হাটহাজারীতে সোহেল হত্যার মামলা আরেক আসামী আটক

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| রবিবার, ১১ মার্চ , ২০১৮ সময় ০৯:০০ অপরাহ্ণ

মহিন উদ্দীন,হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতাঃ
হাটহাজারীতে সোহেল রানা হত্যা মামলার আসামী মোঃ শরিফ উদ্দীন সৌরব(১৭) নামে এক কিশোরকে আটক করেছে মডেল থানা পুলিশ। ১০ই মার্চ শনিবার রাতে অক্সিজেন থেকে তাকে আটক করা হয়।

জানা যায়, আটককৃত সৌরব পৌরসভার পুর্ব দেওয়াননগর রুঙ্গিপাড়ার রফিক সওদাগরের পুত্র।

এ নিয়ে মামলার দুই আসামী কে আটক করেছে মডেল থানা পুলিশ। গত ৭ই মার্চ শাহেদ(১৭) নামে এক ব্যক্তি কে আটক করেছে মডেল থানা পুলিশ।

হাটহাজারী মডেল থানার অপারেশন কর্মকর্তা মোঃ শামীম শেখ এ প্রতিবেদককে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অক্সিজেন থেকে শরিফ উদ্দীন প্রকাশ সৌরব কে আটক করা হয়েছে। বাকীদের কেও আটক করার জন্য অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ই মার্চ সোমবার বিকাল চারটার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ফজু তালুকদার বাড়ির সামনে সোহেল রানা নামে এক যুবককে ইট নিক্ষেপ করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকারীরা সবাই “পাওয়ার গ্রুপ” নামের সংগঠনের বলে জানা গেছে।
“পাওয়ার গ্রুপ” নামক একটি সংগঠনের সদস্য তারেকের সাথে বিরোধ চলে আসছিল মোবাইলের জের ধরে। গত জানুয়ারির মাঝামাঝি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন রেলওয়ে কালভার্ট এলাকায় সোহেলের পরিচিত একজন থেকে তারেকের অনুসারীরা একটি মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে সোহেল ও তার বন্ধুরা মিলে তারেকের অনুসারীদের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে মালিককে ফিরিয়ে দেয়। এরপর থেকে কাল সাপ হয়ে দাড়ায় সোহেলের জন্য। এ নিয়ে “পাওয়ার গ্রুপের” ছেলেরা সোহেল রানাকে বিভিন্ন সময় হামলা চালাতে চেষ্টা করে তারা বলে একটি সুত্র নিশ্চিত করেছে। সে সুযোগ কাজে লাগায় গ্রুপটি সোমবার দুপুরে সোহেল রানা ও খোরশেদের খুব কাছের বন্ধু ফজু তালুকদার বাড়ির মাসুমের ঘরে দাওয়াত খেতে যায়। এ খবর পেয়ে তারেকের নেতৃতে “পাওয়ার গ্রুপের” ৬-৭জন সদস্য লোহার রড় ও পাইপ নিয়ে অবস্থান নেয়। যা জঙ্গি স্টাইলে যেভাবে হামলা করে ঠিক সেভাবে তারা বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে দাওয়াত শেষে খোরশেদ ও সোহেল মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার পথে সে চক্রটি তাদের উপর হামলা চালায়। মোটর সাইকেল চলন্ত অবস্থায় প্রথমে তারেক ঘুষি মারলে খোরশেদকে ও সোহেল রানা মোটরসাইকেলসহ মাটিতে পড়ে যায়। এসময় তাদের সাথে থাকা পৌর এলাকার আরিফ(১৬) ও লিটনও(১৭) যোগ দেয়। তাদের নিক্ষেপ করা ইটের আঘাতে সোহেল রানার নাক ও কপালে লাগে। এতে করে তার কপাল ও নাক ফেটে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় সাথে সাথে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক খোরশেদ ও স্থানীয়রা সোহেলকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে অবস্থার অবনতি হলে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।

নিহত সোহেল রানা পৌরসভার মাটিয়া মসজিদের পশ্চিমে কিছু দুর গেল রেল রাস্তার পাশ ঘেষে পুর্ব চন্দ্রপুর মানিক মিস্ত্রির বাড়ীর নুরুল ইসলাম ওরফে মানিক মিস্ত্রির পুত্র বলে স্থানীয়রা জানান।


আরোও সংবাদ