হাটহাজারীতে পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র মামলার আসামীকে ছিনিয়ে নিল ছাত্রলীগ

প্রকাশ:| রবিবার, ২১ জুলাই , ২০১৩ সময় ০৭:৩২ অপরাহ্ণ

পুলিশের উপর আক্রমন # গ্রেফতার ২১ # দেশীয় অস্ত্র ও ১২ কিরিচ উদ্ধার
বিপ্লব দে, হাটহাজারী,নিউজচিটাগাং২৪.কম।। চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় ১৯৯৮ সালে পুলিশের দায়ের করা অস্ত্র মামলায় আসামীকে ছিনিয়ে নিলওয়ারেন্টভূক্ত আসামীকে উপজেলার ফরহাদাবাদ এলাকা থেকে আটক করাকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপর ছাত্রলীগ কর্মীদের চড়াও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ২০ জুলাই দিবাগত রাত ১১টায় উপজেলার ধলই ইউনিয়নের ভবানী বাড়ী দূর্গা মন্দিরের উত্তর পাশে ধলই বাড়বকুন্ড মহাসড়কে ছাত্রলীগ ও পুলিশের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলায় ২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে এবং অস্ত্র মামলার আসামীকে ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ পরে উক্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২১ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২০ জুলাই (শনিবার) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টায় হাটহাজারী মডেল থানার এসআই নাজের হোসাইন ও এএসআই মোস্তাক আহমদ অস্ত্র মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত আসামীকে ফরহাদাবদ ইউনিয়নের নূর আলী মিয়ারহাট বাজার এলাকা থেকে আটক করে থানার উদ্যেশে রওনা হয়। আটককৃত অস্ত্র মামলার আসামী হলেন মহিন উদ্দিন(৩৫) পিতা-কবির আহমদ সাং-ফরহাদাবাদ। এমনতাবস্থায় মহিউদ্দিনের সহযোগী ছাত্রীগের ক্যাডাররা মোটর সাইকেলযোগে পুলিশকে তাড়া করে ধলই ইউনিয়নের ভবানী বাড়ী দূর্গা মন্দিরের উত্তর পাশে ধলই বাড়বকুন্ড মহাসড়কে এসে পুলিশের গাড়ী গতিরোধ করে। এ সময় তারা পুলিশের ২ সদস্যকে দাড়ালো কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে আহত করে মহিনউদ্দিনকে ছিনিয়ে নেয়। আহত পুলিশ সদস্যরা হল এএসআই মোস্তাক আহমদ ও কনষ্টেবল দুংশি মার্মা।
আহত পুলিশ সদস্যরা এ ঘটনা থানা পুলিশের হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম লিয়াকত আলীকে অবহিত করে। খবর পেয়ে রাত ২টায় ওসি পর্যাপ্ত পরিমান ফোর্স নিয়ে উক্ত এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২১ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্যকে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক করলেও অস্ত্র মামলার আসামী মহিনউদ্দিন পলাতক রয়েছে। এছাড়া অভিযানের সময় পুলিশ ছাত্রলীগ ক্যাডার এরশাদের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ১টি এয়ারগান ও ১২টি কিরিচ উদ্ধার করে। তবে গতকাল রবিবার(২১ জুলাই) সকালে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে সর্ম্পৃক্ততা না থাকায় ৭জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এটি এলাকাবাসীর সাথে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ভূল বুঝাবুঝি হয়েছে বলে জানান। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য এ প্রতিবেদককে জানান,প্রকৃতপক্ষে পুলিশ নিয়মতান্ত্রিক দিককে অবজ্ঞা করে অহেতুক মহিনকে আটক করে নিয়ে আসছিল। তার অস্ত্র মামলায় মহিন জামিনে রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য এ প্রতিবেদককে জানান, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মো.আক্তার উদ্দিন চৌধুরী টিপু(৪৩)কে প্রধান আসামী করে ১৫ জনকে সুনির্দিষ্ট ও ৪০/৫০জন অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে পুলিশ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীদের আটকের পর এলাকার পাতি নেতারা থানায় এসে বিষয়টি সমঝোতা করে আসামীদেরকে ছাড়িয়ে তদবির চালাচ্ছে।


আরোও সংবাদ