হাটহাজারীতে চট্টগ্রামের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রকাশ:| শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ০৯:০৩ অপরাহ্ণ


হাটহাজারী প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম জেলার বিশ্ব ইজতেমা এবার হাটহাজারীর ৩ নং মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৯,৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইজতেমার জন্য এখন ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। ইজতেমা সফল করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন দফায় দফায় বৈঠক করেছে। বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিন্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে যাতে ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের কোন অসুবিধা না ঘটে। ইজতেমা স্থলে শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লী প্যান্ডেল তৈরি, দেশী বিদেশীর মেহমানদের থাকার ঘর নির্মাণ, পানীয় জলের সুব্যবস্থার জন্য গভীর নলকুপ স্থাপন, শৌচাগার নির্মাণ,স্থানীয় পুকুরে ঘাটলা তৈরি,মাটি ভরাটসহ প্রয়োজনীয় কাজ স্বেচ্ছাশ্রমে করে যাচ্ছে। ইজতেমার সময় হাটহাজারী- নাজিরহাট মহাসড়কে যাতে গাড়ীর যানযট না হয় সেজন্য ইজতেমা স্থলের আশেপাশে মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত করে সড়ক নির্মাণ করে মাঠের মধ্যে গাড়ী পাকিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইন শৃংঙ্খলা রক্ষার জন্য র‌্যাব,বিজিপি,পুলিশ,আনসার বাহিনী রাখার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুসল্লীদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য সেবাদান কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন সেবা মূলক সংগঠনের পক্ষ থেকেও স্বাস্থ্য সেবার উদ্যেগ গ্রহন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে জরুরী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য এ্যামবুলেন্স সহ প্রস্তুত রাখা হবে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে গত নভেম্বর মাসে ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের জন্য একসাথে ১৫/১৬ হাজার মানুষ ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। মহাসড়কের দুইপাশে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মাটি ভরাট করে গাড়ী চলাচল ঝুঁকিমুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।তাছাড়া সড়কে যানযট নিরসন ও প্রস্তস্থ করণের জন্য দুই পাশের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ইজতেমায় আগতদের স্বাগত জানাতে ইতিমধ্যে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে আর্কষণীয় তোরন নির্মাণ করা হয়েছে। ব্যক্তি বিশেষ,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ইজতেমা সফল করতে ও আগত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে ব্যানার টাঙ্গানো হয়েছে। ইজতেমা স্থলে ১৫/১৬ লক্ষ মুসল্লীদের বসানোর জন্য বিশাল প্যান্ডেল ও বয়ান করার জন্য আগত অতিথিদের বসার মঞ্চ করা হয়েছে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ইজতেমাস্থলে অস্থায়ী ট্রান্সফরমা স্থাপন করেছে। আয়োজনকারীদের পক্ষ থেকে বিদ্যুতের বিকল্প হিসাবে শক্তিশালী জেনারেটরের ব্যবস্থা করেছে। আগতদের খাওয়ার তৈরি জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইজতেমা স্থলের উত্তর ও দক্ষিণে চারিয়া মাদ্রাসা এলাকা থেকে মুন্সির মসজিদ পর্যন্ত এলাকার জমির মধ্যে দোকান স্থাপন করেছে অনেকেই। আয়োজনকারী এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত প্রতিটি কাজ যাতে সুন্দর ভাবে সম্পূর্ণ করা হয় সেজন্য তদারকি করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলার মধ্যে এই প্রথম বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ায় অনেকেই আনন্দিত হয়েছে।
কেশব কুমার বড়–য়া