হাটহাজারীতে পুলিশ-বিএনপি-জামায়াত-আ.লীগ দু’দফা সংঘর্ষ

প্রকাশ:| সোমবার, ২৮ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৮:৫২ অপরাহ্ণ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে শতাধিক রাউন্ড গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ ককটেল বিষ্ফোরন,১টি তাজা ককটেল উদ্ধার,শিশু, ২পুলিশ ও বিএনপির ১২ জন নেতাকর্মী সহ আহত ১৫
gias hat
হাটহাজারী সংবাদদাতা>>দেশব্যাপী ১৮ দলীয় জোটের টানা ৬০ ঘন্টা হরতালের দ্বিতীয় দিনে হাটহাজারী রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পৌরসদরে পুলিশ-বিএনপি-জামায়াত-আ.লীগ দু’দফা সংঘর্ষে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে দেড় বছরের শিশু ও ২ পুলিশ সহ বিএনপির ১২ জন নেতাকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে। পুলিশকে লক্ষ্য করে জামায়াত শিবির কর্মীরা ১৫টি ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে একটি ককটেল অবিষ্ফোরিত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করেছে। গতকাল সোমবার (২৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে তিনটা ও পাঁচটায় হাটহাজারী বাসষ্টেশন কলাবাগান ও উপজেলা বিএনপির কার্যালয় এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাতে এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত উপজেলা সদরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ আটক হয়নি। থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ এ.কে.এম.লিয়াকত আলী জানান,পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এবং বাসষ্টেশন ও পৌরসদরের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। পুলিশের উপর হামলায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে থানা পুলিশ। ঘটনার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট,হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের অন্তত বিশটি স্থানে ব্যাড়িকেট দেয় হরতাল সমর্থকরা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে হরতালের দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকে মাঠে ছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। উভয়পক্ষ পৌরসদরের পৃথক পৃথক স্থানে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে। হরতাল বিরোধী মিছিল নিয়ে বাসষ্টেশন চত্তরে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ। অপরদিকে প্রতিদিনের ন্যায় উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে হরতালের সমর্থনে অবস্থান নেয় উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। শান্তিপূর্নভাবে সকাল থেকে উভয়পক্ষের সমাবেশ চলছিল। পুলিশের ব্যাপক উপস্থিততিতে উভয়পক্ষই মিছিল ও সমাবেশ করে। বেলা সাড়ে তিনটায় আওয়ামী লীগ পৌরসদরের একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে মিছিল বের করে উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে বাসষ্টেশন চত্ত্বরে সমাবেশ শেষে ফেরার সময় উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে চলছিল উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস.এম.ফজলুল হকের অনুসারীদের সমাবেশ। হঠাৎ বাসষ্টেশন চত্ত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে প্রথমে লাঠি চার্জ ও টিয়ারসেল,রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক মো.গিয়াস উদ্দিন(৩৬),জুয়েল(২০)ও আলমগীর(২৩) আহত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনে দুপক্ষকে সড়িয়ে দেয়। বিকেল পাঁচটায় ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের তিন গ্রুপের নেতাকর্মীরা কলেজ গেইটে জড়ো হয়। সংঘবদ্ধ হয়ে কলেজ গেইট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বাসষ্টেশন এলাকায় পৌঁছলে মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোরা হয়। আত্ম রক্ষার্থে পুলিশ টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় উপজেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে এস.এম.ফজলুল হকের নেতৃত্বে নেতাকর্মরা বেরিয়ে আসে।পুলিশ এস.এম.ফজলুল হক ও চারকর্মীর সাথে কথা বলার সময় উত্তেজনা তীব্র আকার ধারন করে। উৎপেতে থাকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জামাত শিবিরের শতাধিক নেতাকর্মীরা বিএনপির মিছিলে এসে মিলিত হয়। এতে মিছিল থেকে পুলিশকে লক্স্য করে বেশ কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশও পাল্টা এ্যাকশন নেয়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। পুলিশ বলছে তাদেরকে লক্ষ্য করে ১৫টি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে একটি ককটেল অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুপক্ষের সংঘর্ষে মা বাবর সাথে চৈতী ফার্মেসীতে চিকিসা নিতে আসা নুসরাত নামে দেড় বছরের একটি শিশুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পিন্টার ছড়িয়ে পড়ে। তাকে মূমুর্ষ অবস্থায় চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায় স্বজনরা। উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের অভিযোগে জানা যায় সংঘর্ষে তাদের ১২জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায় ককটেল বিষ্ফোরনে ওসমান ও এনাম নামে দুই কনষ্টেবল আহত হয়। আহতরা পথচারীরা হলেন পিংকি(২৮),শারমীন(২৫)। আহত বিএনপি নেতাকর্মরা হলেন গিয়াসউদ্দিন চেয়ারম্যান,যুবদল নেতা জিএম সাইফুল্লাহ,রমজান,নূর উদ্দিন,মো.জসীম,আনিস।
এ ব্যাপারে হাটহাজারী থানার ওসি এ.কে.এম.লিয়াকত আলী জানান,বিএনপির নেতাকর্মীরা বিনা উষ্কানিতে বিএনপি নেতাকর্মরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে শতাধিক টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিততি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে। উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস.এম.ফজলুল হক বলেন,আমাদের শান্তিপূর্ন মিছিল ও সমাবেশে আওয়ামী লীগ ক্যাডার ও পুলিশ হামলা চালায়। এতে বিএনপির অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হওয়ার অভিযোগ করেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সোহরাব হোসেন নোমান বলেন,বিএনপির সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগ সকালে শান্তিপূর্নভাবে সমাবেশ করে। দুপুরে সমাবেশ শেষে বাসষ্টেশন থেকে ১১ মাইল এলাকায় অবস্থানের জন্য নেতাকর্মীরা যাওয়ার পথে বাসষ্টেশন ও কলাবাগান এলাকায় বিএনপি,হেফাজত ও চবি জামাত শিবির কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের শান্তিপ্রিয় নেতাকর্মীর উপর হামলা চালায়। এতে তাদের সহিংস আক্রমনে আওয়ামীলীগের পাঁচজন নেতাকর্মী অভিযোগ করেন। অন্যদিকে আওয়ামীলীগের মিছিলের উপর হামলার প্রতিবাদে ফরহাদাবাদে প্রতিবাদ সমাবেশ করে আ.লীগ ও অঙ্গসঙগঠনের নেতৃবৃন্দ। উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শওকতুল আলম ও উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুল হুদা মনির নেতৃত্বে মিছিল সমাবেশ করে।
রাতে এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।