হাটহাজারীতে ইউপি নির্বাচনের প্রচারণা জমজমাট

প্রকাশ:| সোমবার, ২ মে , ২০১৬ সময় ০৯:১৮ অপরাহ্ণ

জমজমাট
হাটহাজারীতে ৪র্থ দাপে ৭ মে অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনের প্রচারণা জমে উঠেছে । চারিদিকে নির্বাচনী উৎসবে মেতে উঠেছে ইউনিয়ন বাসী। পোষ্টার পোষ্টারে এবং প্রার্থীদের তৈরি প্রতীকে পুরা এলাকা ছেয়ে গেছে। গ্রাম,গঞ্জ,হাটবাজার,চাদোকান,রাস্তাঘাট,পাড়া মহল্লায় ভোটের সমীকরণ চলছে। ভোট ভিক্ষুকেরা তাদের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট ভিক্ষা করছে। শব্দযন্ত্রের মাধ্যমে মনযোগ আর্কষণকারী শ্লোগান দিয়ে ভোটের প্রচারণা চলানো হচ্ছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান,সংরক্ষিত মহিলা ও সাধারণ সদস্য পদে প্রার্থীরা জনমত নিজেদের পক্ষে আনতে রাতদিন প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে প্রার্থী এবং কর্মী সমর্থকদের যেন দম ফেলানোর ফুরশত নেই।চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীরা দলের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে যেমন প্রচারণা চালাচ্ছে তেমনি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ও তাদের অনুসারীদের নিয়ে কোমড় বেধে প্রচারণায় নেমেছে।
জানা যায়,উপজেলার আওতাধীন ১ টি পৌরসভা ছাড়া ১৪ টি ইউনিয়নে আগামী ৭ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।এবার প্রথম বারের মত চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দলীয় কর্মী সমর্থকেরা দলের প্রার্থীদের নিয়ে প্রচারণা করছে।তবে দল থেকে মনোনয়ন বঞ্চিতরা কোন কোন ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছে। দুই বড় দল যথাক্রমে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির একক প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও যারা দলের মনোনয়ন পায়নি তারা দলের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়েছেন।সরে দাড়ালেও তাদের মনে ক্ষোভ রয়ে গেছে। ফলে তারা দলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে লোক দেখানো কাজ করলে ও ভিতর ভিতরে তারা অসন্তুষ্ট। হাটহাজারী পৌরসভা ছাড়া উপজেলার আওতাধীন ১৪ ইউনিয়নে এবার দলীয়সহ স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংখ্যা ৬৪ জন,সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রার্থী ১শ৭ জন ও সাধারণ সদস্যপদে ৫শ ২৮জন। ১ নং ফরহাদাবাদ ,৩ নং মির্জাপুর, ৪ নং গুমানমর্দ্দন,৫ নং নাঙ্গলমোড়া, ৬ নং ছিপাতলী, ৮নং মেখল,৯ নং গড়দুয়ারা,১০ নং উত্তর মাদার্শা,১২ নং চিকনদন্ডী,১৪ নং শিকারপুর,১৫ নং বুড়িশ্চর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ত্রিমূখী প্রতিদ্বন্ধিতার আবাস পাওয়া গেছে। ২ নং ধলই,১১ নং ফতেপুর ইউনিয়নে দ্বিমূখী প্রতিদ্বন্ধিতা হতে পারে। ১৪ নং দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়নে চতুর্থমূখী প্রতিদ্বন্ধিতা হতে পারে। তবে প্রত্যেক ইউনিয়নে অবাধ,সুষ্ঠু,শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কিনা এই নিয়ে শংকা প্রকাশ করছেন প্রায় সকল প্রার্থী। বিশেষ করে বিএনপি দলীয় ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদ প্রার্থীরা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শংকা প্রকাশ করছেন। তবে উপজেলা প্রশাসন ও আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতম কর্মকর্তারা গত ২৮ এপ্রিল প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত বিশেষ আইন শৃংঙ্খলার সভায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে প্রার্থীদের আশ্বস্ত করেন। আশ্বাস পেয়ে প্রার্থীরা কিছুটা শংকামুক্ত হন। বিভিন্ন ইউনিয়ন সরোজমিন পরিদর্শন করে প্রার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়,যে প্রার্থী যে কেন্দ্রে ভোট প্রদান করবেন প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী সে কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে সাংবাদিকদের জানান। ইতিমধ্যে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন ১৯ জন ম্যাজিষ্ট্রেট, প্রয়োজনীয় সংখ্যক র‌্যাব,বিজিপি ও পুলিশ প্রতিকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন। ১ জন ম্যাজিষ্ট্রেট ১ ইউনিয়নে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। ভোট গ্রহনের জন্য প্রিসাইডিং,সহকারী প্রিসাইডিং ও পুলিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শেষ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে ভোট গ্রহনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের অবহিত করা হয়েছে।