হাটহাজারীর মদুনাঘাট বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান ঃ জেলা মৎস্য কর্মকর্তার গাড়ী ভাংচুর

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৮:০৫ অপরাহ্ণ

ইউএনও বাজার কমিটির পরস্পর বিরোধী বক্তব্য

হাটহাজারী সংবাদদাতা ঃ উপজেলার মদুনাঘাট বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার গাড়ী ভাংচুর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এ ঘটনায় প্রশাসনের উপর দোষ চাপিয়েছে। গতকাল শুক্রবার (৭ফেব্রুয়ারী) সকাল সাড়ে দশটায় এঘটনা ঘটে । মদুনাঘাট বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর উত্তেজিত জনতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এতে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হাটহাজারী মডেল থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করেন। রাতে থানায় প্রশাসনও ব্যবসায়ীদের সাথে সমঝোতা বৈঠকের উদ্যোগ গ্রহন করেছেন বলে মডেল থানার ওসি ইসমাইল পিপিএম জানান।
স্থানীয় , প্রত্যক্ষদর্শী ,বাজার ব্যবসায়ী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহন পান্না ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রভাতী দেব পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী হালদা নদীতে অভিযান পরিচালনায় যায়। পথিমধ্যে মদুনাঘাট বাজারে অবৈধ স্থাপনা দেখে উচ্ছেদ অভিযানে নামে নির্বাহী অফিসার। বাজার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দরা অভিযোগ করেন কোন ঘোষনা ছাড়াই হঠাৎ এ উচ্ছেদ অভিযানের কারনে বাজার ব্যবসায়ীদের সাথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাকবিতন্ডা হয়। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন,অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর আমি হালদা নদীতে অভিযান পরিচালনায় যায়। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক মুছা মিয়া বলেন,অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নামে ব্যবসা প্রতিষ্টানের মালামাল বাইরে ফেলে দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের অন্তত ছয় লক্ষ টাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তিনি ৭ জন আহত হওয়ার কথা বললেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে আহমদুর রহমান ষ্টোরের স্বর্ত্তাধীকারী ইউনুচ সওদাগরের মাথায় আঘাত হওয়ায় তাকে চমেক হাসপালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাড়ীতে আনা হয় । উচ্ছেদের ঘটনায় বাজার ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গেলে ইউএনও দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে বাজার ব্যবসায়ী নেতুবৃন্দ জানান। ঘটনার পর পর উত্তেজিত জনতা হালদা নদীতে অভিযান পরিচালনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে বহনকারী গাড়ীটির কাঁচ ভাংচুর করে। অবস্থা বেগতিক দেখে আত্মরক্ষার্থে গাড়ী চালক খোরশেদ আলম দ্রুত সড়ে পড়েন ।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। ব্যস্ততার অজুহাতে ফোনের সংযোগ বিছিন্ন করে দেন।
মদুনাঘাট পুলিশ ফাঁড়ি ঘটনা সামাল দিতে না পেরে বিষয়টি থানার ওসি মোঃ ইসমাইল কে জানান । তিনি দ্রুত গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করেন। সন্ধ্যায় প্রশাসন ও বাজার কমিটির সাথে থানায় সমঝোতা বৈঠকের বসবে তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান পান্না বলেন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ পর আমি হালদা নদীতে অভিযান চালাতে চলে যাই। কয়েকমাস পূর্বে মদুনাঘাটে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। গতকাল সেখানে গেলে পুনরায় অবৈধভাবে স্থাপনা চোখে পড়ায় অভিযান পরিচালনা করি। স্বাভাবিক ভাবে আমি ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্তরা হয়তো উত্তেজিত হতে পারে।