হাটহাজারীতে অস্থায়ী পশুরহাট বন্ধের জন্য মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ

প্রকাশ:| শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর , ২০১৬ সময় ০৭:০৪ অপরাহ্ণ

অভিযোগ

মো: মহিন উদ্দীন,হাটহাজারী থেকে:
হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন অস্থায়ী পশুরহাট না বসানোর জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হলেও রহস্যজনকভাবে বসেছে অনেক স্থানে। এর মধ্যে আবার অস্থায়ী পশুরহাট বন্ধের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন ১নং ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়াড উদালিয়া গ্রামের মুন্সী মাহামুদুল হকের ঘাটার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমাণ্ডার মো: সেকান্দর মিয়াসহ ৫টি পরিবার। লিখিত অভিযোগ করার পরও সেই স্থানে অস্থায়ী পশুরহাট বসলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বার বার বলা হলেও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যায়। এমনকি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমাণ্ডার নুরুল আলম অনেকবার এঘটনার বিষয় নিয়ে অফিসারকে বলেছেন। এরপর তারা কোন প্রতিকার না পেয়ে গত ৮ই সেপ্টম্বর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককের কাছে আবার লিখিত অভিযোগ করে। অভিযোগ নং ১৫৬। এই অভিযোগের পেক্ষিতে চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো: খোরশেদ আলম অস্থায়ী পশুরহাটটি বন্ধ করা সংক্রান্ত একটি ছায়ালিপিতে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে চিটি প্রেরণ করেছেন। উলে¬খ্য, গত ৪ই সেপ্টম্বর রবিবার মুক্তিযোদ্ধাসহ ৫টি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার অস্থায়ী পশুরহাট বন্ধের জন্য নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করে। এই অভিযোগে বলা হয় মুক্তিযোদ্ধার বাড়ীর সামনে গরুর বাজার। এ বাজারের কারণে এই বাড়ীর কোন মহিলা ঘর থেকে বের হতে পারে না। মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কে ধ্বংস করতে ওবাইদুল আকবর সিকদার গং উঠে পড়ে লেগেছে। দূর্ভোগে পড়তে হয় কাটিরহাটে যাওয়া বশিরহাট ও মিয়াজান চৌধুরী বাড়ীর শত শত যাত্রীদের। কেননা এ স্থানে চার মুখি রাস্তা রয়েছে। তাই সবাইকে চরম কষ্ট ভোগ করতে হয়।একটি চক্র আর্থিক সুবিধা লাভের আশায় এবং এই বাড়ীর মান সম্মান ধ্বংস করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যারা গরুর বাজার দেওয়ার জন্য পায়তারা করছে এই স্থানে তারা কেউ এ বাড়ীর লোক হয় না। জোরপূর্বক টাকা দিয়ে কিছু লোক ভাড়া করে পশুরহাট করছে ওবাইদুল আকবর সিকদার এবং ওয়াজিব সিকদার সুজন নামের দুই প্রতারক। এমনকি তারা কোন নিয়ম কানুন তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে সব কিছু চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগকারীদের জীবন নাশের হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে এ চক্রটি। এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, ওবাইদুল আকবর সিকদার সব সময় পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহামুদের নাম দিয়ে সবাইকে হুমকি দেয়। এমনকি সে মন্ত্রীর মানুষ বলে এলাকার সবাইকে জানায়। যেন এলাকার মানুষ তার বিরুদ্বে কথা না বলে। মন্ত্রীর ক্ষমতার দাপট দেখি সে এলাকার সব রকম কু-কর্মকাণ্ড চালায়। এ ভয়ে কেউ তার বিরুদ্বে কথা বলে না। অস্থায়ী পশুর হাট কোন জায়গায় না বসলেও অভিযোগকৃত স্থানে মন্ত্রীর নির্দেশে বসছে বলে জানান ইউনুচ। স্থানীয় বেশ কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, এই স্থানে যদি হাজারও অভিযোগ হয় তবুও ওবাইদুল আকবরের কারণে মন্ত্রী নিজেই অনুমোদন দেয়। এছাড়াও এলাকার সকল কৃষক অভিযোগ করে বলেন, আমাদের নাম দিয়ে মন্ত্রীর কাছে থেকে পাওয়ার টিলা এনেই নিজের দখলে নিয়ে যায়। আমরা অন্যেরে পাওয়ার টিলা টাকা দিয়ে চাষাবাদ করেছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, মন্ত্রীর পিএস অস্থায়ী পশুরহাট বসানোর নিয়ম না থাকার সত্ত্বে ও অভিযোগকৃত হওয়ার পরও মন্ত্রীর পিএস গরুর বাজার বসার জন্য অনুমোদন দিয়েছে।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমাণ্ডারের চেয়ে একজন অসাধু ব্যক্তির মুল্য অনেক বেশি প্রধান্য দিয়েছে মন্ত্রী ও প্রশাসন যা মোটেও দেশ এবং জাতির জন্য কখনো উচিত নয় বলে মনে করেন সচেতন মহল।
গোপন সূত্রে জানা যায়, ইউএনও অস্থায়ী পশুরহাট বসার জন্য অনুমতি দিয়েছে তাদেরকে। অভিযোগকারীরা বলেন আমরা গত ৪ই সেপ্টম্বর রবিবার করেছি কিন্তু ওবাইদুল আকবর ৬ই সেপ্টম্বর মঙ্গলবার অস্থায়ী পশুরহাট বসার জন্য অনুমতি চাইলে তাকে অনুমোদন দেয়। কিন্তু আমরা আগে গরুর বাজার বন্ধের জন্য আবেদন করেও কোন সুরেহা মিলেনি। কেন এমন হল? তারমানে কি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ধ্বংস করা? একজন অসাধু ও লম্পট ব্যক্তির কাছে মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগকে হার মানা মানে ৭১’র পরাজিত শক্তিকে উৎসাহীত করার শামীল বলে মনে করেন অভিযোগকারীরা। গত ৬ সেপ্টম্বর অভিযোগকারীরা জানতে পারে তাদের অভিযোগ দেওয়ার পরও সেখানে কুচক্রকারীরা অবৈধ পশুরহাট বসার অনুমোদন পায়। তারা বলেন যেখানে পশুরহাট বসার নিয়ম নেই এবং আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার অভিযোগ দিয়েছি তার পরও সেটা মন্ত্রী আর প্রশাসনের কাছে নিয়ম হয়ে গেল। তাহলে এইভাবে কি আমরা যারা সাধারণ মানুষ সঠিক ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত থাকব।
এ ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফসানা বিলকিস এর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে, কোন অস্থায়ী পশুরহাট বসার নিয়ম নেই বলে এ প্রতিবেদককে জানালেও তারপরও সেই ন্থানে পশুরহাট বসে। কোন পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করেনি ।
এই ব্যাপারে পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের কাছে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। এর পর তার একান্ত সহকারী সচিব মনজুর কাছে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, আমি গরুর বাজার বসার জন্য এমন খবর পেয়েছি।


আরোও সংবাদ