হাটহাজারীতে বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার

প্রকাশ:| শনিবার, ২৬ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ১১:২১ অপরাহ্ণ

নলকূপে উঠছে না পানি, জনদুর্ভোগ চরমে

nবিপ্লব দে,হাটহাজারী : গ্রীষ্মের রৌদ্রতম দিনে হাটহাজারীতে নলকূপে পানি উঠছেনা। পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় ফলে এ অবস্থা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে হাটহাজারীর বিভিন্ন ইউনিয়নে পানির হাহাকার দেখা দিয়েছে। এতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে।

জানা যায়, ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত হাটহাজারী উপজেলায় পরিবারের সংখ্যা ৮১ হাজার ২শ ৯১টি। এসব পরিবারের জন্য সরকারী ভাবে ৪হাজার ৬শ ১৫টি নলকূপ রয়েছে । এরমধ্যে ৫শ ৭৪টি নলকূপ অকেজো । সরকারী হিসেবে যে পরিমান নলকূপ রয়েছে তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুন ব্যক্তি মালিকানাধীন নলকূপ রয়েছে।

সরকার গ্রামাঞ্চলের সাধারন মানুষের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারি ভাবে পানিয় জলের নলকূপের বরাদ্দ বৃদ্ধি করে । সাথে সাথে উপজেলার আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পানিয় জলের সু ব্যবস্থার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্টানে ওনলক’প স্থাপনের ব্যবস্থা করেন। ইতি মধ্যে এ উপজেলার লোক সংখ্যা পূর্বের থেকে কয়েক গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এ উপজেলার লোক সংখ্যা প্রায় সাত লক্ষ । এলাকার পুকুর দীঘি প্রতিযোগীতা মূলক ভাবে ভরাটের করনে স্থানীয় অধিবাসিরা নলকূপের পানির উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তাছাড়া হাটহাজারী পৌরসভা ,ফতেপুর ,চিকনদন্ডি ,চবি এলাকা,শিকারপুর ,বুড়িশ্চর,দক্ষিন মাদার্শা,মদুনা ঘাট,নজুমিয়ারহাট বাথুয়া, ফতেয়াবাদ,চৌধুরীহাট প্রভূতি এলাকায় নাগরিক সুবিধার কারনে পাশ্বতর্থী উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে বহুতল ভবন নির্মান করে বসতি স্থাপন করেছে। এসব ভবনে বসবাস কারীদের সুবিধার্থে প্রত্যেক ভবন মালিক নলকূপ স্থাপন করেছে। অতিমাত্রায় নলকূপের পানির উপর নির্ভরর্শীল হওয়ায় এসব নলক’পে পানি উঠছেনা। বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে পানি না উঠায় কম্প্রেসার দিয়ে ঘর ও বাসা বাড়িতে পানি তুলছে। পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় প্রায় প্রত্যেকে এক হাজার ও বারশ ফুট গভীর নলকূপ স্থাপন করেছে। ব্যবহার কারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় গভীল নলক’পে পানি পানি উঠছেনা। এক সময় একশ দশ/বিশ এবং দেড়শ ফুটের মধ্যে নলকূপে পানি পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে সে অবস্থা নেই।উল্লেখিত এলাকা ছাড়াও ফরহাদাবাদ ধলই ,মির্জাপুর, চারিয়া,মুরাদপুর,গুমানমদ্দন,নাঙ্গলমোড়া,ছিপাতলী,মেখল,গড়দুয়ারা,উত্তরমাদার্শা প্রভ’তি এলাকায় নলকুপে পানি উঠছেনা। উপজেলার সর্বত্রই চলছে পানিয় জলের জন্য হাহাকার । প্রত্যক্ষ ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয় ,মাদ্যমিক বিদ্যালয়,উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্টান ,মসজিদ,মাদ্রাসা,বিভিন্ন ধর্মীয় মন্দির ও উপাশনালয়ের নলকূপে পানি না উঠায় শিক্ষার্থী ,মুসল্লি ও উপাসনালয়ের উপসানাকরাদের দৃুভোর্গ চরম আকার ধারন করেছে। শুস্ক মৌসুমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান ,মসজিদ ,মাদ্রাসাও উপসানালয় এলাকায় ব্যবহারের জন্য পুকুর থাকলেও এসব পুকুর এখন শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির প্রকোপ কমে যাওয়ায় এবং বন্যা না হওয়ায় পানির স্তর আশংকা জনক হারে নীচে নেমে গেছে।

হাটহাজারী পৌরসভার আলমপুর আদর্শ জুনিয়র হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনসুর আলী জানান এক বৎসরাধিক কাল যাবৎ স্কুলের নলকূপে পানি উঠছেনা। এতে করে এ স্কুল ছাড়াও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলার আওতাধীন প্রত্যক এলাকায় পানিয় জলের সংকট তীব্র আকার ধারন করেছে।স্থান বিশেষে কিছু কিছু নলকূপে সকাল বেলা সামান্য পানি পাওয়া গেলেও এর পর আর পানি পাওয়া যায় না। স্থানীয় পুকুর প্রতিযোগীতা মূলক ভাবে ভরাট করার পর যেগুলো অবশিষ্ট আছে সে গুলোর পানিও খড়ার কারনে কমে গিয়ে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বাকি যে সব পুকুর রয়েছে সে গুলো ও মাছের রেনু পোনা চাষাবাদের জন্য সেচ দিয়ে শুকিয়ে পেলা হয়েছে। ফলে অতি মাত্রায় নলক’পের পানির উপর নির্ভরশীল হওয়া ছাড়া এলাকাবাসির উপায় নেই । বিষয়টিকে বিপদজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞ মহল।