতে দেখে তার উপর লাঠি দিয়ে আঘাত করতে করতে মাটিতে ফেলে দেন। এ ধরনের একটি ভিডিও এলাকার মোবাইল ব্যবহারকারী, ইন্টারনেট, ফেইসবুক ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়।

এ নিয়ে এলাকার মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে। ফেইসবুকে এ ধরনের ভিডিও দেখে খোদ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী তার মন্তব্যে লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগের সমস্ত অর্জনকে ম্লান করে দিল একজন সরকারি কর্মচারী।’


আরোও সংবাদ